ভিসিকে লাঞ্চনার প্রতিবাদে আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস

04/01/2016 1:03 am0 commentsViews: 19

হাসান আদিব, রাবি : দেশের রাজনৈতিক অসি’রতায় অচল প্রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবে মাত্র স্বাভাবিক হতে শুরম্ন করেছে। দীর্ঘদিনের অঘোষিত ছুটি কাটিয়ে প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরছে শিড়্গার্থীরা। বন্ধুদের সঙ্গে গান-গল্প, আড্ডায় মেতে উঠার আকাঙ্খা সবার চোখে-মুখে। কিন’ আড্ডা ফেলে আন্দোলনে নামতে হলো শিড়্গার্থীদের। দাবি- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫ হাজার শিড়্গার্থীর অভিভাবক, শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ শিড়্গকদের লাঞ্চনাকারীদের শাসিত্ম চাই। ক্লাস-পরীড়্গা বর্জন করে মাঠে নামে শিড়্গক-শিড়্গার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস, উত্তপ্ত হয় গোটা রাজশাহীর পরিবেশ। কারণ আওয়ামী পন’ী ভিসি ও শিড়্গকদেরকে লাঞ্চিত করে মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা ও তার সহযোগীরা। এর একদিন আগে র্দুব্যবহার করে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে যায় আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্য ।
টেবিল চাপড়ে ভিসিকে ‘দেখে নেয়ার হুমকি’ সাংসদের : রাবির অধীনস’ শাহ্‌ শখদুম মেডিকেল কলেজে অবৈধভাবে শিড়্গার্থী ভর্তির অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপড়্গ। ওই মেডিকেল কলেজের মালিক এক সংসদ সদস্য । এতে ড়্গিপ্ত হয়ে পরদিন ভিসির সঙ্গে জরম্নরী ভিত্তিতে দেখা করতে আসে ওই সংসদ সদস্য। কিন’ পূর্বঘোষিত একটি অনুষ্ঠানে থাকায় তাকে বসিয়ে রেখে ওই সভায় অংশ নেন ভিসি। পরে ্‌ওই সংসদের সঙ্গে সাড়্গাতে বসলে কেন তার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে-এমন প্রশ্ন রেখে টেবিল চাপড়ে ভিসিকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান তিনি। এঘটনা সারাদেশে সমালোচনার সৃষ্টি করে।
আওয়ামী লীগ নেতার হাতে ভিসি লাঞ্চিতের অভিযোগ :  এ ঘটনার পরদিন অবৈধভাবে দলীয় লোক নিয়োগ দিতে রাজি না হওয়ায় মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা ভিসিকে গদি থেকে নামিয়ে দেয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপড়্গ। ঘটনার পরপরই সাংবাদিকদের ডেকে ভিসি এ বিষয়ে বিসত্মারিত জানান। জানানো হয়, দলীয় লোকদের কেন নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না এটা জানতে চেয়ে আকস্মিকভাবে ভিসির দপ্তরে শিড়্গকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর আওয়ামী লীগের পড়্গ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে ভিসিকে আল্টিমেটাম দেয়া হয়। একই দিন থেকে ভিসির পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। এতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিসি’তি।
প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করে আন্দোলন শিড়্গক-শিড়্গার্থীদের : পরপর দুদিন এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন থেকে টানা সপ্তাহব্যাপী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিড়্গক-শিড়্গার্থীরা। এসময় মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাকে এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত করার ঘোষণা দেয় শিড়্গর্থীরা। এদিকে আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল বিভাগে ক্লাস-পরীড়্গা বন্ধ রাখা হয়। লাঞ্চনাকারীদের বিচার দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর লিখিত আবেদন জানায় হল প্রাধ্যড়্গ ও বিভাগের সভাপতিবৃন্দ।
এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের পড়্গ নিয়ে ভিসি বিরোধী আন্দোলনে নামে ছাত্রলীগ। এই আন্দোলনের প্রথম দিনে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে সেস্নাগান দেয়া হয় ‘ভিসির দুই গালে জুতা মারো তালে-তালে’। পরে পরিসি’তি ভিন্ন দিকে যাচ্ছে বুঝতে পেরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কৌশলে ৭ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামে। টানা এক সপ্তাহ পর দাবি-দাওয়া পূরণ না হলে আন্দোলন থেকে সরে আসে ছাত্রলীগ।
এদিকে ৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আয়োজনে জেলহত্যা দিবসের আলোচনায় অংশ নিয়ে যোগ্যতা নয়; আওয়ামী লীগ করে বলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মিজানউদ্দিন ও প্রো-ভিসি প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহানকে পদে বসানো হয়েছে বলে মনত্মব্য করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে মহানগর আওয়ামী লীগের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা। ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দলীয় লোক নিয়োগের জন্য লিস্ট দেয়া হয়েছে উলেস্নখ করে দ্রম্নত শূণ্য পদগুলোতে আওয়ামী লীগের লোকদের যেভাবেই হোক নিয়োগ দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয় ভালোভাবে চালাতে পারবেন না বলে বলে ভিসিকে হুশিয়ারি দেন। এঘটনার পরও শিড়্গার্থীরা প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায়। বছরজুড়ে মূলত মহানগর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চাপে রাখতে বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামে। তবে আওয়ামী পন’ী প্রশাসনের বিরম্নদ্ধে দাঁড় করানো প্রায় সব আন্দোলন ব্যর্থ হয়।

Tags:

Leave a Reply


shared on wplocker.com