রামেক হাসপাতালে অজ্ঞাত যুবতীর অনিশ্চিত ভবিষ্যত

২৫/০৮/২০১৫ ১:০৭ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 94

tuhin24 -08-15- copy-11মোহাম্মদ মাসুদ: ২২ বছরের যুবতী, সে নিজের পরিচয় জানেনা, কোথায় যাবে তাও বলতে পারেনা, সবার মুখে মুখে শুধু অসহায়ের মত চেয়ে থাকে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দায় জড়োসরো হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। তাঁর মাথায় আঘাত রয়েছে ও দু’পা ভাঙ্গা, অসুস’। গত রোববার চিকিৎসা শেষে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেয়া হয়েছে। এখন তাঁর সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যত? ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর মাথায় আঘাত জনিত কারণে স্মৃতি শক্তি লোপ পেয়ে থাকতে পারে।
রামেক হাসপাতাল পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন উদ্ধারকারীরা তাঁকে অচেতন অবস’ায় রামেক হাসপাতালে ভর্তি করে চলে যান। এরপর হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘ একমাস চিকিৎসাধীন থাকার পর সে জ্ঞান ফিরে পায়।  গত রোববার হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে তাঁকে ছুটি দেয়া হয়েছে।
হাসপাতালের বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস’ায় অজ্ঞাত উক্ত যুবতী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও তিনবেলা খাবার পাচ্ছিল। বর্তমানে হাসপাতালে থেকে ছুটি হওয়ায় তাঁর থাকা ও খাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও তাঁর শারিরীক দূর্বলতার কারণে তিনবেলা খাবারের পাশাপাশি ভিটামিন যুক্ত খাবার প্রয়োজন। তাঁর মাথা ও পায়ের উপরের ক্ষত শুকিয়ে গেলেও ভিতরে ক্ষত রয়েছে, সে এখনোও অসুস’ এবং আরো চিকিৎসার প্রয়োজন বলেও জানা গেছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (অর্থপেডিক সার্জারী) ডাঃ মুশিদুর রহমান জানান, মেয়েটি হাসপাতালে আসার পর তাঁকে চিকিৎসা দিয়ে সুস’ করা হয়েছে। তাঁর ভাঙা দু’পায়ে পরপর তিনবার প্লাষ্টার করা হয়েছে। কিন’ সে বার বার প্লাষ্টার খুলে ফেলে। তাঁকে ছুটি দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
রামেক হাসপাতালের দৈনিক লেবার আলেয়া বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত রোববার অজ্ঞাত যুবতীর হাসপাতাল থেকে ছুটি হয়েছে। কিন’ যাওয়ার কোন জায়গা নাই, এ কারণে তিনি তাঁর দেখভাল করছেন। বর্তমানে মেয়েটি ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দায় শায়িত রয়েছে। আলেয়া আরো বলেন, মেয়েটির বয়স আনুমানিক ২২ বছর। হালকা-পাতলা শরীর, রং ফর্সা। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং দু’পা গোড়ালির উপরে ভাঙা। এছাড়াও তাঁর সারা শরীরে বসনে-র দাগ রয়েছে। সে মাঝে মধ্যে নিজেন নাম শানি- বলে দাবী করে। এছাড়াও তাঁর বাড়ি ঢাকার নারায়ণগঞ্জ, সে বিদেশে ছিল এবং ভাইয়ের নাম রিফাত চৌধুরী ও বাবার নাম সোহেল চৌধুরী বলে থাকে।

Tags:

Leave a Reply