সোনালী ডেস্ক: বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের ঐক্যের চেষ্টা সফল হয়েছে। ‘জাতীয় ঐক্য’ নামে আলোচনা চললেও শেষমেশ এর নাম রাখা হয়েছে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’। তবে এই ঐক্যের শুর্বতেই বিকল্প ধারার সভাপতি এ কিউ এম বদর্বদ্দোজা চৌধুরীকে নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভেদ। তিনি এই ঐক্যকে স্বাধীনতাবিরোধীদের ঐক্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পৰ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করা হয়, যেখানে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখর্বল ইসলাম আলমগীর, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জেএসডির আ স ম আবদুর রব এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট নামে জোটবদ্ধ বিকল্প ধারার সভাপতি এ কিউ এম বদর্বদ্দোজা চৌধুরী এই সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন না। একই সময় বারিধারার বাসভবনে আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে এই ঐক্যকে পরোৰভাবে স্বাধীনতাবিরোধীর ঐক্য বলে আখ্যা দেন তিনি।
কামাল হোসেন এবং বি. চৌধুরী দুজনই বলেছিলেন, বিএনপি-জামায়াত না ছাড়লে ঐক্য নয়। তবে বিএনপি জামায়াত ছাড়েনি, তবু কামাল হোসেন ঐক্য গড়লেন। আবার যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যানের অমতে ঐক্য গড়লেন তার দুই শরিক রব ও মান্না। দৃশ্যত যুক্তফ্রন্টেরও অবসান হলো, যদিও এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি এখনও।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা দেন নাগরিক ঐক্যের মান্না। পরে কথা বলেন ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখর্বল ইসলাম আলমগীর, আ স ম আবদুর রব, মওদুদ আহমদ, ডা. জাফর্বলৱাহ চৌধুরী, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেন প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের পৰ থেকে সাত দফা দাবি ও ১১টি লৰ্যের ঘোষণা দেয়া হয়। দাবির মধ্যে আছে বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার, জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ভোটের ১০ দিন আগে থেকে সেনা মোতায়েন, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক মামলা স’গিত প্রভৃতি।
লৰ্যের মধ্যে আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালনা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ৰমতার ভারসাম্য আনা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন, বেকারত্ব দূর করা, দলীয়করণমুক্ত প্রশাসন গড়া, জঙ্গিবাদ দমন প্রভৃতি।

এই ঐক্য গড়তে বিএনপি চলতি বছরের শুর্বর দিক থেকেই চেষ্টা চালিয়ে আসছে। আর ২০১৬ সাল থেকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামে আলাদা উদ্যোগ নেন ড. কামাল হোসেন। একই বছরের শেষ দিকে তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দিয়ে গঠন হয় যুক্তফ্রন্ট, নেতৃত্বে থাকেন বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান বি. চৌধুরীর সাথে ছিলেন আসম আব্দুর রাব, মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।
কিন’ শেষ পর্যন্ত ডা. বি. চৌধুরী ছিটকে যান ঐক্যের প্রক্রিয়া থেকে। আগের দিনই উত্তরায় আ স ম আবদুর রবের বাসায় বৈঠক থেকে ঘোষণা এসেছিল আজ বৈঠক শেষে আসবে চূড়ান্ত ঘোষণা। কিন’ এই বৈঠক নিয়েই বাঁধে গোল। ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় আমন্ত্রণ পেয়ে এসে ফিরে যান বি. চৌধুরী, তার ছেলে মাহী বি. চৌধুরী। বাসার দরজাও কেউ খোলেনি।
ততৰণে ঐক্যের আলোচনায় থাকা অন্যরা বৈঠকে বসে গেছেন ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে আর বি. চৌধুরীকে বলা হয়, তিনি চাইলে যেতে পারেন সেখানে। কিন’ এতে ‘অপমানিত’ বি. চৌধুরী ফিরে যান বারিধারায় তার বাসভবনে। গতকাল সন্ধ্যায় যখন জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্যের ঘোষণা দেয়া হয় তখন বি. চৌধুরী তার বাসায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, তিনি যেসব শর্তে ঐক্য চেয়েছিলেন, তা পূরণ হয়নি। এই ঐক্য পরোৰভাবে হয়েছে স্বাধীনতাবিরোধীর সঙ্গে। বিএনপিকে ৰমতায় আনতে এই ঐক্য হয়েছে বলেও মনে করে বিকল্পধারা। আর ভবিষ্যতে এই ঐক্যে না থাকার ঘোষণাও দেয় দলটি।