সোনালী ডেস্ক: রাজশাহীর পুঠিয়া, মহানগরী ও নাটোরের বড়াইগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ইউএনওসহ ৩১ জন আহত হয়েছেন।
পুঠিয়া প্রতিনিধি জানান, মধ্যরাতে মহাসড়কে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বালুবোঝাই ট্রাককে পেছন থেকে যাত্রীবাহী নৈশকোচের ধাক্কায় ট্রাক চালকসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙকাজনক। তারা রামেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১২টার দিকে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর ঢালান সংলগ্ন এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দমকল বাহিনীর সদস্য, থানার পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি দুর্ঘটনা স্থলে উদ্ধার কাজে অংশ নেন স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মিরা।
হাসপাতাল, থানা পুলিশ ও দমকলবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলা থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি নৈশকোচ রাজশাহী হয়ে ২৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর নামক এলাকায় এসে মহাসড়কে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালু বোঝাই ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের নিচে থাকা ট্রাকের চালক জাকির হোসেন, ট্রাকের লেবার তৌফিক হাসান (৪৫) এবং যাত্রীবাহী বাসের হেলপার রিজু আহম্মেদ (২৫) ঘটনাস্থলেই মারা যায়। বিকল হওয়া ট্রাকটির নিচে বসে ট্রাকচালক এবং লেবার দু জনই ট্রাকটি মেরামতের কাজ করছিলেন। সংঘর্ষে তারা দু’জন ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছেন। মৃত ট্রাকচালক জাকির হোসেন (২৮) ও তৌফিক হোসনে (৪৫) জেলার চারঘাট উপজেলার মুক্তারপুর এলাকার বাসিন্দা এবং বাসের হেলপার রিজু (২৫) চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বাসিন্দা।
এ দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাসের ২৫ জন যাত্রী আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি ১৭ জনকে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেৱঙে চিকিৎসা দেয়া হয়। তারা হলেন, নওগাঁর মান্দা উপজেলার আবদুল জলিল (৪৫), তার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৫), একই জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার হায়দার আলী (৬৫) ও শাপলা খাতুন (২৫), চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহমনপুর উপজেলার সোলেমান হোসেন (৫০) একই উপজেলার শিশু সিফাত হোসেন (৯), রবিউল ইসলাম (৩২), আঞ্জিরুল হক (৫০), মাইনুল ইসলাম (৪০), হাবিল ইসলাম (৩৫), রোকেয়া বেগম (৩৫), গোমস্তাপুর উপজেলার সবুর আলী (৪২), নূরুল ইসলাম (৪৮), নাচোল উপজেলার শাহিন আলী (৩৫), মোশারফ হোসেন (৩৫), রকিয়া বেগম (৪০) ও নোয়াখালীর জি এম হায়দারের ছেলে জহির হায়দার (৩৪)। এদের মধ্যে নারী শিশুসহ ৬ জনের অবস্থা আশঙকাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের রামেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আহত প্রায় সবাই ঢাকার যাত্রী ছিলেন।
খবর পেয়ে পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট, রাজশাহীর দুটি ইউনিট, পুঠিয়া থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মিরা উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবের নেতৃত্বে অন্তত ২০ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মি হতাহতদের হাসপাতালে নেয়া থেকে শুরু করে মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করা পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা করেছেন।
এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিল উদ্দিন আহম্মেদ জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে বাসটির চালক ও সুপারভাইজার পালিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো শিবপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে এবং যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।
আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, রাজশাহী নগরীতে পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় দু’জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, বোয়ালিয়া থানা এলাকার চকপাড়ার আকবরের ছেলে সানি (১৭) ও রাজপাড়া থানার সিলিন্দা এলাকার জিনুর ছেলে আনোয়ার (৪৫)।
রামেক হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় ডাবতলা এলাকায় অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে আনোয়ার নামে এক মোটরসাইকেল চালক গুর্বতর আহত হন। তিনি রামেক হাসপাতারের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে নওহাটা বাজারে সানি নামে অপর একজন মোটরসাইকেল চালক আহত হয়েছেন। তার মাথায় আঘাত রয়েছে। তিনি হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নাটোর ও বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি জানান, নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ নিজ এলাকা থেকে সরকারি গাড়িতে জেলা সদরে আসছিলেন। পথে নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর এলাকায় নাটোর-ঢাকা মহাসড়কে একটি অটোরিকশা ভ্যানকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িটি রাস্তার পাশে খাদে উল্টে দুমড়ে মুচরে যায়। এতে ইউএনও তার গাড়িচালক, পিয়ন ও ভ্যানচালক ওলিলুর রহমান আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ভ্যানচালককে প্রথমে জেলা সদর ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।