এফএনএস: নবগঠিত ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’র বির্বদ্ধে ‘প্রত্যয়’ ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট। জাতীয় ঐক্যের তরফ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার’ গঠনের দাবি তোলা হলেও ক্ষমতাসীন জোটটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সংবিধান অনুসারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পেশাজীবী নেতাদের সঙ্গে ‘কেন্দ্রীয় ১৪ দল’র মতবিনিময় সভায় এ প্রত্যয় ঘোষণা করেন জোটের সমন্বয়ক, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস’্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। নাসিমের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপসি’ত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। অংশ নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামর্বল হাসান খান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সভাপতি প্রকৌশলী আবদুস সবুর, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব শাবান মাহমুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবীরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সমপ্রতি ড. কামাল হোসেন ও ডা. একিউএম বদর্বদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গঠিত হয়। এই জোট গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে। বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও এতে যোগ দিতে দেখা যায়। সমাবেশে সরকারকে সংসদ ভেঙে দিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার’ গঠনসহ কয়েক দফা দাবি দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই জোট প্রসঙ্গে বলেন, ‘খুনি, দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী ঘুষখোর ও সুদখোররা সব আওয়ামী লীগ সরকারের বির্বদ্ধে ঐক্য গড়েছে।’
এই জোটের দিকেই ইঙ্গিত করে নাসিম বলেন, সংবিধান অনুসারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না বলে আমরা প্রত্যয় ঘোষণা করছি। আমরা আরও প্রত্যয় ঘোষণা করছি, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন হবে। যেসব হতাশ ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিরা রাজনীতির নামে চক্রান্ত শুর্ব করেছে, তাদের প্রতিহত করতে হবে। আমরা আরও প্রত্যয় ঘোষণা করছি, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল তারা এ বাংলার মাটিতে কোনো দিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না। অক্টোবরে সারাদেশে ১৪ দলের প্রতিনিধি সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে জোটের সমন্বয়ক বলেন, আমরা এই মুখোশধারী অপশক্তিকে জনগণের সামনে তুলে ধরবো সমাবেশের মাধ্যমে।
রাশেদ খান মেনন বলেন, আমাদের দেশের সব আন্দোলনে পেশাজীবীরা অবদান রেখেছেন। আপনারা মনে রাখবেন, এবার যে নতুন ষড়যন্ত্রটা দেশে তৈরি হয়েছে তা বেশ গভীর। কারণ এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে আসন্ন নির্বাচনকে বানচাল করতে। এই নির্বাচন যদি বানচাল হয় তা হলে দেশে জঙ্গিবাদের স্বাধীন চর্চা শুর্ব হবে। ড. কামালসহ ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’র নেতাদের উদ্দেশ্য করে মেনন বলেন, তারা নিজেরাই নিশ্চিত নন যে তারা কী নিয়ে আন্দোলন করবেন। কারণ তাদের ইস্যু অনেক। আর ড. কামাল তাদের সঙ্গেই আছেন, যারা দেশের মঙ্গল চায় না। অতএব তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই।ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বিএনপির আমলে কোনো টকশোতে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারতাম না। এখন তো তা হচ্ছে না। আর সেই বিএনপি কিছু না জেনে এই আইন নিয়ে সমালোচনা কিভাবে করছে? এটা দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।হাসানুল হক ইনু বলেন, আমরা চাই না মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির বিপক্ষে রাজাকারদের অবস’ান থাকুক। জাতীয় ঐক্য নামে একটি জঞ্জাল সৃষ্টি হয়েছে। আমরা অনেক জঞ্জাল দূর করেছি। এক্ষেত্রেও আমরা সফল হবো। এসব জঞ্জাল জঙ্গিবাদী শক্তির একটি মুখোশ। তারা যতোই ভালো কথা বলুক না কেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে মানে না বিএনপি। তাদের সঙ্গে ড. কামাল যোগ দিলেন। এটা নির্বাচন বানচাল করার একটি ফাঁদ। এই ফাঁদে পা রাখলে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে। কারণ এরকম চক্রান্তকারীদের হাতেই বঙ্গবন্ধু খুন হয়েছিলেন। তাই তাদের বির্বদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে আমাদের।
শাজাহান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জাতীয় ঐক্য নামে একটি অপশক্তি গড়ে উঠেছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলার দায়িত্ব আমাদের। এর আগেও এরকম ষড়যন্ত্র দমনের সফল গল্প আমাদের রয়েছে।জাতীয় ঐক্যকে ‘জাতীয় হুমকি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের এই মুহূর্তের লড়াইটা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তির মধ্যে। জাতীয় ঐক্য মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিকে শক্তিশালী করতে চাইছে। আমাদের সিদ্ধান্তে আসা উচিত রাজাকারদের সন্তানদের কোনোভাবেই চাকরি দেওয়া যাবে না। এমন নজির বিশ্বের অন্য অনেক দেশেই রয়েছে।
আব্দুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের মতো একটি জনপ্রিয় দলকে সুড়সুড়ি না দিলে আসলে তারা জেগে ওঠে না। বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নের কাজে ব্যস্ত। এ সময় রাজনৈতিক সুড়সুড়ি দিতে বা অসি’তিশীলতা সৃষ্টি করতে জাতীয় ঐক্যের আগমন হয়েছে। তারা তো জাতীয় ঐক্য নাম দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না, কারণ তারা সংসদেই নেই। তারা আসলে কিছু হতাশাগ্রস্ত মানুষ। তাদের নিয়ে অতো বেশি আলোচনা করার দরকার নেই আমাদের। কারণ এ ধরনের শক্তি কখনো স’ায়ী হয় না। তাদের এমনিতেই পতন হবে।
বক্তারা দেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরার পাশাপাশি ষড়যন্ত্রকারীদের বির্বদ্ধে আন্দোলনে নামার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।