স্টাফ রিপোর্টার : পুঠিয়ার রঘুরামপুরে জামাইয়ের হাতে শ্বশুর হত্যার ঘটনায় ঘাতক জামাইসহ তিন জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেছেন আদালত।
গতকাল বুধবার রাজশাহী দ্র্বত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার এই দন্ড প্রদান করেন। রায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অর্থ অনাদায়ে আরো ১ বছর করে কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। এই মামলার অপর দুই আসামির বির্বদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদের খালাসের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো সাবেক জামাই পুঠিয়ার রঘুরামপুর গ্রামের আঃ কুদ্দুসের পুত্র আনোয়ার পারভেজ (৪৫), পারভেজের ভগ্নিপতি আলহাজ আঃ রশিদ (৫৮), এবং আঃ হাইয়ের পুত্র মিঠুন (২৫)। খালাসপ্রাপ্তরা হলো পারভেজের ভাগ্নে রিপন ও বোন তসলিমা বেগম।
ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এন্তাজুল হক বাবু এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি মামলার বিষয়ে বলেন এই মামলার ভিকটিম নিহত আঃ জলিলের কন্যার সাথে আসামি আনোয়ার পারভেজের ১৭ বছর আগে বিয়ে হয়। নেশাগ্রস্ত জামাই যৌতুকের জন্য নিযাতন শুর্ব করলে এক পর্যায়ে ভিকটিমের কন্য স্বামীকে ডির্ভোস দিয়ে পিতার বাড়ী চলে আসে। আসামি আনোয়ার পুনরায় ভিকটিমের কন্যাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বেলা ১১ টার দিকে আসামিরা ভিকটিম কুদ্দুসের বাড়ী আসে এবং ভিকটিমের মেয়েকে তাদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য বলে। একথায় রাজি না হলে আসামি রশিদ কুদ্দুসকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরদিন ২৭ ডিসেম্বর ভোর অনুমান সাড়ে ৫ টার দিকে কুদ্দুস বাড়ীর পাশে খেজুর বাগানে রস আনতে গেলে আসামি আনোয়ার অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে। এব্যাপারে ভিকটিম কুদ্দুসের স্ত্রী সাবিয়া বেগম বাদি হয়ে ওইদিনই পুঠিয়া থানায় ৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা আসামি আলমগীর হোসেনকে বাদ দিয়ে ৫ জনের বির্বদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। আদালত এই মামলায় ১৩ জনের সাৰ্য গ্রহন করেন। রাষ্ট্রপৰে মামলাটি পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের পিপি এন্তাজুল হক বাবু বাদি পৰে তাকে সহায়তা করেন অ্যাড. র্বস্তম আলী। আসামি পৰে ছিলেন অ্যাড. মিজানুল ইসলাম, অ্যাড. একরামুল হক, অ্যাড. আবু বাকার ও অ্যাড. শামিম আকতার হৃদয়।