সোনালী ডেস্ক: রেলওয়ে খাতকে আধুনিক ও যুগোপযোগী যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের লৰ্যে বর্তমান সরকার রেলওয়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ২০১১ সালের ৪ wW‡m¤^i পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করে। বর্তমান সরকারের সময়ে নেয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্র্বত বাস্তবায়ন হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড ট্রেন নির্মাণ প্রকল্পের মতো বড় বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। সবকয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রেলওয়েতে আমূল পরিবর্তন আসবে।

রেলওয়ে বর্তমান পরিবহন চাহিদা মেটাতে গুর্বত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নতুন রেললাইন নির্মাণ, পুরাতন রেললাইন পুনর্বাসন, মিটারগেজ লাইন ডুয়েলগেজে রূপান্তর, লোকোমোটিভ, যাত্রীবাহী কোচ ও মালবাহী ওয়াগন সংগ্রহ ও পুনর্বাসন, সিগনালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নতুন ট্রেন সার্ভিস চালুসহ বেশকিছু সাফল্য বাংলাদেশ রেলওয়েকে অধিকতর জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলেছে। টেকসই উন্নয়ন অর্জনসহ ২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।

রেলওয়েতে এখন প্রতিদিন ৮৮টি আন্তঃনগর ট্রেন, ১২৬টি লোকাল ট্রেন, ১৩২টি মেইল এক্সপ্রেস ও ডেমু ট্রেন এবং ৪টি আন্তঃদেশীয় ট্রেনসহ সর্বমোট ৩৫০টি ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ৰমতা গ্রহণের পর ২৭০টি কোচ এবং ইঞ্জিন আমদানির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১১৬টি নতুন ট্রেন প্রবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় ৭শ’টি কোচ এবং ইঞ্জিন আমদানি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ই-টিকেটিং এবং অন-লাইন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে যাত্রীদের টিকেট ক্রয় সহজ করা হয়েছে।

২০০৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৮৪ হাজার ৮৯২ কোট ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৭৫ টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং ৯০ হাজার ৯১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৩ টি সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৯৭ দশমিক ৯৮ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ এবং ১১২৩ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন করা হয়েছে। এছাড়া অনেকগুলো নতুন রেলপথের সমীৰা সমাপ্ত হয়েছে।

 

২০ বছর মেয়াদী (২০১০-২০৩০) রেলওয়ে মাস্টারপৱ্যানে ২৩৩৯.৪৪ বিলিয়ন টাকা (ইউএস ডলার ৩০.০০ বিলিয়ন) ব্যয়ে মোট ২৩৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এডিবির অর্থায়নে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিদ্যমান মাস্টার পৱ্যানটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার লৰ্যে পদৰেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

¯^vaxbZv উত্তরকালে দীর্ঘদিন রেলওয়ে সেক্টর অবহেলিত ছিল। অথচ বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে গণপরিবহন হিসেবে রেলওয়ের গুর্বত্ব অপরিসীম। নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব হওয়ায় জনবহুল এদেশে রেলওয়ের যাত্রী সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি শক্তিশালী পরিবহন নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আন্তরিক এবং এ লৰ্যে বহুমুখী পদৰেপ গ্রহণ করেছে। গৃহীত চলমান উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রত্যাশিত সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। যার প্রত্যৰ ও পরোৰ উপকার ভোগ করবে জনবহুল এদেশের রেলওয়ে গণপরিবহনের যাত্রী তথা আপামর জনসাধারণ।