বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

01/12/2015 1:06 am1 commentViews: 25

স্টাফ রিপোর্টার: আজ থেকে শুর্ব হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ত্রিশ লাখ শহীদ আর দু’লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার সাৰর এবারের বিজয়ের মাস বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে পালিত হবে।
বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ট্রতম ঘটনা হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙ্গালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক রাজনৈতিক স্বপ্ন সাধ পূরন হয় এ মাসে।
বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চুড়ান্ত বিজয় এ মাসের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয়। স্বাধীন জাতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। অর্জন করে নিজস্ব ভূ-খন্ড আর সবুজের বুকে লাল সূর্য খচিত নিজস্ব জাতীয় পতাকা । ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তৰয়ী জনযুদ্ধের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এ দিনে।
বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নপূরণ হবার পাশাপাশি বহু তরতাজা প্রাণ বিসর্জন আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই অর্জন হওয়ায় বেদনাবিঁধূর এক শোকগাঁথার মাসও এই ডিসেম্বর।
এ মাসেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর আল শামসদের সহযোগিতায় দেশের মেধা, শ্রেষ্ঠ সন্তান-বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। সমগ্র জাতিকে মেধাহীন করে দেয়ার এধরনের ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের দ্বিতীয় কোন নজীর বিশ্বে নেই।
তবে জাতি এ বছর এমন একটি প্রেৰাপটে বিজয় দিবস ও বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করবে যখন একাত্তরের সেই যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে সংশিৱষ্টদের বিচার কাজ এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত অনেকের বির্বদ্বে ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়েছে। সমপ্রতি ফাঁিসর দন্ড কার্যকর হয়েছে বুদ্ধিজীবি হত্যার অন্যতম হোতা জামায়েতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহান্মদ মুজাহিদির। একই সাথে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকেও ফাঁসিতে ঝুলানো হয় । আরো আগে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোলৱা এবং অপর নেতা কামার্বজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয় ।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শুর্ব থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর জল,স’ল আর আকাশপথে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর চারদিক থেকে ভেসে আসতে থাকে।
এ বছরের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ( সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। যেখান থেকে ৭ মার্চ স্বাধীনতার স’পতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, বলে স্বাধীনতার ডাক দেন, সেখানেই পরাজয়ের দলিলে স্বাৰর করেন পাক জেনারেল নিয়াজী। এর মধ্যদিয়ে ৯ মাসের রক্তৰয়ী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। আর জাতি অর্জন করে হাজার বছরের স্বপ্নের স্বাধীনতা।

Tags:

Leave a Reply


shared on wplocker.com