অবশেষে ভেসে উঠল নববধূর লাশ

স্টাফ রিপোর্টার: পরনের লাল শাড়ি, গায়ের গয়না- সবই আছে। শুধু নেই নববধূ সুইটি খাতুন পূর্ণিমার (১৫) প্রাণ। গত শুক্রবার রাজশাহীর পদ্মানদীতে নৌকা ডুবে গেলে নিখোঁজ হয়েছিল সে। গতকাল সোমবার সকালে তার লাশ ভেসে ওঠে। নৌকাডুবির ঘটনায় আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। আর কেউ নিখোঁজ নেই। সবার শেষে পাওয়া গেল পূর্ণিমাকে।
এর আগে নদী থেকে সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয় এক শিশুকেও। সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রাজশাহী নগরীর সাহাপুর এলাকায় শাড়ি-গয়না পরা নববধূর লাশটি ভেসে ওঠে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশটি উদ্ধার করে শ্রীরামপুর এলাকায় নদীরপাড়ে নিয়ে যান। সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন বর আসাদুজ্জামান রুমনসহ (২৬) আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য উৎসুক মানুষ। নববধূর লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বর। এই লাশ পাওয়ার পর উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
পূর্ণিমা রাজশাহীর পবা উপজেলার ডাঙেরহাট গ্রামের শাহিন আলীর মেয়ে। দেড় মাস আগে পদ্মার ওপারে একই উপজেলার চরখিদিরপুর গ্রামের ইনসার আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান রুমনের (২৬) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু তখন অনুষ্ঠান হয়েছিল না। তাই গত বৃহস্পতিবার কনের বাড়িতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বরপক্ষ কনেকে সেদিন চরে নিয়ে যায়। শুক্রবার রুমনের বাড়িতে বউভাতের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে দুটি নৌকা ডুবে যায়।
বরসহ অন্যরা প্রাণে বাঁচলেও কনেসহ সাতজন তলিয়ে যান। আর উদ্ধার করে মরিয়ম খাতুন (৬) নামে এক শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে শনি ও রোববার সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরা হলেন- কনে পূর্ণিমার চাচা শামীম হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী মনি খাতুন (৩০), তাদের মেয়ে রশ্নি খাতুন (৭), কনের দুলাভাই রতন আলী (২৬), খালাতো ভাই এখলাস হোসেন (২৮), ফুফাতো বোন রুবাইয়া খাতুন স্বর্ণা (১৩) এবং খালা আঁখি খাতুন (৩০)।
সবশেষে নববধূর লাশ উদ্ধারের পর উদ্ধারকাজ সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরে দুপুরে জেলা প্রশাসক হামিদুল হক তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, নৌ-পুলিশ, জেলা ও নগর পুলিশ এবং বিআইডবিøউটিএ এর টানা ৬২ ঘণ্টার চেষ্টায় নিখোঁজ সবার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাই উদ্ধার অভিযানও সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি ইতিমধ্যেই তাদের তদন্ত শেষ করেছে। মাছ ধরার ছোট নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী তোলার কারণে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। জেলা প্রশাসক জানান, মাছ ধরার নৌকাগুলোতে বড়জোর আট-দশজন বসতে পারেন। সেখানে দুটি নৌকাতেই ২০ থেকে ২২ জনকে তোলা হয়েছিল। নৌকা দুটিতে মোট ৪২ জন যাত্রী ছিলেন। এদের মধ্যে ৩৩ জন প্রাণে বেঁচেছেন।
এদিকে, তদন্ত কমিটি পদ্মা নদীতে মাছ ধরা এবং খেয়া পারাপারের আলাদা আলাদা নৌকা নিশ্চিত করার কথা সুপারিশ করেছে। এছাড়া নৌকার যাত্রীদের সবার লাইফ জ্যাকেট পরার বিষয়টিও নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।

শর্টলিংকঃ