খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থন ফের পিছিয়ে ১৯ মে

০৬/০৫/২০১৬ ১:০৫ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 3

এফএনএস: দুদকের দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ফের পিছিয়ে আগামী ১৯ মে পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত। ওইদিন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা দু’টির বিচারিক কার্যক্রম চলছে রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স’াপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস’ায়ী আদালতে। গতকাল বৃহস্পতিবার খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল। তবে তিনি আদালতে হাজির হননি। তার পক্ষে অসুস’তা ও মামলা স’গিতে হাইকোর্টে করা আবেদনের শুনানি হয়নি উলেস্নখ করে দিন পেছাতে সময়ের দু’টি আবেদন জানান তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউলস্নাহ মিয়া। শুনানি শেষে এ আবেদন মঞ্জুর করে ১৯ মে পুনর্নির্ধারণ করেন আদালত। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল। এ নিয়ে চতুর্থ দফায় পেছালো আত্মপক্ষ সমর্থন। এর আগে গত ৭, ১৭ ও ২৫ এপ্রিল আরও তিন দফা সময়ের আবেদন জানিয়ে দিন পিছিয়ে নেন খালেদা জিয়া। অন্যদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্র্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বাদী ও প্রথম সাক্ষী দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক হারম্নন অর রশিদকে আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে জেরা অব্যাহত রয়েছে। আগামী ১২ মে অসমাপ্ত জেরার দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স’াপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে হারম্নন অর রশিদকে তারেক রহমানের পক্ষে দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরম্নল ইসলাম। গত ২৮ এপ্রিল প্রধান আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে হারম্নন অর রশিদকে জেরা শেষ করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান। এরপর তারেকের পক্ষে জেরা শুরম্ন করেছিলেন অ্যাডভোকেট সানাউলস্নাহ মিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া-তারেকসহ আসামি মোট ছয় জন। অন্য চার আসামি হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। আসামিদের মধ্যে ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরম্ন থেকেই পলাতক, বাকিরা জামিনে আছেন। এর আগে, ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়। অন্যদিকে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়। দুই মামলারই বাদী হলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারম্নন-অর রশিদ খান। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন’ জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদনৱ কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারম্নন-অর রশিদ খান।

Tags:

Leave a Reply