অপরাধী শনাক্তে স্থাপিত হচ্ছে ডিএনএ অধিদপ্তর

  • 15
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত ও শাস্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর নামে নতুন একটি বিভাগ চালু করেছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এর মাধ্যমে সাক্ষীবিহীন ঘটনাগুলোতে জড়িত অপরাধীদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

অপরাধী চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি শিশুর বাবা-মা শনাক্তকরণ এবং দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদেরও দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করবে এই অধিদপ্তরের আওতাধীন ডিএনএ ল্যাবগুলো।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডিএনএ এলএমডি বিভাগ পরিচালিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আখতার।

মন্ত্রণালয় পরিচালিত “মাল্টি-সেক্টোরাল প্রোগ্রাম অন ভায়োলেন্স অ্যাগেইন্সট উইমেন” প্রকল্পের পরিচালক ড. আবুল হোসেন বলেন, ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা গেলে সাক্ষীর আর প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। টেস্টের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও শনাক্তকরণ, নমুনা ও তথ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন, জাতীয় ডিএনএ ডাটেবজ প্রস্তুতকরণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) আইন প্রণয়ন করে সরকার।

এই আইনের অন্যান্য কার্যবিধিও পরিচালিত হবে ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে।

কেন্দ্রীয় ডিএনএ বিভাগ স্থাপন পাশাপাশি ডিএনএ ল্যাব স্থাপন করা হবে রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে। এসব ল্যাবের সমন্বয়ের কাজটি করবে ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি।

বর্তমানে বিভাগীয় ল্যাবরেটরিগুলো প্রত্যন্ত এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ১০ম তলায় অবস্থিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিতে।

এই মুহূর্তে ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিতে কর্মরত আছেন ৮৫ জন বায়োকেমিস্ট।

বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হবে ডিএনএ টেস্ট

ড. আবুল হোসেন বলেন, সাক্ষী ছাড়া ঘটনাগুলোর ভুক্তভোগীরা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে উপকৃত হবেন। ইতোমধ্যে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ধর্ষণ মামলা ও শিশুর জন্মপরিচয় নির্ধারণে ডিএনএ টেস্ট করে থাকে।

তিনি বলেন, ডিএনএ টেস্ট নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে ও বিচারপ্রাপ্তিতে সহায়তা করবে। বায়োটেকনোলজি টেস্টিংয়ের মাধ্যমে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তেও কাজে লাগবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি রানা প্লাজা ধস, তাজরিন ফ্যাশনে আগুনের মতো দুর্ঘটনার কথা বলেন। এসব দুর্ঘটনায় ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমেই ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।

ডিএনএ টেস্ট কিডনি পাচারের মতো বেআইনি কার্যক্রম বন্ধেও ভূমিকা রাখবে বলে জানান ড. আবুল। এর মাধ্যমে বহির্গমন প্রক্রিয়াও নিরাপদ হবে বলে জানান তিনি।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