সালামত উলস্নাহর জামিন নাকচ লিয়াকত ও রজব আলীর বিরম্নদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল ১৪ মার্চ

31/12/2015 1:03 am0 commentsViews: 4

এফএনএস: মানবতাবিরোধী অপ-রাধের অভিযোগে আটক কক্সবাজা-রের সালামত উলস্নাহ খানের (৭৭) জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়ে-ছেন আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যু-নাল। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারম্নল হকের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেল গতকাল বুধবার এ আদেশ দেয়। জামিন আবেদনের পড়্গে শুনানি করেন এডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালো-য়ান। জামিন আবেদনের বিরোধীতা করে শুনানি করেন প্রসিকিউটর রানা দাশ গুপ্ত। মুক্তিযুদ্ধকালীন মান-বতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কক্সবাজারের মহেশখালীর সালামত উলস্নাহ খানসহ ১৯ জনের বিরম্নদ্ধে আগামী ১৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিলের দিন ধার্য করা রয়েছে। এ মামলায় মহেশখালীর ব্যবসায়ী সালামত উলস্নাহ খানসহ ১৯ আসামির বিরম্নদ্ধে তদনত্ম সম্পন্ন করে তা গত ৮ অক্টোবর প্রকাশ করেছে ট্রাইব্যুনালের তদনত্ম সংস’া। তাদের বিরম্নদ্ধে মুক্তি-যুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন, ধর্মানত্মর ও দেশানত্মরকরণের ১৩টি মানবতা-বিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার ১৯ আসামি হচ্ছেন-সালামত উলস্নাহ খান (৭৭), মৌলভি জকরিয়া শিকদার (৭৮), মো. রশিদ মিয়া বিএ (৮৩), অলি আহমদ (৫৮), জালাল উদ্দিন (৬৩), মৌলভি নুরম্নল ইসলাম (৬১), সাইফুল ইসলাম সাবুল (৬৩), মমতাজ আহম্মদ (৬০), হাবিবুর রহমান (৭০), মৌলভি আমজাদ আলী (৭০), মৌলভি আব্দুল মজিদ (৮৫), বাদশা মিয়া (৭৩), ওসমান গণি (৬১), আব্দুল শুক্কুর (৬৫), মৌলভি সামসুদ্দোহা (৮২), মো. জাকারিয়া (৫৮), মো. জিন্নাহ ওরফে জিন্নাত আলী(৫৮), মৌলভি জালাল (৭৫) ও আব্দুল আজিজ (৬৮)। আসামি সামসুদ্দোহা (৮২) কারাবন্দি অবস’ায় অসুস’ হয়ে মৃত্যুবরন করেন। এ মামলায় জীবিত ১৯ আসামিকে এখন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তদনত্ম সংস’ার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেন, আসামিরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলাম পার্টির সক্রিয় নেতাকর্মী ছিলেন। এর মধ্যে সালামত উলস্নাহ খান মানবতাবিরোধী অপরাধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আসামিরা পাকিসত্মানি সেনাবাহিনীকে সব ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা সংঘটনে সার্বিক সহায়তা প্রদান এবং প্রত্যড়্গ ও পরোড়্গভাবে নিজেরাও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। মামলাটি তদনত্ম করেন তদনত্ম কর্মকর্তা (আইও) মো. নূরম্নল ইসলাম। মামলায় তদনত্মকালে ১২৬ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এ মাম-লায় গ্রেফতারকৃত কক্সবাজারের মহেশখালীর ছয় রাজাকারকে সেফ-হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৮ এপ্রিল অনুমতি দেয় ট্রাইব্যুনাল। যে ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে তারা হলেন- এলডিপি নেতা কক্সবাজার চেম্বারের সাবেক সভাপতি সালামত খান উলস্নাহ খান ওরফে ‘পঁচাইয়া রাজাকার’, বিএন-পির সাবেক সংসদ সদস্য রশিদ মিয়া, জিন্নাত আলী, মৌলভী ওসমান গণি, নুরম্নল ইসলাম ও বাদশা মিয়া। মামলায় বিভিন্ন সময়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। একজন মৃত্যুবরন করেন। এখনো পলাতক রয়েছেন আসামি মৌলভী জাকারিয়া সিকদারসহ ১২ জন। প্রসিকিউটর রানাদাস গুপ্ত বলেন, মামলার আইও নুরম্নল ইসলাম তিন জন সালামত খান ও মোহাম্মদ রশিদ মিয়া ও মৌলভী জাকারিয়া সিকদারের বিরম্ন-দ্ধে তদনত্ম করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপ-রাধের সঙ্গে এ মামলায় মোট ২০ জনের নাম পায়। পলাতক আসামি-দের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। এ মামলার আসামি বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য কক্সবাজারের মহেশখালীর রশিদ মিয়াকে শর্ত সাপেড়্গে গত ২৩ আগস্ট জামিন দিয়েছে আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাই-ব্যুনাল। আসামির বয়স এবং শারীরিক অবস’ার কথা উলেস্নখ করে জামিনের আবেদন জানানো হয়।
অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজা-কার কমান্ডার মুসলিম লীগ নেতা নেতা হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার মো. লিয়াকত আলী ও কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আলবদর কমান্ডার আমিনুল ইসলাম ওরফে রজব আলীর বিরম্নদ্ধে আগামী ১৪ মার্চ ফরমাল চার্জ দাখিলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারম্নল হকের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেল গতকাল বুধবার এ আদেশ দেয়। গতকাল প্রসিকিউটর রানা দাসগুপ্ত আসামিদের বিষয়ে আনু-ষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিলে দুই মাস সময় আবেদন করেন। আবেদন শুনানি করে ফরমাল চার্জ দাখিলে ওই দিন ধার্য করে আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। গত ২৭ ডিসেম্বর এ দুই আসামির বিরম্নদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাতটি অভিযোগে পূর্নাঙ্গ তদনত্ম প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। দু’জনের বিরম্নদ্ধে রয়েছে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও লুটপাটের অভিযোগ। বর্তমানে লিয়াকত আলী এবং রজব আলী পলাতক আছেন। তারা দু’জনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাশাপাশি তিন থানা হবিগঞ্জ জেলার লাখাই, ব্রাহ্মণ-বাড়িয়ার নাসিরনগর ও কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেন। এ দুই আসামির বিরম্নদ্ধে ৩১৩ পৃষ্ঠার তদনত্ম প্রতি-বেদনে ১৭৯ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ, ৭২ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদন এবং ৬২ পৃষ্ঠায় সাড়্গীদের জবানবন্দি রয়েছে। এ মামলার আইও মো. নূর হোসেন ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যনত্ম তদনত্মকাজ সম্পন্ন করেন। মামলায় ঘটনার ২৭ জন ও জব্দ তালিকার ২ জনসহ মোট ২৯ জন সাড়্গী ২ আসামির বিরম্নদ্ধে সাড়্গ্য দেবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

Tags:

Leave a Reply