প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি

18/04/2016 1:04 am0 commentsViews: 36

রেজাউল ইসলাম সেলিম, নিয়ামত-পুর (নওগাঁ) থেকে: নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠছে নিয়ামতপুরের ৮টি ইউনিয়নের নির্বাচনি প্রচারণা। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যনত্ম ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। দিচ্ছেন বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রম্নতি। চলছে মাইকিং, উঠোন-বৈঠক। সর্বত্রই শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রতীক সংবলিত পোস্টার। ফসলের মাঠ থেকে চায়ের স্টল পর্যনত্ম সর্বত্রই সরগরম এ নির্বাচনকে ঘিরে।
এবারেই প্রথম দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই প্রার্থী নির্বাচনের পর থেকে দলীয় নেতা-কর্মিরা প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বসে নেই বিভিন্ন দলের জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীর পড়্গে ছোট ছোট গ্রুপ করে তারাও নেমে পড়েছেন মাঠে। লিফলেট হাতে স্ব-স্ব দলীয় প্রার্থীর পড়্গে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোট চাইছেন। কেউ কেউ সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বক্তব্য দিচ্ছেন, কেউবা বিপড়্গে। পিছিয়ে নেই মহিলারাও। তারাও ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে বেরিয়ে পড়েছেন গণ-সংযোগে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ভোটার-দের তাদের পড়্গে টানতে বিভিন্ন প্রতিশ্রম্নতি দিচ্ছেন। তারা ভোটারদের বোঝাচ্ছেন নির্বাচিত হলে দল মতের ঊর্ধ্বে থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন।
২৩ এপ্রিল তৃতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নওগাঁর নিয়ামত-পুরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণায় গোটা উপজেলা সরগরম হয়ে আছে। গত দুদিনে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। প্রত্যেক প্রার্থী নিজ নিজ ভোট প্রার্থনা করছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে। সাথে থাকছেন তাদের নিজ নিজ দলীয় নেতাকর্মি ও সমর্থকরা। কোন কোন প্রার্থীর অভিযোগ রয়েছে আচরণ বিধি লংঘনের। রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়ে কোন প্রতিকার না পাওয়ার কথাও জানান তারা এ প্রতিবেদকের কাছে।
নিয়ামতপুর উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন। উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ৪শ’ ৮৮জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৮ হাজার ৩শ’ জন এবং মহিলা ৯২ হাজার ১শ’ ৮৮ জন।  ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৯০টি।
১নং হাজিনগর ইউনিয়নে মোট ভোটার ২০ হাজার ২শ’ ৯৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ৩৮ জন, মহিলা ১০ হাজার ২শ’ ৬০ জন। চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা ৩ জন। এরা হলেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী আমিনুল ইসলাম (ধানের শীষ) ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন আবুল বাসার (পাখা)। এছাড়া ইউপি সদস্য (সাধারণ) হাজিনগর ইউ-নিয়নে ৩৩ জন, সংরড়্গিত মহিলা আসনে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে আওয়ামী-লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লাড়াই হবে।
২নং চন্দননগর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৯ হাজার ৩শ’ ১০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৪শ’ ৯০ জন, মহিলা ৯ হাজার ৮শ’ ২০ জন। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৭ জন। এরা হলেন,  আওয়ামীলীগ প্রার্থী খালেকুজ্জামান তোতা (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী আবদুস সালাম (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি জাহা-ঙ্গীর আলম (লাঙল), ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন তাইজুদ্দিন আহমেদ (পাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বদিউজ্জামান বদি (ঘোড়া), জাকা-রিয়া (মোটরসাইকেল) ও শাহ আলম (আনারস)। এছাড়া চন্দননগর ইউ-নিয়নে সাধারণ ৩৬ জন, সংরড়্গিত আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে মূলত ভোটের লড়াই হবে ত্রিমুখী। ৩নং ভাবিচা ইউনিয়নে মোট ভোটার ২৪ হাজার ৪শ’ ৮১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৫ জন, মহিলা ১২ হাজার ৪শ’ ৭৬ জন। