স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় রাজশাহীতে চালের দাম কমতে শুর্ব করেছে। এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে কমেছে ৩/৪ টাকা।
রাজশাহী মহানগরীসহ এর উপকণ্ঠের হাট-বাজার গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোরো ও আউশ মৌসুমের ধান-চাল এখন বাজারে। তারপরও দাম ছিল বাড়তির দিকে। আর ১ মাস পর থেকে আমন মৌসুমের ধান উঠতে শুর্ব করবে। এই সময় চালের দাম বাড়তির দিকে থাকে। এই অবস’ায় দর নিয়ন্ত্রণে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে সরকার ৩ মাসের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুর্ব করে। এই অবস’ায় মজুদদাররা লোকসানের আশংকায় ধান-চাল মজুদ করা থেকে বিরত থাকে। এর প্রভাবে বাজারে ধান-চালের দাম কমতে শুর্ব করেছে বলে মনে করছেন সংশিৱষ্টরা।
গতকাল নগরীর কুমারপাড়ার চালের আড়ত গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১ মাসের ব্যবধানে পাইকারী বাজারে চালের দাম কেজিতে ৩/৪ টাকা কমেছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে চালের বেচাকেনা কমে গেছে এবং সরবরাহ কম এলসি চালের। গতকাল পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি গুটিস্বর্ণা ৩০, পারিজা/ লালস্বর্ণা ৩২/৩৩, আটাশ ৩৬ থেকে ৩৮, মিনিকেট ৪৪ থেকে ৫০, এলসি ৩৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সাহেব বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে চালের দাম কমতে শুর্ব করায় খুচরা বাজারেও চালের দাম নিম্নমুখী। গতকাল খুচরা বাজারে প্রতিকেজি হাইব্রীড ৩৬, গুটিস্বর্ণা ৩৮, পারিজা/ লালস্বর্ণা ৪০, আটাশ ৪২ থেকে ৪৬, মিনিকেট ৫০ থেকে ৫৫, এলসি ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন এই দাম আরও কমবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে দেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় রাজশাহী জেলাতেও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুর্ব হয়েছে। এখানকার ৯ উপজেলার ৮১ হাজার ৪৮২ হতদরিদ্র পরিবার পাচ্ছে ১০ টাকা কেজি দরে মাসে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি চাল। এই হিসাবে রাজশাহীতে মাসে ২ হাজার ৪শ’ ৪৪ দশমিক ৪৬০ মেট্রিকটন চাল দেয়া হচ্ছে। রাজশাহী জেলায় উপজেলা ভিত্তিতে এই চাল পাওয়ার জন্য কার্ডধারী হতদরিদ্র পরিবারের সংখ্যা পবায় ৫ হাজার ৩৫২, মোহনপুরে ৬ হাজার ৭৪২, বাগমারায় ১৪ হাজার ৩৯৭, তানোরে ৯ হাজার ২৬৯, গোদাগাড়ীতে ১৫ হাজার ৪৫৯, পুঠিয়ায় ৮ হাজার ৪৮০, দুর্গাপুরে ৬ হাজার ২৮৪, বাঘায় ৭ হাজার ৭০১ ও চারঘাটে ৭ হাজার ৭৯৮ জন।
এই পরিবারগুলো চলতি বছরের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এই চাল পাচ্ছে। নগরীতে দেয়া হচ্ছে স্বল্পমূল্যে আটা।