বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শারীরিক শিৰা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের শিৰার্থী আব্দুস সালাম। দিনাজপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মেধাবী সালাম দিন মজুরের কাজ করে দিনাতিপাত করছিলেন। নিজের পড়ালেখা ও সংসারের খরচ জোগাতে ছাত্রাবস’ায় বেছে নিয়েছিলেন এই পথ। দিনভর কাজে থাকায় কোনোভাবেই পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারছিলেন না।
অদম্য মেধাবী সালামের দুঃখগাঁথা জীবন সংগ্রামের খবর জানতে পারেন রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া। শুক্রবার ক্যাম্পাসে ডেকে তিনি সালামের সঙ্গে কথা বলেন। ওই শিৰার্থীর লেখাপড়া, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ বহন করার সিদ্ধান্ত নেন।
জানা যায়, সালামের বাবা এক সময় ফুটপাতে বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করতেন। বর্তমানে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন। বড়ভাই প্রতিবন্ধী আর ছোটবোন লেখাপড়া করে। ফলে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস শিৰার্থী আব্দুস সালাম। দরিদ্র বাবার পৰে লেখাপড়ার খরচ জোগাতে না পারায় দিনমজুরের কাজ করে নিজের খরচ চালান। তিনি দুই দিন শ্রমিকের কাজ করেন আর পরের দুই দিন ক্লাস করেন।
জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুস সালাম বলেন, লেখাপড়ার খরচ জোগাতে দিন মজুরের কাজ করছিলাম। ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ভাই খবর পেয়ে আমার লেখাপড়া, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছেন। শের-ই-বাংলা হলে আমার থাকার ব্যবস’া করেছেন।
সালাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির পর থেকে মন দিয়ে লেখাপড়া করতে পারছিলাম। না। সবসময় নিজের খরচ বহনের চিন্তায় দৌড়ে বেড়িয়েছি। কিবরিয়া ভাইয়ের আশ্বাসে চিন্তা অনেকাংশ কমে গেছে। পড়ালেখা শেষ করে আমি নিজের পরিবার ও দেশের জন্য কিছু করতে চাই।
রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, আব্দুস সালাম মেধাবী শিৰার্থী। অনেক কষ্টে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। তার সমস্যার কথা শুনে কষ্ট পেয়েছিলাম। পরে তাকে ডেকে কথা বলি। তার সমস্যাগুলো শুনে মর্মাহত হই। তার জন্য কিছুর করার তাগিদ অনুভব করছিলাম।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা প্রাধ্যৰের কাছে সুপারিশ করে সালামকে হলে তুলে দিয়েছি। সাধ্য অনুযায়ী কিছু আর্থিক সহায়তা করেছি। সামনের দিনেও তার পাশে থাকবো। আমি চাই- সালাম অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে দেশের দৰ জনশক্তি হয়ে উঠুক।