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪ জন। এরা হলেন, আওয়ামীলীগ প্রার্থী ওবাইদুল হক (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী মোসত্মাফিজুর রহমান (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী আইয়ুব হোসেন (আনারস) ও জাহিদুল ইসলাম। এছাড়া ভাবিচা ইউনিয়নে সাধারণ আসনে সদস্য পদে ৫০ জন, সং-রড়্গিত আসনে ১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউ-নিয়নেও ভোটের লড়াই হবে ত্রিমুখী। ৪নং নিয়ামতপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৯ হাজার ৭শ’ ৯০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৫শ’ ৪৮ জন ও মহিলা ১০ হাজার ২শ’ ৪২ জন। চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩ জন। এরা হলেন, আওয়ামীলীগ প্রার্থী বজলুর রহমান নইম (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী ছাদরুল আমীন চৌধুরী (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি আজিজার রহমান (লাঙল)। এছাড়া এই ইউনিয়নে সাধারণ আসনে সদস্য ৩৮ জন ও সংরড়্গিত আসনে মহিলা সদস্য ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে লড়াই হবে দ্বিমুখী। ৫নং রসুলপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ২৫ হাজার ৯শ’ ৪২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৯শ’ ৪১ জন ও মহিলা ১৩ হাজার ১ জন। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩ জন। এরা হলেন, আওয়ামীলীগ প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিকী সুজা (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি আবদুল খালেক (লাঙল)। এছাড়া রসুলপুর ইউনিয়নে সাধারণ আসনে সদস্য ৩৭ জন ও সংরড়্গিত আসনে সদস্য ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রসুলপুর ইউনিয়নে ভোটের লড়াই হবে দ্বিমুখী। ৬নং পাড়ইল ইউনিয়নে মোট ভোটার ২২ হাজার ৭শ’ ৮ জন। এরমধ্যে পুরম্নষ ১০ হাজার ৯শ ৮৮ জন ও মহিলা ১১ হাজার ৭শ’ ২০ জন। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪ জন। এরা হলেন, আওয়ামীলীগ প্রার্থী সৈয়দ মুজিব গ্যান্দা (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব আরিফ কাওসার (ধানের শীষ), এলডিপি আবু হেনা মোসত্মফা কামাল চৌধুরী (ছাতা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাইনুল ইসলাম মিনু (চশমা)। এছাড়া পাড়ইল ইউনিয়নে সাধারণ আসনে সদস্য ৫১ জন ও সংরড়্গিত আসনে সদস্য ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাড়ইল ইউনিয়নেও আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। ৭নং শ্রীমনত্মপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ২২ হাজার ৪শ’ ৯৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ৮শ’ ৬৩ জন ও মহিলা ১১ হাজার ৬শ’ ৩৬ জন। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৩ জন। এরা হলেন, আওয়ামীলীগ প্রার্থী আজাহারম্নল ইসলাম বুলু (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী খলিলুর রহমান (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আল-মামুন হক মামুন। এছাড়া শ্রীমনত্মপুর ইউনিয়নে সাধারণ আসনে সদস্য ৩৮জন ও সংরড়্গিত আসনে সদস্য ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইইনয়নে লড়াই হবে দ্বিমুখী। ৮নং বাহাদুরপুর ইউনিয়নে মোট  ভোটার ২৫ হাজার ৪শ’ ৬০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৪শ’ ২৭ জন এবং মহিলা ১৩ হাজার ৩৩ জন। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪ জন। এরা হলেন, আওয়ামীলীগ প্রার্থী আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী ইমরান হোসেন (ধানের শীষ), ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন আব্দুল করিম (পাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসাহাক আলী মন্ডল (মোটরসাইকেল)। এছাড়া বাহাদুরপুর ইউনিয়নে সাধা-রণ আসনে সদস্য ৩০ জন এবং সংরড়্গিত আসনে সদস্য ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে মূলত আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র মধ্যে লড়াই হবে।

Tags:

Leave a Reply