কাজী নাজমুল ইসলাম: এই অঞ্চলের চাষিরা বর্তমানে আমন আবাদের যত্ন নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফসলের ৰতিকর পোকা দমনে কৃষি বিভাগের পরামর্শে বালাইনাশকের পরিবর্তে রাজশাহীর কৃষকরা পরিবেশবান্ধব পার্চিং ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন।
আমন চাষি ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই অঞ্চলের মাঠে এখন প্রধান ফসল আমন ধান। চাষিরা ব্যস্ত ফসলের যত্ন নিতে। এবার দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় আমন আবাদে এখন পর্যন্ত তেমন সেচ লাগেনি এবং আবাদ এখন পর্যন্ত ভালো আছে। তবে এবার পোকার আক্রমণ অন্যান্য বছরের চেয়ে কিছুটা বেশি। এই পরিস্থিতিতে পোকা দমনে চাষিরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। কৃষিবিদদের পরামর্শে বালাইনাশক স্প্রে করার পাশাপাশি চাষিরা পরিবেশবান্ধব আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে পোকা দমন করছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, পার্চিং ও আলোক ফাঁদ ব্যবহারে পরিবেশ ভাল থাকে, উৎপাদন খরচ কম হয়, কীটনাশক কম লাগে এবং বিপিএইচের উপস্থিতি সহজে বোঝা যায়। আলো দেখলে বাদামী গাছ ফড়িং বা বিপিএইচ পোকা ছুটে এসে এক জায়গায় মিলিত হয়, ফলে সহজে এ পোকা ধ্বংস করা যায়। এতে করে এলাকার কৃষকগণ উপকারি ও অপকারি পোকা সহজে চিনতে পারছে। এছাড়াও এলাকার কৃষকেরা কোন পোকা দেখলেই কিটনাশক দিতে হবে এই ধারণা যে ভুল তা সহজেই বুঝতে পারছে। তারা পরিবেশবান্ধব পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে পোকা দমনের দিকে ঝুঁকছে।
পার্চিং সাধারণত জীবন্ত ও মৃত এই দুই ধরনের হয়ে থাকে। আমন খেতে ধইঞ্চা গাছের জীবন্ত পার্চিং এবং বিভিন্ন ডাল দিয়ে মৃত পার্চিং তৈরি করা হয়। পার্চিং আইল থেকে বেশ দূরে দেয়াই ভালো এবং জমির যে অংশে চলাচলের অসুবিধা আছে সেখানে স্থাপন করা ভালো। পার্চিংটিকে চুনের দ্রবণে ডুবালে অনেকটা ধবধবে সাদা দেখাবে এবং ক্ষেতের অনেক দূর থেকে দৃষ্টিগোচরে আসবে। চুনের পরিবর্তে সাদা পেইন্ট দিয়েও পার্চিংয়ের ওপরের অংশকে রঙ করা যায়। আর মাটিতে পুতার অংশে আলকাতরা দিয়ে লেপে দিলে খুঁটির স্থায়িত্ব বেশি হয়। আমন খেতে পার্চিং করে পাখি বসানোর ব্যবস্থা করা হয়। এখানে পাখি বসে ফসলের পোকামাকড় ধরে খেয়ে ফেলে। এভাবে পোকা দমনে বালাইনাশক ব্যবহার না করায় পরিবেশের কোন ৰতি হচ্ছে না।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালি বলেন, আমন খেতের ৰতিকর বিপিএইচসহ অন্যান্য পোকা দমনে পরিবেশবান্ধব পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য চাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন এলাকায় কৃষক সমাবেশ ও মাঠ দিবস করা হয়েছে। ফলে রাজশাহীতে বেড়েছে পার্চিংয়ের ব্যবহার। এছাড়া বিভিন্ন বৱকে আলোক ফাঁদ করা হচ্ছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার রাজশাহীতে আমন চাষের লৰ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭১ হাজার ৩৩৭ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৭৩ হাজার ৭৫০ হেক্টরে। এই আবাদের শতকরা ৮৫ ভাগ জমিতে পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। যার মধ্যে শতকরা ৪২ ভাগ জীবন্ত এবং ৪৩ ভাগ মৃত পার্চিং। শতভাগ জমিতে পার্চিংপদ্ধতি ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।