এফএনএস: সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪ কোটি টাকা জমা হওয়ায় ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি একে এম শামীমসহ ব্যাংকটির ৬ কর্মকর্তাকে আজ বুধবারতলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তলব করা অন্য অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তারা হলেন, এক্সিকিউটিভ কর্মকর্তা উম্মে সালমা, অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ শফিউদ্দীন আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক ম্যানেজার (অপারেশন) লুতফুল হক, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক হেড অব বিজনেস গাজী সালাউদ্দীন ও ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়। গতকাল মঙ্গলবার এক নোটিশের পরের দিনই অভিযুক্তদের তলব করেছেন দুদকের পরিচালক ও অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেন। দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তলবি নোটিশে বলা হয়েছে, ফারমার্স ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে চার কোটি টাকার লোন অনুমোদন করিয়ে ওই টাকা রাষ্ট্রের গুর্বত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তির নামে হস্তান্তর দেখিয়ে আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে। যদিও দুদক তার নোটিশে কোথাও সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহার নাম বলেনি। তবে ২৪ সেপ্টেম্বর দুদক চেয়ারম্যান বলেছিলেন, এ চার কোটি টাকা নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। তবে বিষয়টি সেনসেটিভ ও এমন ব্যক্তি এর সঙ্গে জড়িত যে তা নিয়ে মন্তব্য করা দুদকের জন্য বিব্রতকর বিষয়। অন্যদিকে বিচারপতি সিনহা তার সদ্য প্রকাশিত বই ‘ অ্যা ব্রকেন ড্রিম’ এ চার কোটি টাকা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, তিনি তার বাড়ি ৬ কোটি টাকা বিক্রি করেছেন। সেখান থেকে চার কোটি টাকা তার ব্যাংক হিসেবে জমা হয়েছে। তা নিয়ে সরকার জল ঘোলা করার চেষ্টা করছে। এ কাজে ব্যবহার করছে দুদককে। এ দিকে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল এ ঘটনায় ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতি করে রাষ্ট্রের সে সময়ের এক ‘গুর্বত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ায় দুই ব্যবসায়ীকে তলব করে দুদক।
নিরঞ্জন চন্দ্র শাহা ও মোহাম্মদ শাজাহান নামের এ দুই ব্যবসায়ীকে ৬ মে সকালে দুদকে হাজির হতে বলেন কমিশনের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। ওই দিন হাজির হয়ে ব্যাংক লোন ও ওই মামলা সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে দুদককে জানান অভিযুক্ত দুই ব্যবসায়ী।