বাড়ি বাড়ি ছুটছেন তানোর গোদাগাড়ী চাঁপাইয়ের প্রার্থীরা

২১/০৪/২০১৬ ১:০৬ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 83

Saju-Tanore-20-04-2016-postসোনালী ডেস্ক: রাজশাহীর তানোর ও গোদাগাড়ী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ২৯টি ইউনিয়নে নির্বাচন আগামি শনিবার। প্রার্থীরা প্রচারণার শেষ মুহর্ূতে মরিয়া হয়ে ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। কাকে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবা নিশ্চিত হবে তা নিয়ে ভোটাররাও চালিয়ে যাচ্ছেন চুল চেরা বিশেস্নষণ। এসব ইউনিয়নের প্রায় সবগুলোতে লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রার্থীদের মধ্যে। আর এ লড়াইয়ে বিএনপি’র চেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা রয়েছেন কিছুটা সুবিধাজনক অবস’ানে বলে নির্বাচন বিশেস্নষকদের ধারণা।
সাইদ সাজু তানোর থেকে জানান, আগামি ২৩ এপ্রিল তানোর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচারনার শেষ মুহূর্তে এসে প্রার্থীরা মরিয়া হয়ে ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। অপর দিকে পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে উপজেলার নির্বাচনি এলাকার পাড়া মহলস্না। প্রচার মাইকিং ও প্রার্থীদের গণসংযোগে আনন্দ ও উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে নির্বাচনি এলাকার পাড়া-মহলস্না। প্রচ- রোদ ও খরতাপ উপৰো করে প্রার্থীরা সকালে গভীর রাত পর্যনৱ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে লিফলেট ধরিয়ে দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলৰে তানোর উপজেলার পাড়া-গ্রামের চায়ের দোকানগুলো গভীর রাত পর্যনৱ ভোটারদের আলোচনা ও সমালোচনায় মুখর হয়ে থাকছে। প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরষিদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ফলে আ’লীগ ও বিএনপি’র শীর্ষ ও স’ানীয় নেতাকর্মিরা নিজ নিজ দলীয় প্রার্থীর পৰে প্রচার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। ফলে দলীয় নেতা-কর্মিরা সমর্থকসহ ভোটারদের মধ্যে এই নির্বাচনটি অতিগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দলীয় নেতাকর্মিরা বলছেন, এই নির্বাচনটি দলীয় প্রতীকে হওয়ায় জয় পরাজয়ের বিষয়টি আগামি জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়াসহ দলের ইমেজের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনি এলাকার পাড়া ও গ্রামাঞ্চলে গত ২দিন ধরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাসৱার মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানার, পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে মাঠ-ঘাট, মাড়া-মহলস্না। সেই সাথে জোরে সোরে চলছে অটো রিক্‌্রায় প্রচার মাইকিং। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে জয় লাভের আশা আ’লীগ দলীয় নেতা-কর্মিদেরকে এ প্রানৱ থেকে ও প্রানৱ ছোটাছুটি’র পাশাপাশি উঠানবৈঠক ও পথসভাসহ গভীর রাত পর্যনৱ গণসংযোগ করতে দেখা গেলেও বিএনপি’র নেতা-কর্মিদেরকে মাঠে তেমন একটা দেখা না গেলেও ৭টি ইউনিয়নে জয় লাভের আশায় কৌশলে মাঠে থেকে প্রচারণা উঠান বৈঠকসহ পথসভা গণসংযোগ করছেন। ইউপি সদস্য ও নারী সদস্যাদের পাশাপাশি চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ ও বিএনপিসহ স্বতন্ত্র প্রার্ধীদের প্রচারণা ও গণসংযোগের ফলে তানোর উপজেলায় নির্বাচনি হওয়ায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। কে হচ্ছেন কোন ইউনিয়নে কোন দলের চেয়ারম্যান এই আলোচনায় গ্রামের চায়ের দোকানগুলো মাতিয়ে তুলেছেন ভোটাররা।
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মূল লড়াই হবে আ’লীগের নৌকার সাথে বিএনপি’র ধানের শীষের মধ্যে।  তবে ভোটাররা জানান, দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউনিয়ন পনিষদ নির্বাচনের গণসংযোগ সহ সব বিষয়ে বর্তমান ৰমতাসীন আ’লীগ এগিয়ে রয়েছে। ভোটাররা বলছেন, ৰমতাসীন আ’লীগের নৌকার প্রার্থীসহ নেতা-কর্মিরা এলাকার উন্নয়নের আশ্বাষ দিয়ে ভোট প্রার্থনা করলেও বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কোন উন্নয়নের প্রতিশ্রম্নতি দিতে পারছেন না। ফলে তানোর উপজেলায় নৌকার প্রার্থীদেরই জয়লাভের সম্ভাবনাই বেশী। অপর দিকে ভোটাররাও আগের চেয়ে এখন অনেক সচেতন তাই ভোটারা এলাকার উন্নয়নের দিকেই হাত বাড়াচ্ছেন।
