এফএনএস: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের আশ্বাসে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ট্রাক ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার মো. মনির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে দুপুরে সমঝোতায় আসার লক্ষ্যে সচিবালয়ে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চালক নেতাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন মনির। মনির বলেন, মন্ত্রী আমাদের সঙ্গে বৈঠক করে দাবি মেনে নিয়েছেন। এর আগেই আমরা আমাদের ৭ দফা দাবি সরকারকে জানিয়েছিলাম। সে অনুসারেই বা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে আজকের (গতকাল মঙ্গলবার) সভা ডেকেছিলেন মন্ত্রী। তা সফল হয়েছে। মেনে নেওয়া দাবিগুলো সম্পর্কে এ পরিবহন শ্রমিক নেতা বলেন, আমাদের পুলিশের মহাপরিদর্শক নিশ্চিত করেছেন রাস্তায় কোনো পুলিশি হয়রানি ও অতিরিক্ত জরিমানা করা হবে না। তাছাড়া আমাদের মূল দাবি ছিলো, সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ লাখ টাকা জরিমানা কমাতে হবে। সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলাপ করেছেন। এ জরিমানা ও প্রদত্ত শাস্তি অবিলম্বে কমানো হবে। তবে সে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বা আইন সংশোধন করতে কিছুদিন সময় লাগবে। তাই আমরা আমাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছি। তাছাড়া আমাদের ৭ দফার বাকি যে দাবিগুলো ছিলো তাও পূরণ করার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। এছাড়া রাজধানীর সাতরাস্তা এলাকায় ট্রাক টার্মিনালের আশপাশে রাস্তার উপর থেমে থাকা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানগুলো সরে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন এ পরিবহন শ্রমিক নেতা। এর আগে, জাতীয় সংসদে পাসকৃত সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছিলেন রোববার থেকে। গতকাল মঙ্গলবারই তাদের কর্মবিরতি বন্ধ হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন। পরিবহন শ্রমিকরা বলেন, আমরা রোববার থেকে কর্মবিরতি পালন করছি। আমাদের মূল বক্তব্য হলো- বাংলাদেশের জন্য এ নতুন পাসকৃত আইনটি প্রযোজ্য নয়। এ ছাড়া দেশের মানুষ এখনো রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে সচেতন নয়। তারা নিয়ম না মেনে রাস্তায় চলাচল করে। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা সৃষ্টি না হলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে না। তাছাড়া চালকদেরও দোষ রয়েছে। সেগুলো সংশোধনের ব্যাপারে সরকার কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু এভাবে শাস্তির বিধান করতে পারে না। বিশ্বে কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় এ রকম কোনো আইন নেই। ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান পরিবহন শ্রমিকদের ৭ দফা দাবিগুলোর মধ্যে উলেৱখযোগ্য দাবিগুলো ছিলো- গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাসকৃত সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ সংশোধন করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০২ ধারায় মামলা গ্রহণ করা যাবে না। ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল করতে হবে। তাছাড়া জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় গ্রেফতারকৃত টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সদস্যসহ সব মালিক ও শ্রমিকদের মুক্তি দিতে হবে। সহজ শর্তে ভারী যানবাহন চালককে লাইসেন্স দিতে হবে। এর আগ পর্যন্ত হালকা লাইসেন্সের মাধ্যমে গাড়ি চালানোর সুযোগ ও এ ব্যাপারে মামলা করা যাবে না। পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে। গাড়ির মডেল বাতিল করতে হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সারাদেশে ওভারলোডিং বন্ধ করতে হবে। সর্বোপরি রাস্তায় জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ব্যবহার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চালাতে হবে।