সোনালী ডেস্ক: প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশ উপকূলীয় দুর্যোগ প্রবণ এলাকায় অবস্থিত। এজন্য প্রতি বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয় দৰিণ এশিয়ার এই দেশটি। ১৯৯৭ সালে ১৯ মে কঙবাজারসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়। হঠাৎ আঘাত হানা এই ঘূর্ণিঝড়ে গৃহহীন হয়ে পড়ে উপকূলীয় অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ। দুর্দশাগ্রস্ত এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেন তাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য। সেই থেকে আশ্রয়হীন মানুষের জন্য ‘আশ্রয়ণ’ প্রকল্পের যাত্রা শুর্ব হয়।
পুনর্বাসিত ভূমিহীন, গৃহহীন, দুর্দশাগ্রস্ত ও ছিন্নমূল পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে ভূমির মালিকানা স্বত্বের দলিল/কবুলিয়ত সম্পাদন, রেজিস্ট্রি ও নামজারী করে দেয়া হয়। পুনর্বাসিত পরিবারসমূহের জন্য সম্ভাব্য ৰেত্রে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, মসজিদ নির্মাণ, কবরস্থান, পুকুর ও গবাদি পশু প্রতিপালনের জন্য সাধারণ জমির ব্যবস্থা করা হয়। পুনর্বাসিত পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন উৎপাদনমুখী ও আয়বর্ধক কর্মকা-ের জন্য ব্যবহারিক ও কারিগরি প্রশিৰণ দান এবং প্রশিৰণ শেষে তাদের মধ্যে ৰুদ্র ঋণ বিতরণ করা হয়।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ২ লাখ ৬৪ হাজারেরও বেশি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন এবং জীবিকার ব্যবস্থা করেছে সরকার। ১৯৯৭ সাল থেকে শুর্ব হওয়া এই প্রকল্পের প্রথম দুটি ফেজ শেষ হয় ২০১০ সালে। ২০১০ সালে সরকার দ্বিতীয় ফেজের মাধ্যমে ২ লাখ ৫০ হাজার পরিবারকে আশ্রয় প্রদান করেছে, যাতে খরচ হয়েছে ৪ হাজার ৮৪০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ২০১০ সালের জুলাই এর পর থেকে বর্তমানে প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫২৯ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় বৃৰরোপণও করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার দেশের মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সবার মাথার উপর থাকবে ছাদ, এর ওপর ভিত্তি করেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে ‘আশ্রয়ণ’ প্রকল্প। অনেক গৃহহীন ভিৰুকও এর আওতার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ‘রূপকল্প-২১’ ও ‘রূপকল্প -৪১’ বাস্তবায়নের জন্য এই প্রকল্প গুর্বত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আবুল কালাম শামসুদ্দিন জানান, শুর্ব থেকে এ পর্যন্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে গৃহনির্মাণ করে ও ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। পুনর্বাসনের পর পরিবারগুলোকে ৰেত্রভেদে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়েছে। তার আগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১৫ দিনের প্রশিৰণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই মানবিক উদ্যোগকে বেগবান করতে যাদের জমি আছে কিন্তু ঘর নেই তাদের ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।