ভোটাররা বলছেন, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ১নং কলমা ইউনিয়নে আ’লীগের একক হেভিওয়েট প্রার্থী থাকলেও এখানে বিএনপি’র পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থী থাকায় আ’লীগ প্রার্থী সুবিধাজনক অবস’ায় রয়েছেন। ২নং বাধাইড় ইউনিয়নে আ’লীগের ও বিএনপি’র একক প্রার্থী রয়েছেন। গত নির্বাচনে এই ইউনিয়নে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই মাঠে থাকা হেবিওয়েট প্রার্থীকেই আ’লীগ দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে এখানেও আ’লীগের প্রার্থীই সুবিধাজনক অবস’ায় রয়েছেন। পাঁচন্দর ইউনিয়নে রয়েছেন আ’লীগের ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল মতিন এখানে বিএনপি’র পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন। সরনজাই ইউনিয়নে আ’লীগ ও বিএনপি’র একক প্রার্থী থাকলেও এবার গত নির্বাচনে মাত্র ৪০ ভোটে পরাজিত হওয়ার পর থেকে জনগনের পার্শে থাকা ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি আব্দুল মালেককে আ’লীগ দলীয় মনোনয়ন দেয়া ও বিএনপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান এলাকায় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এখানেও আ’লীগ সুবিধাজনক অবস’ায় রয়েছে। তালন্দ ইউনিয়নে আ’লীগের একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপি প্রার্থীর কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতের প্রার্থীর পাশাপাশি জাতীয় পার্টির প্রার্থী। ফলে এখানেও আ’লীগের প্রার্থী সুবিধাজনক অবস’ায় রয়েছেন। কামারগাঁ ইউনিয়নে আ’লীগের একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপি’র পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থী থাকায় এখানে আ’লীগের প্রার্থী সুবিধাজনক অবস’ায় রয়েছেন। চান্দুড়িয়া ইউনিয়নে আ’লীগ বিএনপি’র দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি উভয় দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থীসহ এখানে জামায়াতের প্রার্থী থাকায় আ’লীগের নৌকার প্রার্থী সুবিধাজনক অবস’ায় রয়েছেন।
তানোর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২৫জন, সংরৰিত নারী আসনের সদস্যা ৭৬জন ও সাধারণ সমসদ্য ২শ’৩৭জন। তানোর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মোট ১লাখ ৮শ’ ৪২জন ভোটার ভোট দিয়ে ৭জন চেয়ারম্যান ও ২১জন সংরৰিত নারী সদস্যা ও ৬৩জন সদস্য নির্বাচিত করবেন।
জামিল আহম্মেদ, গোদাগাড়ী জানান, গোদাগাড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যসৱ প্রার্থীরা। প্রচ- তাপ ও গরমে দিনের বেলায় ঢিলে ঢালাভাবে চললেও সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যনৱ প্রচারণা জমজমাট হচ্ছে। চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিশ্রম্নতি। তবে এলাকার যে উন্নয়ন করবে তাকেই বেছে নিবে বলে ভোটাররা জানান। তবে বিগত নির্বাচনের চেলে এবার দলীয় প্রতীকে ভোট হওয়ার কারণে কালো টাকার প্রভাব কম। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৩ জন সাধারন সদস্য (মেম্বার) পদে ৩৬৯ জন ও সংরৰিত সদস্য (মহিলা মেম্বার) পদে ৯৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারদের হিসেব নিকেশ অনুযায়ী প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে থাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৬টি, বিএনপি প্রার্থী ২টি ও জামায়াত প্রার্থী ১টিতে সুবিধাজনক অবস’ায় রয়েছে। উপজেলার গোদাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ও বর্তমান চেয়ারম্যান মাসিদুল হক মাসুদ (নৌকা) ও বিএনপির রম্নহুল আমিন (ধানের শীষ)। নয়টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ৩২ জন এবং সংরৰিত ওয়ার্ডে সদস্য পদে ১১ জন। এই ইউনিয়নটিতে চেয়ারম্যান পদে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে দ্বিমুখি লড়াই হবে। মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ও বর্তমান চেয়ারম্যান খাইরম্নল ইসলাম (নৌকা প্রতীক), বিএনপি মোসৱফা হোসেন (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফাক্কার (আনারস), রাজু আহম্মেদ (রজনীগন্ধা)। নয়টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ৪৮ জন এবং সংরৰিত ওয়ার্ডে সদস্য পদে ১২ জন। এই ইউনিয়নে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের আব্দুর রাকিব সরকার (নৌকা), বিএনপির ও বর্তমান চেয়ারম্যান আনারম্নল ইসলাম (ধানের শীষ) ও জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা তাজিমূল ইসলাম (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী তরিকুল ইসলাম (মোটরসাইকেল), রম্নহুল আমিন (ঘোড়া)। নয়টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ৪৪ জন এবং সংরৰিত ওয়ার্ডে সদস্য পদে ১০ জন। এই ইউনিয়নে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের শহিদুল ইসলাম টুলু (নৌকা), বিএনপির ও বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আহম্মেদ সরকার (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী মমতাজ (আনারস), আক্তারম্নজ্জামান (ঘোড়া)। নয়টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ৩০ জন এবং সংরৰিত ওয়ার্ডে সদস্য পদে ৮ জন। এই ইউনিয়নে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। গোগ্রাম ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রভাষক মজিবুর রহমান (নৌকা), বিএনপির আব্দুর রউফ দিলীপ (ধানের শীষ) ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বর্তমান চেয়ারম্যান হযরত আলী (আনারস)। নয়টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ৪৮ জন এবং সংরৰিত ওয়ার্ডে সদস্য পদে ১৩ জন। নৌকা ও আনারস প্রতীকের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের সাবিয়ার রহমান মাস্টার (নৌকা), বিএনপির আলী আযম তৌহিদ (ধানের শীষ) ও জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্রী প্রার্থী নুরম্নল ইসলাম (আনারস প্রতীক)। নয়টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ৪১ জন এবং সংরৰিত ওয়ার্ডে সদস্য পদে ১২ জন। এই ইউনিয়নে নৌকা, ধানের শীষ ও আনারস প্রতীকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ও বর্তমান চেয়ারম্যান আক্তাতারম্নজ্জামান আক্তার (নৌকা), বিএনপির জোটের মাহবুবুর রহমান (ধানের শীষ) ও স’ানীয় বিএনপির সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসির উদ্দীন বাবু (মোটরসাইকেল), জামায়াত সমর্থিত আজাহার আলী মাস্টার (আনারস)। নয়টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ৪২ জন এবং সংরৰিত ওয়ার্ডে সদস্য পদে ১৩ জন। এই ইউনিয়নে নৌকা ও মোটরসাইকেল প্রতীকের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। বাসুদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের আহাদ আলী বিশ্বাস (নৌকা), বিএনপির ও বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বেবী (ধানের শীষ), জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাতাব উদ্দীন (আনারস)। নয়টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ৩১ জন এবং সংরৰিত ওয়ার্ডে সদস্য পদে ৮ জন। এই ইউনিয়নে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের শহিদুল ইসলাম (নৌকা প্রতীক), বিএনপির ও বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোসৱফা (ধানের শীষ), বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সানাউল্লাহ্‌ (আনারস)। নয়টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ২৮ জন এবং সংরৰিত ওয়ার্ডে সদস্য পদে ৯ জন।  এই ইউনিয়নে ধানের শীষ, ঘোড়া ও আনারস প্রতীকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। প্রসঙ্গত, আগামি ২৩ এপ্রিল শনিবার উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে প্রচারনায় ব্যসৱ সময় অতিবাহিত করছেন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নির্বাচনি সমীকরণ পাল্টাতে শুরু করেছে এবং ষ্পষ্ট হয়ে উঠেছে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র লড়াই। তবে কোন কোন ইউনিয়নে নৌকা ও ধানের শীষের পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীরা মূল লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। জানা গেছে,  চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে মোট ভোটারের সংখ্যা ২,৩০,৩৪২ এবং ১২১টি কেন্দ্রে আগামি ২৩ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এ নির্বাচনে বালিয়াডাঙা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আ’লীগের