অতিমারিতেও অতিলাভ থামছে না

  • 7
    Shares


করোনা অতিমারিতে ব্যবসায়ীদের অতিলাভ মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে উঠেছে। জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরিতে সারাদেশ থেকে সংগৃহীত ৪৩ ধরনের ভোগ্যপণ্যের পরীক্ষায় সবগুলোতেই ভেজালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ভেজালের পরিমাণ গড়ে ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে ১৩টি পণ্যে ভেজালের হার প্রায় শতভাগ।

এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২১ উপলক্ষে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী খাদ্যে ভেজাল দেয়ার কঠোর সমালোচনা করে এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আইন প্রয়োগে কঠোর হবার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

যারা অতিলাভের জন্য খাদ্যে ভেজাল দেয় বা পঁচা, গন্ধ,বাসি খাবার পরিবেশন করে তাদের কঠোর হাতে দমনে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ভেজাল থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশুখাদ্য, ওষুধ, প্রসাধন সামগ্রিও। স্বাধীনতার পর দেশে খাদ্য উৎপাদন যেমন বেড়েছে, নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির চ্যালেঞ্জও তেমনি বেড়েছে।

খাদ্যে অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাটের কারণে হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই তথ্যানুযায়ী খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে বছরে ৫ হাজার ৭৭৬ জনের মৃত্যু হয়। খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উৎস ডালডা, বনস্পতি ঘি যা হোটেল রেস্তোরাঁয় অবাধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত।

২০১৩ সালে প্রণীত নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীনে ২০১৫ সালে গঠিত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল ও দূষণমুক্ত নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তিতে কাজ করছে। তাদের অভিযানে মাঝে মধ্যেই ভেজাল খাদ্যপণ্য আটক ও জরিমানার খবর পাওয়া গেলেও ভেজাল বন্ধে তার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ।

তাই দেশে ভেজাল নেই এমন পণ্যের কথা নিশ্চিতভাবে করেও পক্ষেই বলা কঠিন। খাদ্যে ভেজাল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আশু বাস্তবায়ন দেখতে চায় মানুষ। করোনা অতিমারিতেও যাদের অতিলোভ থামছে না তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যায় কি?

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