তৈয়বুর রহমান: শিগগিরই শুর্ব হচ্ছে নগরীর ৩টি বস্তি ও হরিজন পলৱীর উন্নয়ন কাজ। সমাজের সব থেকে পিছিয়েপড়া অংশ হচ্ছে বস্তি ও হরিজন পলৱীর বাসিন্দারা। তারা সব দিক থেকে পিছিয়ে। নগরীর উন্নয়ন এগিয়ে গেলেও তারা রাস্তা-ঘাট, ড্রেনসহ সকল উন্নয়ন বঞ্চিত। নগরীর এ সব বস্তিবাসী ও হরিজন পলৱীর উন্নয়ন হলে এসব এলাকার দীর্ঘ দিনের অবহেলা ও বঞ্চনার অবসান হবে।
গত ৫ বছরে রাসিক নগরীতে তেমন কোন উন্নয়নই করেনি। এ দিক থেকে বস্তিবাসীরা আরো বেশি বঞ্চিত। বস্তিগুলোতে সেখানে না হয়েছে প্রয়োজনীয় ড্রেন, না হয়েছে রাস্তা-ঘাট, না আছে মাথা গুঁজার ঠাই। উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত বস্তিবাসীরা।
ইতোমধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে শুর্ব হচ্ছে বস্তিবাসী ও হরিজন পলৱীর উন্নয়ন। রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য জননেতা ফজলে হোসেন বাদশার উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে এ উন্নয়ন কাজ শুর্ব হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে নগরীর তিনটি বস্তির জন্য ২০ লাখ টাকা করে ৬০ লাখ এবং হরিজন পলৱীর উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬০ লাখ টাকা ।
যে সব বস্তি এই উন্নয়নের আওতায় আসবে সেগুলো হচ্ছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ডের নদী ধার সংলগ্ন বোলনপুর বস্তি, ৭ নং ওয়ার্ডের নদী ধার সংলগ্ন শ্রীরামপুর বস্তি ও ২৪ নং ওয়ার্ডের নদী ধার সংলগ্ন বাজে কাজলা বস্তির উন্নয়ন কাজ।
এদিকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৪টি হরিজন পলৱীর উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪ টি হরিজন পলৱীর উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬০ লাখ টাকা। যে সব হরিজন পলৱী এই উন্নয়নের আওতায় আসবে সেগুলো হচ্ছে ৪ নম্বর ওয়ার্ড, ৬ নম্বর ওয়ার্ড, ৭ নম্বর ওয়ার্ড ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের হরিজন পলৱীর উন্নয়ন।
নগরীর বস্তি ও হরিজন পলৱীতে আবাসন,রাস্তা ও ড্রেনের সমস্যা দীর্ঘ দিনের। তারা এই সব সমস্যা সমাধানের জন্য দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘ দিন থেকে। অথচ এই সমস্যা সমাধান হয়নি। রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এসব সমস্যা সচোৰে অবলোকন করেন এবং তাৎৰণিক ভাবে সেখানে রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণের জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে প্রকল্প তৈরির জন্য সুপারিশ করেন এবং এ অর্থবরাদ্দ দেন।
এ সম্পর্কে নগরীর শ্রীরামপুর বস্তির এলাকার বাচ্চু মিয়া ও মোমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা শ্রীরামপুর বস্তিবাসীরা সব সময় বঞ্চিত হই। একমাত্র রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা কিছু দিন পূর্বে এখানে এসে কয়েকটি চাপ কল এবং মসজিদের উন্নয়নের জন্য সাহায্য ও সহযোগিতা করেন। এ এলাকার রাস্তা-ঘাটের অভাব বহুদিনের। রাস্তা ও ড্রেনের অভাবে বর্ষাকালে অসুবিধা হয়। এখানে রাস্তা ও ড্রেনের ব্যবস্থা হলে বস্তিবাসীরা অনেকটাই স্বাচ্ছন্দে বসবাস ও চলাচল করতে পারবে।
৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি বলেন, নগরীর বস্তিবাসী ও হরিজন পলৱীর উন্নয়ন এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য জননেতা ফজলে হোসেন বাদশা এসব এলাকা পরিদর্শনে আসলে এলাকাবাসীর দাবির প্রেৰিতে উন্নয়নের প্রতিশ্র্বতি দেন। তারই অংশ হিসেবে বস্তিএলাকা ও হরিজন জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য অর্থবরাদ্দের ব্যবস্থা করেন। তারই উদ্যোগে বস্তিবাসী ও হরিজন পলৱীর উন্নয়ন কাজ শুর্ব হচ্ছে।
এ সম্পর্কে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, নগরীর বস্তি ও হরিজন পলৱীর উন্নয়নের জন্য সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওয়ার্কঅর্ডার দেয়া হয়েছে। ১ থেকে ২ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।