বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনেরও আশা জেগেছে। দাবি উঠেছে- তিন দশক ধরে অচল থাকা রাকসু, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সচল করার। আর ছাত্র সংগঠনগুলোর মূল নেতৃত্বের মনেপ্রাণে বিশ্বাস- ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপৰ দ্র্বত রাকসু নির্বাচন দিতে পারে।’ তবে কর্তৃপৰ বলছে- যদি ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করে শিৰার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার নিশ্চয়তা দেয়, তবেই রাকসু নির্বাচন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৪ বার রাকসু নির্বাচন হয়েছে। ৭৩’র অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রতি বছর রাকসু নির্বাচন হওয়ার নিয়ম রয়েছে। সর্বশেষ রাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে ৰমতাসীন দলের অনুগত ছাত্রসংগঠনের নেতারা ক্যাম্পাসে আধিপত্য ধরে রাখার জন্য রাকসু নির্বাচন চাইনি। হল দখল, সিট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা- ছাত্রনেতাদের দখলে। ফলে প্রায় ২৯ বছর ধরে রাকসু বন্ধ রয়েছে। তবে রাকসুর নির্বাচন ও কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও শিৰার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় বন্ধ নেই।
এদিকে, রাকসু নির্বাচন প্রশ্নে সব ছাত্র সংগঠন একই সুরে ‘নির্বাচন চাই’ দাবি করে থাকেন। তবে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো ছাড়া বাকি সবাই ‘ঘোমটার আড়ালে ঘেমটা’ নাচায় দাবি খোদ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের। ছাত্রদল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচন হোক তা চায় না। আর ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ নেতাদের ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় প্রার্থী হতে পারবে না শঙ্কায় মনেপ্রাণে নির্বাচন চায় না।
রাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এমএ শাকিল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নেই। ৰমতাসীন ছাত্র সংগঠনের হল দখল, সিট বাণিজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। পরিবেশ পরিষদ গঠনের মাধ্যমে রাকসু নির্বাচনের জন্য দ্র্বত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে দ্র্বত নির্বাচন সম্ভব।
ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন মোড়ল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। আদর্শভিত্তিক রাজনীতি এবং পরমত সহিষ্ণু ছাত্র রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে দ্র্বত রাকসু নির্বাচন দেওয়া সম্ভব।
রাবি ছাত্রদলের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ছাত্রদলসহ অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের ভয়ে ক্যাম্পাসে যেতে পারছে না। আবাসিক হলে বৈধ সিট পেয়েও হলে থাকতে পারছে না। পরীৰার হল থেকে ধরে প্রকাশ্যে পেটানো হচ্ছে। মামলা না থাকলেও পুলিশ ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রদলে যুক্ত শিৰার্থীদের গ্রেফতার করছে। এমন পরিবেশে রাকসু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমরা চাই- ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সমান অধিকার নিশ্চিত করে দ্র্বত রাকসু নির্বাচন দেওয়া হোক।
রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ র্বনু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পৰ থেকে বলা হচ্ছে- ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান না থাকায় রাকসু নির্বাচন দেওয়া হচ্ছে না। আমরা তা মনে করি না। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকা- না করে যে কেউ অবস্থান করতে পারছে। প্রশাসন চাইলে যেকোনো সময় নির্বাচন দিতে পারে। আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।
মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক শাহ্‌ আজম বলেন, কোন সরকার ৰমতায় তা বড় বিষয় নয়। যে সরকার যখন ৰমতায় থাকুক না কেন, তাদের দায়িত্ব হবে ডাকসু, রাকসুসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিয়ে তা সচল রাখা। এটা করতে পারলে, তবেই দেশের রাজনীতিতে দৰ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, অতীতে দেখেছি- ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ-রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। শিৰার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। দিনের পর দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হয়েছে। এটা হতে পারে না। ছাত্র সংগঠনগুলোকে গণতান্ত্রিক চর্চার ধারায় ফিরে আসতে হবে। তারা আদর্শভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি করলে প্রশাসন সহযোগিতা করবে। দৰ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য অদূর ভবিষ্যতে রাকসু নির্বাচন দেওয়া হবে।