রাজশাহীতে সোনালী ব্যাংকের কোটি টাকা আত্মসাত

07/01/2016 1:05 am0 commentsViews: 51

এম আই বাবু : রাজশাহীতে সোনালী ব্যাংকের কয়েকটি শাখা থেকে জালিয়াতীর মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ছিল আলোচিত। ব্যাংক কর্মচারী পিতা-পুত্রের যোগসাজসে ঘটে এই আত্মসাতের ঘটনা। কিন’ ঘটনার পেছনের অনেক রহস্যই থেকে যায় অজানা।
আত্মসাতের এই ঘটনায় পিতা সাবেক ব্যাংক কর্মচারী গোলাম মোস্তফা আটক হলেও প্রথম পর্যায়ে পলাতক থাকে এই ঘটনার মূল নায়ক গোলাম মোস্তফার পুত্র সোনালী ব্যাংক তানোর শাখার আইটি অফিসার নাজির হোসেন, পুত্র বধূ সালমা জাহান লিমাসহ অপর সহযোগিরা। আত্মসাতের এই ঘটনা নিয়ে ব্যাংক প্রশাসনে শুর্ব হয় তোলপাড়। আত্মসাতের এই ঘটনায় সোনালী ব্যাংক লিঃ তানোর শাখার ম্যানেজার জিলৱুর রহমান বাদি হয়ে গত ২৪ জুন তানোর থানায় ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলে প্রকাশ হয়ে পড়ে চাঞ্চল্যকর এই আত্মসাতের ঘটনাটি। মামলায় আসামি করা হয় নাজির হোসেনের পিতা গোলাম মোস্তফা, স্ত্রী সালমা জাহান লিমা, মোঃ সারওয়ার এবং সোনালী ব্যাংক তানোর শাখার সিনিয়র অফিসার ( সাময়িক বরখাস্ত) হাসান মোহাম্মদ খালেদুল হককে। তানোর থানা মামলা নং ১৯, তাং ২৪/৬/২০১৫। জি আর মামলা নং ৯৯/২০১৫ (তানোর)।  গত ২৩ জুন তানোর থানার জিডি নং ৯৩৮ তাং-২৩/৬/২০১৫ এর প্রেৰিতে নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ  প্রধান আসামি নাজির হোসেনের পিতা সাবেক ব্যাংক কর্মচারি গোলাম মোস্তফাকে আটক করে। মামলার অভিযোগে বলা হয় আসামিগন পরস্পর যোগসাজসে ৰমতার অপব্যবহার এবং  কৌশলের মাধ্যমে ২০১৩ সালের ২ মে থেকে ২০১৫ সালের ১২ ফেব্র্বয়ারী পর্যন্ত সোনালী ব্যাংক তানোর শাখার বিভিন্ন হিসাব খাত থেকে ১ কোটি ১৮ হাজার টাকা আত্মসাত করে। আত্মসাতকৃত এই টাকা সোনালী ব্যাংক কোর্ট বিল্ডিং শাখা, রাজশাহী, কর্পোরেট শাখা রাজশাহী, নওগাঁ শাখা এবং সোনালী ব্যাংক গ্রেটার রোড শাখা রাজশাহী থেকে উত্তোলন করা হয়। বাদির অভিযোগে বলা হয় ২০১৫ সালের ৭ মে তানোর শাখার দায়িত্ব গ্রহনের পর অডিট চলাকালে তিনি জানতে পারেন যে তার যোগদানের পূর্বে জহুর্বল ইসলাম এই শাখার ম্যানেজার ছিলেন। সেই সময়  গত ২/৫/২০১৩ ইং তারিখে আসামি নাজির হোসেনের স্ত্রী আসামি সালমা জাহান লিমার নামে সঞ্চয়ী হিসাব নং – ১৩৬৪২ খোলা হয়। যাতে পরিচয়দানকারী হিসাবে নাজিরের নাম উলেৱখ ছিল। পরবর্তীতে আসামি নাজির তার স্ত্রীর নামে পরিচালিত সঞ্চয়ী হিসাবটি অবৈধভাবে কৌশলে হিসাবের নাম পরিবর্তন করে সারোয়ার খান নামে চালু করেন এবং নমিনী হিসাবে নিজের নাম বহাল রাখেন। যা ২৪/৫/২০১৫ তারিখ থেকে চলা অডিট টিমের নজরে আসে। আসামি নাজির তার নিজস্ব পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ২/৫/২০১৩ হতে ১৫/৪/২০১৪ তারিখ পর্যন্ত তানোর শাখার বিভিন্ন হিসাব খাত থেকে অনিয়মিত এবং অবৈধভাবে ৬৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬৫ টাকা এবং সুদ বাবদ ১৪২৩ টাকা হিসাব নম্বর ১৩৬৪২ এ স’ানান্তর করেন। পরবর্তীতে এই নম্বরে ইস্যুকৃত চেক থেকে টাকা উত্তোলন করে নেয়। অডিটে বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ার পর থেকেই আসামি নাজির পালিয়ে যান। এদিকে আসামি গোলাম মোস্তফা গত ১৩ জুন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিস রাজশাহীতে হাজির হয়ে ছেলের আত্মসাতকৃত সমুদয় টাকা ফেরত দেবে বলে ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে  অঙ্গিকার নামা লিখে দেন। পরবর্তীতে দুই কিস্তিতে ৪ লাখ টাকা ব্যাংকের সানড্রি ডিপোজিট হিসাবে জমা প্রদান করেন। কিন’ ২২/৬/২০১৫ তারিখ আত্মসাতকৃত বাকী টাকা দিতে অপারগতা জানালে এই মামলা দায়ের করা হয়।
গত ১৫ জুলাই র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৫ সদস্যরা বিভিন্ন স’ানে অভিযান চালিয়ে টাকা আত্মসাত চক্রের মূলহোতা নগরীর রাজপাড়ার বহরমপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে নাজির হোসেন (৩২) ও তার স্ত্রী সালমা জাহান লিমা (২৮) কে আটক করে । পরবর্তীতে আসামি গোলাম মোস্তফা, সালমা জাহান লিমা এবং সারোয়ার আদালত থেকে জামিন নিলেও এখনো পলাতক আছেন অপর আসামি সোনালী ব্যাংক তানোর শাখার সিনিয়র অফিসার ( সাময়িক বরখাস্ত) হাসান মোহাম্মদ খালেদুল হক।  ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারী রয়েছে এই মামলার পরবর্তী ধার্য়্য দিন। মামলাটি এখনো রয়েছে তদন্তাধিন।

Tags:

Leave a Reply