এফএনএস : সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বির্বদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খতিয়ে দেখছে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এমন বক্তব্য তার একান্তই নিজস্ব বক্তব্য। এর সঙ্গে দুদকের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন দুদক চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, দুদক সুনির্দিষ্ট কোনো দালিলিক তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কারো বির্বদ্ধে তদন্ত ও মামলা করে না। আইনমন্ত্রীর কথায়ও দুদক মামলা করবে না। ‘এসকে সিনহার বির্বদ্ধে দুদকের তদন্ত শেষ পর্যায়ে’ দুদকের একজন আইনজীবীর এমন বক্তব্যকেও অস্বীকার করেন দুদক চেয়ারম্যান। ইকবাল মাহমুদ বলেন, উকিল কেবলই একজন উকিল। তিনি আপনার আইনজীবী হিসেবেও কাজ করতে পারেন। তিনি দুদকের মুখপাত্র নন। দুদকের মুখপাত্র দুদক সচিব। তাই তিনি (আইনজীবী) যে বক্তব্য দিয়েছেন তাও তার নিজস্ব বক্তব্য। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতির বিষয়ে কোনো তদন্তই দুদক করছে না। বিষয়টি সেনসেটিভ। তাই কার বিষয়ে দুদক কী করছে তার কৈফিয়ত দেবে না দুদক। ‘ফার্মার্স ব্যাংকের চার কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে বা ভুয়া ঋণের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর সম্পর্কে দুই ব্যাক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক। আমি গণমাধ্যমের খবরে পড়েছি এর সঙ্গে সাবেক প্রধান বিচারপতি জড়িত আছে। কিন’ আমরা তা বলিনি, যোগ করেন দুদক চেয়ারম্যান। পদত্যাগী বিচারপতি সিনহার লেখা সদ্যপ্রকাশিত বই নিয়ে নতুন করে আলোচনার মধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এক কথার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার সাংবাদিকরা তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইছিলেন দুদক চেয়ারম্যানের কাছে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর ক্ষমতাসীনদের রোষের মুখে থাকা বিচারপতি সিনহা গত অক্টোবরে ছুটি নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর পর সেখান থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। এরপর তার বির্বদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে; তার সংশিৱষ্টতা রয়েছে, এমন একটি দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদকও নামে। সমপ্রতি বিচারপতি সিনহা তার লেখা বইয়ে দাবি করেন, তাকে জোর করে পদত্যাগ করিয়ে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। এরপর তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনার মধ্যে আইনমন্ত্রী গত রোববার বলেন, বিচারপতি সিনহার বির্বদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক। সাংবাদিকরা দুদক চেয়ারম্যানের কাছে ওই তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, শোনেন, মাননীয় মন্ত্রী ওঁর ইচ্ছে যা, বলতেই পারেন। মাননীয় মন্ত্রীর কথায় তো মামলা হবে না, অনুসন্ধানও হবে না। সরকার নিজেরাই বলে স্বাধীন কমিশন। সো মাননীয় মন্ত্রী যা বলেছেন, উনারটা উনাকেই জিজ্ঞাস করেন, আমাকে না। মন্ত্রীর কথায় কোনো প্রভাব দুদকে পড়বে না। এটা আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি। যথাযথ এভিডেন্স ছাড়া কারও বির্বদ্ধে অনুসন্ধান বা তদন্ত হবে না, বলেন দুদক চেয়ারম্যান। ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে দুই কথিত ব্যবসায়ী অবৈধভাবে চার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। সেই টাকা অন্য আরেক ব্যবসায়ী হয়ে এস কে সিনহার বাড়ি বিক্রি বাবদ তার ব্যাংক হিসাবে ঢুকেছে বলে একটি অভিযোগ দুদক তদন্ত করছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে; সেই প্রসঙ্গেই বলছিলেন আইনমন্ত্রী। দুদক চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, একবার আপনারা লিখেছেন, চার কোটি টাকা ইয়ে হয়েছে। সেটা দুইজন ব্যক্তির বির্বদ্ধে একটা অনুসন্ধান। তাদের বির্বদ্ধে অবৈধভাবে ঋণ প্রদান এবং ঋণের সেই টাকা অন্য কোথায়ও যাওয়া নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। সেই টাকার ব্যাপারে পত্রিকায় আপনারা একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। আমরা কিন’ কখনও বলিনি। অনুসন্ধান শেষ হল না, দুদক থেকে এমন একটা কথা বেরিয়ে যাবে, দিস ইজ ভেরি আনফরচুনেট। সেই চার কোটি টাকার অনুসন্ধান দ্র্বত শেষ করতে সংশিৱষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এস কে সিনহার বির্বদ্ধে ১১টি অভিযোগ দুদকে এসেছে কি না- জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান পাল্টা সাংবাদিকদের বলেন, কই, আপনাদের কাছে ১১টি অভিযোগ আছে না কি? থাকলে দেন। বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর তার বির্বদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগের কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বলা হয়, ওইসব অভিযোগের কারণে আপিল বিভাগের অন্য বিচারকরা আর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে মামলা নিষ্পত্তিতে রাজি নন। সাবেক ওই প্রধান বিচারপতির বির্বদ্ধে দুদকে কোনো অনুসন্ধান চলছে কি না- জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, সেই প্রশ্নের জবাব এখন আমি দেব না। আপনাদেরকে ওয়েট করতে হবে। আপনারা এভাবে একটা প্রশ্ন করলে আমার জন্য অসুবিধা হয়। কারণ আমাকে দেখতে হবে, বুঝতে হবে, জানতে হবে। তিনি বারবার এড়িয়ে যাওয়ায় সাংবাদিকরা সরাসরি উত্তর পেতে আবারও প্রশ্ন করেন। সাবেক আমলা ইকবাল মাহমুদ তখন বলেন, আপনারা এমন একজন ব্যক্তির ব্যাপারে বলছেন, অনেক বড় ও বৃহৎ। আমাকে বিব্রত না করাটাই সবার জন্য ভালো।