বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন বলেছেন, ছাত্রলীগের নানাবিধ বিতর্কিত কর্মকা-ে আমি বিব্রত হয়েছি। জাতীয়ভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম অথবা দেশের অন্য জায়গাতে বিব্রতবোধ করার মতো কর্মকা-ে জড়াচ্ছে। এটা স্বীকার করতে কোনো কুণ্ঠা নেই।
গতকাল সোমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। জাতীয় শোক দিবস উদযাপন পরিষদ ও রাবির চার্বকলা অনুষদ যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে। এর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান।
খায়র্বজ্জামান লিটন বলেন, দেশের মানুষের কাছে রাজশাহী বিভিন্ন দিক দিয়ে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, তেমন কর্মকা-ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিৰার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের যুক্ত হতে হবে। তোমরা নতুন আলোকবর্তিকা নিয়ে সমাজকে জাগ্রত করবে, চেতনাকে নতুনভাবে ধারণ করবে। তোমরাই বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করবে।
নগরীর উন্নয়নের বিষয়ে মেয়র লিটন বলেন, রাজশাহী নগরীর উন্নয়নে অনেক কাজ বাকি। নগরের বাসিন্দাদের জীবনযাপন উৎকৃষ্ট মানের করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আমার আগের মেয়াদে আমি যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম, তা বাস্তবায়ন হলে এতদিন নগরীর চিত্র পাল্টে যেত। কিন্তু তা ২০১৩ সালে এসে তছনছ হয়ে গেছে। রাজশাহীবাসীর ৫টি বছর বানের জলে ভেসে গেছে। পদ্মার পানির মতো, কচুরিপানার মতো ভেসে গেছে। গত ৫টি বছর কিছু হয়নি রাজশাহীতে। সারাদেশ এগিয়ে গেছে আর রাজশাহী পিছিয়ে গেছে। সেই রাজশাহীর দায়িত্ব আবার আমি আপনাদের মাধ্যমে পেয়েছি। রাজশাহীর নাগরিকদের আধুনিক নাগরিক সুবিধা দেওয়ার লৰ্যে কাজ করতে চাই।
এসময় মেয়র রাজশাহীতে আর্ট গ্যালারি নির্মাণ, সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে এগিয়ে নিতে লোকসঙ্গীত কেন্দ্র, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের জন্য পৃথক পৃথক অবকাঠামো নির্মাণ করার প্রতিশ্রূতি ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধকের বক্তব্যে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বাংলাদেশ বললে বঙ্গবন্ধু এসে যায়, আর বাংলাদেশ বললে বঙ্গবন্ধুকেই বোঝায়।
অনুষ্ঠানে চার্বকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিদ্ধার্থ শংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও চৌধুরি মো. জাকারিয়া, টিএসসিসি পরিচালক অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান, সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার প্রমুখ।