এফএনএস: বিদেশ থেকে আম-দানিকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বাড়াতে যথা-সময়ে ৩ পাইপলাইন নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। পাইপলাইন ৩টির কাজ শেষ করে অক্টোবরের মধ্যেই এলএনজির সরবরাহ দৈনিক ৪৫০ মিলিয়ন ঘন-ফুট করার কথা জানানো হয়েছিল। আর তার ওপর ভিত্তি করেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর কথা। কিন’ শেষ মুহূর্তে এসে পাইপলাইন ৩টির নির্মাণ কাজের অগ্রগতি নিয়ে হতাশ। এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মি-নাল থেকে প্রতিদিন ৫শ’ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করার কথা। কিন’ এখন দৈনিক সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৩শ’ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশে গ্যাসের সঙ্কট থাকলেও পাইপলাইনের জন্য পেট্রোবাংলা বাকি গ্যাস নিতে পারছে না। জ্বালানি বিভাগ সংশিৱষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশিৱষ্ট সূত্র মতে, কর্ণফুলী সার কারখানা (কাফকো) , চট্টগ্রাম সার কারখানা (সিএফইউএল) ও শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চট্টগ্রামের রিং-মেইন পাইপলাইন থেকে একক লাইনে গ্যাস দেয়ার জন্য ৩টি পৃথক লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। অক্টোবরের মধ্যে ২৫ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইন ৩টি বসানোর কাজ শেষ হওয়ার কথা। ওই হিসেবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই পাইপলাইন শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। অথচ গ্যাসের দাম নির্ধারণে এল-এনজির সরবরাহকে গুর্বত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শুর্বতে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ ধরে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়। তখন জুন ’১৮ থেকে জানুয়ারি ’১৯ পর্যন্ত দৈনিক ৫শ’, এরপর জানুয়ারি থেকে জুন ’১৯ পর্যন্ত এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করার কথা জানায় বিতরণ কোম্পানিগুলো। কিন’ গত ১৮ আগস্ট থেকে দৈনিক ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহের মধ্য দিয়ে এলএনজি বিতরণ শুর্ব করা হয়। পর্যায়ক্রমে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩শ’ মিলিয়ন ঘনফুটে। পাইপলাইন শেষ হলে পরিমাণ আরো ১শ’ থেকে দেড়শ’ মিলিয়ন ঘনফুট বৃদ্ধি পেতে পারে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম রিং-মেইন পাইপলাইন থেকে সিএফইউএল, কাফকো ও শিকলবাহাকে আলাদা করে পৃথক ২৫ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করলেই গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি সম্ভব। ওই ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র ১০ কিমি লাইন পাইপ রয়েছে। বাকি ১৫ কিলোমিটারের পাইপ লাইন চীন থেকে শিপমেন্ট করা হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ওই পাইপলাইন শিপমেন্ট করা হয়। ফলে এখনো পাইপলাইন দেশে না আসায় প্রকল্পটির কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। অথচ কাফকোর দৈনিক গ্যাস চাহিদা ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট, সিএফইউএলের ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট আর শিকলবাহা কেন্দ্রের চাহিদা রয়েছে দৈনিক ৭২ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ পাইপলাইন নির্মাণ শেষ হলে দৈনিক আরো ১৭৭ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজির সরবরাহ বৃদ্ধি করা সম্ভব।
সূত্র আরো জানায়, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল) চট্টগ্রাম থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি যুক্ত করার কাজে ইতোমধ্যে পিছিয়ে পড়েছে। আনোয়ারা থেকে ফৌজ-দারহাট পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ কাজ এখনো শেষ করা যায়নি। অথচ জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্তির জন্য ৩০ কিমি পাইপলাইনটির প্রতিদিন ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার কথা ছিল। নদীর দুই পাশের পাইপলাইনের নির্মাণ শেষ হলেও কর্ণফুলী নদী ক্রসিংয়ের কাজে দুই দফা ব্যর্থ হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সঙ্গত কারণে চট্টগ্রাম থেকে গ্যাস আনা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস’াপনা পরিচালক (এমডি) কাজী আহমেদ মজুমদার জানান, অক্টোবরের মধ্যে সিএফইউএল ও কাফকোকে আলাদা করা যাবে। আর নভেম্বরে শিকলবাহা কেন্দ্রে গ্যাস দেয়ার জন্য পৃথক লাইন নির্মাণের কাজ শেষ হবে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী জানান, দুই দফায় তারা কাজটি করতে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ করতে গেলে আবার সময় অপচয় হবে। সেজন্য তাদেরকেই আরো একবার সুযোগ দেয়া হয়েছে।