খালেদার দুর্নীতির দুই মামলায় পরবর্তী সাড়্গ্যগ্রহণ ১০ সেপ্টেম্বর

04/09/2015 1:02 am0 commentsViews: 23

এফএনএস: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার জব্দ তালিকার দুই সাড়্গীর জেরা শেষ ও নতুন আরও তিনজনের সাড়্গ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আগামি ১০ সেপ্টেম্বর নতুন সাড়্গী-দেরকে আসামিপড়্গের জেরা ও পরবর্তী সাড়্গ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলারও পরবর্তী সাড়্গ্যগ্রহণ হতে পারে সেদিন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সোয়া পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ওই দুই দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে রাজধানীর বকশি-বাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স’াপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস’ায়ী আদা-লতে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জিয়া চ্যারি-টেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার জব্দ তালিকার দুই সাড়্গী সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা ইনসান উদ্দিন আহমেদ ও ক্যাশ কর্মকর্তা শাহজাহান খানকে জেরা শেষ করেন আসামিপড়্গের আইনজীবীরা। মাম-লার প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ার-পারসন খালেদা জিয়ার পড়্গে তাকে জেরা করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। অন্য আসামিদের পড়্গে জেরা করেন অ্যাডভোকেট আমিরম্নল ইসলাম।
এরপর জব্দ তালিকার অন্য তিন সাড়্গীর সাড়্গ্যগ্রহণ করা হয়। তারা হচ্ছেন- পূবালী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা এস এম ইসমাইল এবং জনতা ব্যাংকের সাত মসজিদ শাখার জিএম শেখ মকবুল ও ফাহমিদা রহমান।
এ নিয়ে সাত সাড়্গীর সাড়্গ্য নেওয়া হলো জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মাম-লায়। বাকি দু’জন হচ্ছেন- মামলার বাদী ও প্রথম সাড়্গী দুদকের উপ-পরিচালক হারম্নন অর রশিদ এবং মামলার রেকর্ডিং কর্মকর্তা মাহফুজুল হক ভূঁইয়া। তাদের মধ্যে চারজনকে আসামিপড়্গের জেরা শেষ হয়েছে, অন্যান্যের জেরা হবে আগামি ১০ সেপ্টেম্বর।
অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় এ পর্যনত্ম সাড়্গ্য দিয়েছেন মামলার বাদী ও প্রথম সাড়্গী দুদকের উপ-পরিচালক হারম্নন অর রশিদ, তবে তাকে জেরা বাকি রয়েছে। এ মামলারও পরবর্তী সাড়্গ্যগ্রহণ করা হতে পারে পরবর্তী ধার্য তারিখে। মামলাটির রাষ্ট্রপড়্গের সাত সাড়্গীর অন্য ছয়জন হচ্ছেন- সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার হারম্ননুর রশিদ, কর্মকর্তা (ক্যাশ) শফিউদ্দিন মিয়া, আবুল খায়ের, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসি-ডেন্ট সৈয়দা নাজমা পারভীন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট আফজাল হোসেন।
আদালতের অনুমতি নিয়ে হাজির হননি খালেদা জিয়া। তার পড়্গে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আইনজীবীরা হাজিরা দেন। দুই মামলার জামিনে থাকা আসামি এবং তাদের আইনজীবীরা হাজির হন। দুদকের পড়্গে ছিলেন সংস’াটির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আসামি মোট ছয়জন। খালেদা ছাড়া অন্য পাঁচজন হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজি সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহ-মেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
আসামিদের মধ্যে ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরম্ন থেকেই পলাতক, বাকিরা জামি-নে আছেন।
অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার রাজনীতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একানত্ম সচিব বর্তমানে বিআইডবিস্নউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একানত্ম সচিব মনিরম্নল ইসলাম খান।
জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরম্নল ইসলাম খান জামিনে আছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরম্ন থেকেই পলাতক।
২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
দুই মামলারই বাদী হলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারম্নন-অর রশিদ খান।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন’ জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।
জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদনত্ম কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারম্নন-অর রশিদ খান।
গত বছরের ১৯ মার্চ এ দুই দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ঢাকা তৃতীয় ও বিশেষ জজ আদালতের আগের বিচারক বাসুদেব রায়।
খালেদা জিয়ার উপসি’তিতে চার্জ গঠন করা হয় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর আট আসামির বিরম্নদ্ধেও।
গত বছরের ৭ মে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাৎ সংক্রানত্ম বিশেষ মামলা ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ সংক্রানত্ম বিশেষ মামলার বিচারিক কার্যক্রম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন মাঠের অস’ায়ী আদালত ভবনে চালানোর আদেশ জারি করে।

Tags:

Leave a Reply