- সোনালী সংবাদ - https://sonalisangbad.com -

অফিসিয়াল এবং আনঅফিসিয়াল ফোনগুলোর মধ্যে পার্থক্য কি?

অনলাইন ডেস্ক:

স্মার্ট ফোন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় আইসিটি ডিভাইস এটা সত্যি যে স্মার্ট ফোন ছাড়া এখন একটি দিনের কথা কল্পনা করাও খুব মুশকিল। সে আপনি স্মার্ট ফোন দিয়ে যাই করুন না কেন।

ধরুন আপনি একটি স্মার্টফোন কিনতে চলেছেন৷ এবং সেই কারণেই আপনি গুগলে এ সম্পর্কে ঘাটাঘাটি করছেন৷ আপনি আপনার ফেভারিট ব্র্যান্ড এবং মডেলের স্মার্টফোনের নাম লিখে সার্চ দিলেন৷ আপনাকে দুই রকমের প্রাইস দেখালো! একটি অফিশিয়াল এবং অপরটি আনঅফিসিয়াল৷

অফিসিয়াল এবং আনঅফিসিয়াল এ দুইটি প্রাইস এর মানেটা কি ?

গুগলের কথা না হয় বাদই দিলাম । আপনি যদি আপনার নিকটস্থ আউটলেট অথবা কোন মোবাইলের দোকানে যান তাহলে স্বভাবত আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে যে, আপনি কি আনঅফিসিয়াল ফোন চান নাকি অফিশিয়াল ফোন। তখন সে ক্ষেত্রে আপনি একটা দ্বিধার মধ্যে পড়বেন। আপনি ভেবে পাচ্ছেন না আপনার জবাবটা কি হওয়া উচিত?

আপনি যদি কখনো এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন, অথবা অদূর ভবিষ্যতে যদি আপনার মোবাইল ফোন কেনার কোন ধরনের পরিকল্পনা থাকে, এবং আপনি যদি অফিসিয়াল এবং আনঅফিসিয়াল ফোনের মাঝে পার্থক্যটা না জানেন তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য।

শুরুতেই আপনাদেরকে জানিয়ে দিতে চাই অফিসিয়াল এবং আনঅফিসিয়াল ফোনের মধ্যে পার্থক্যটা কি?

বর্তমানে দেশি-বিদেশি কোম্পানিতে ছেয়ে গেছে আমাদের বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজার। বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন কোম্পানির নিয়ে আসছে তাদের নতুন নতুন মডেলের স্মার্টফোন৷ কিন্তু এর মধ্যে কিছু কিছু স্মার্টফোন রয়েছে যেগুলো সরকারকে কর দিয়ে তারপর দেশে প্রবেশ করে৷ এবং তার কারণে সেগুলোর আইএমই আই সরকারের ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে৷

অদূর ভবিষ্যতে যদি আপনার স্মার্টফোনটি নিয়ে কোন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয় তাহলে এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তাহলে আনঅফিসিয়াল ফোন কোনগুলো?

আনঅফিসিয়াল ফোন হলো সেগুলো যেসকল ফোনগুলো সরকারকে কর ফাঁকি দিয়ে আমাদের দেশে প্রবেশ করে। ফলে সেগুলোর আই এম ই আই নাম্বার গুলো সরকারি ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে না। অদূর ভবিষ্যতে এ ধরনের ফোন ক্রয় করলে আপনি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন৷

তাহলে আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো কি সব নকল?

আসলে অফিশিয়াল এবং আনঅফিসিয়াল ফোনের মাধ্যমে আসল নকল বিবেচনা করা যায় না । আনঅফিসিয়াল ফোন গুলো ব্র্যান্ডেড ফোন হতে পারে তবে, সেগুলো স্বভাবতই বাংলাদেশ সরকারকে কর ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশ করে যেটা মোটেও কখনো কাম্য নয় । তবে আনঅফিসিয়াল ফোন গুলোর দাম অনেকটাই কম, প্রায় অফিশিয়াল ফোন গুলোর তুলনায় দুই তিন হাজার টাকা ছাড় পাওয়া যায়।

কারণ এখানে ফোন গুলোর জন্যে সরকারকে কোন ধরনের কর দিতে হচ্ছে না। সেই কারণেই ব্যবসায়ীরা কাস্টমারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য কোনগুলো কম দামে বাজারে ছাড়ে এবং বিক্রি করে বেশ ভালো মুনাফা কামিয়ে নেয়৷

কেন অফিশিয়াল ফোন ব্যাবহার করবেন এবং কেন আনঅফিসিয়াল ফোন থেকে বিরত থাকা উচিৎ?

যদিও বা আনঅফিসিয়াল ফোন করো অফিশিয়াল ফোন এর তুলনায় কয়েক হাজার টাকা দাম কম । তারপরও ব্যক্তিগতভাবে আমি আপনাকে পরামর্শ দেব সব সময় অফিশিয়াল ফোন গুলো ক্রয় করার৷

অদূর ভবিষ্যতে যদি আপনার অফিশিয়াল ফোনটি কোন কারণে নষ্ট হয়ে যায় তাহলে এটি সার্ভিসিং করিয়ে নেওয়ার জন্য আপনাকে আলাদাভাবে কোন চার্জ দিতে হবে না, যদি আপনার ওয়ারেন্টির মেয়াদ থাকে তবে।

আনঅফিসিয়াল ফোনের ক্ষেত্রে আপনি এই সুবিধা পাবেন না। সবচেয়ে বড় কথা কখনো যদি ফোনটি হারিয়ে যায় আর আপনার ফোনটি যদি আনঅফিসিয়াল হয়ে থাকে তাহলে সে ফোনটি খুঁজে বের করতে বেশ বেগ পেতে হবে ।

আর যেহেতু এই সকল ফোন সরকারের কর ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশ করে সুতরাং একজন সুনাগরিক হিসাবে আপনার এই ধরনের ফোন ক্রয় করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

সোনালী সংবাদ/এইচ.এ