অতিরিক্ত দেশি গরু, তারপরও আসছে সীমান্ত পেরিয়ে

এবার কোরবানির চাহিদার চেয়ে দেশি পশুর সংখ্যা বেশি হলেও সীমান্ত পেরিয়ে আসছে ভারতীয় গরু। ফলে হতাশ খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা। পত্র-পত্রিকায় এমন খবরই প্রকাশিত হয়েছে।

রাজশাহী প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাবে এবার জেলায় গরু-মহিষ, ছাগল মিলে কোরবানির পশু রয়েছে তিন লাখ ৭০ হাজার। চাহিদার তুলনায় যা এক লাখ বেশি। করোনাভাইরাস ও বন্যার কারণে ক্রেতার চাইতে হাট-বাজারে পশুর আমদানি এখন বেশি হলেও ক্রেতার সংখ্যা কম। পছন্দসই দামে কিনতে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক ক্রেতা। অন্যদিকে আশানুরূপ দাম না পেয়ে পশু নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। পশুহাটের সরেজমিন তথ্যে এমন অবস্থার কথাই জানা গেছে।

দেশি পশুতেই যখন এমন অবস্থা তখন আমদানিকৃত ভারতীয় গরুর কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। ভারতীয় গরুর দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় দেশি বিক্রেতারা আরও কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে গরু আসছে ? করোনা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষায় ভারতীয় পশু আমদানি না হবার আশ্বাস দেয়ার পরও হাটে ভারতীয় গরু দেখে হতাশ ও ক্ষুব্ধ তারা।

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি সীমান্ত পথ (খাটাল) দিয়ে ভারতীয় গরু আসার খবর জানা গেছে। বিজিবি সূত্র রাজশাহীতে চারটি খাটালের মধ্যে চরমাঝাড়দিয়াড় খাটাল দিয়ে গরু আসার কথা স্বীকার করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষেই এটার অনুমতি দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অথচ রাজশাহী জেলা প্রশাসক এ বছর রাজশাহী জেলায় কোনো করিডোর বা খাটাল নবায়ন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন। এমন সমন্বয়হীনতার কারণেই কোরবানির চাহিদার তুলনায় লক্ষাধিক দেশি গরু-ছাগল থাকলেও সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় গরু আসছে বলে ধারণা করা যায়।

এমন অবস্থায় করোনা ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অন্যান্য দেশি উদ্যোক্তাদের মত গরু, ছাগল পালনকারী, খামারি ও ব্যবসায়ীরাও যে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এতে সন্দেহ নেই। এই দুর্যোগময় অবস্থায় এভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তাদের পাশে দাঁড়াতে না পারলে দেশিয় অর্থনীতির ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা কঠিন হবে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