নৌকা প্রতীকের তরিকুল ইসলাম, বিএনপি’র ধানের শীষের আবু হেনা মোহাম্মদ আতাউল হক ও স্বতন্ত্র জামায়াতের একরামুল হক। এ ইউনিয়নে নৌকা, ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। গোবরাতলা ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের আসজাদুর রহমান, বিএনপি’র ধানের শীষের রবিউল ইসলাম ও স্বতন্ত্র জামায়াতের সাদিকুল ইসলাম। এ ইউনিয়নে নৌকা, ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র জামায়াত প্রার্থীর সাথে তীব্র লড়াই হবে। বারঘরিয়া ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের হারম্নন অর রশিদ ও স্বতন্ত্র জামায়াতের আবুল খায়ের। এ ইউনিয়নে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। মহারাজপুর ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের এজাবুল হক বুলি ও জাতীয় পার্টি লাঙ্গলের এ্যাডভোকেট নজরম্নল ইসলাম সোনা। বিএনপি’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র জোনাব আলী প্রার্থী নির্বাচন করছেন। মূলত এ ইউনিয়নে নৌকা ও লাঙল প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। রাণীহাটি ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের মহসিন আলী, ধানের শীষের রহমত আলী, আ’লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী দুরম্নল হোদা, স্বতন্ত্র জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। এ ইউনিয়নে নৌকা, আ’লীগ বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র জামায়াত প্রাথীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। সুন্দরপুর ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের হাবিবুর রহমান, আ’লীগের বিদ্রোহী আমানুল্লাহ বিশ্বাস বাবু ও স্বতন্ত্র জামায়াতের ইখতিয়ার উদ্দিন শাহিন। এ ইউনিয়নে নৌকা, আ’লীগ বিদ্রোহী ও  স্বতন্ত্র জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। দেবীনগর ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের হাফিজুর রহমান, ধানের শীষের আ ক ম শাহেদুল আলম বিশ্বাস পলাশ, আ’লীগের বিদ্রোহী আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস। এ ইউনিয়নে নৌকা, আ’লীগ বিদ্রোহী ও  ধানের শীষের প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। শাহজাহানপুর ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের আব্দুস সালাম, ধানের শীষের আব্দুল মালেক, আ’লীগের বিদ্রোহী আব্দুর রশিদ, বিএনপি’র বিদ্রোহী ফাতেমা, স্বতন্ত্র তরিকুল ইসলাম ও  জামায়াত স্বতন্ত্র সবের আলী । এ ইউনিয়নে নৌকা, আ’লীগ বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। ইসলামপুর ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের জসিম উদ্দিন, ধানের শীষের মহুরম্নল হক, আ’লীগের বিদ্রোহী আকতারম্নজ্জামান টিপু ও স্বতন্ত্র দুরম্নল হোদা। এ ইউনিয়নে নৌকা ও  আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। চরবাগডাঙা ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের ওমর আলী, ধানের শীষের আমিনুল ইসলাম, জাসদের মশাল প্রতীকের কামরম্নল ইসলাম, আ’লীগের বিদ্রোহী শাহেদ হোসেন রানা টিপু ও স্বতন্ত্র জামায়াতের শাহাবুল আলম কালু। এ ইউনিয়নে নৌকা ও আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। ঝিলিম ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের লুৎফল হাসান টুটুল, ধানের শীষের তসিকুল ইসলাম তসি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম। এ ইউনিয়নে নৌকা ও  ধানের শীষ প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। নারায়নপুর ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের অ্যাডভোকেট আলমগীর কবির, আ’লীগের বিদ্রোহী কামাল উদ্দিন হোদা, স্বতন্ত্র শরিয়তুল্লাহ লাহু ও সেলিম রেজা।  এ ইউনিয়নে নৌকা ও  আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াই হবে। চরঅনুপনগর ইউনিয়নে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের সাদিকুল ইসলাম বাচ্চু, ধানের শীষের জহরম্নল হক বিশ্বাস বুলু, আ’লীগের বিদ্রোহী ও বর্তমান চেয়ারম্যান এস আব্দুল বাদী বাদশা ও স্বতন্ত্র জামায়াতের মোঃ তাজিমুল হক।  এ ইউনিয়নে নৌকা ও  আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে তীব্র লড়াই হবে।

Tags:

Leave a Reply