কাজী নাজমুল ইসলাম: বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষিরা আমন আবাদের যত্ন নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রায় ২০দিন যাবত কাঙিৰত বৃষ্টি নেই এই অঞ্চলে। এতে বেকায়দায় পড়েছেন চাষিরা। বর্তমানে রাজশাহীর আবহাওয়া আবাদের প্রতিকূলে থাকায় চাষিরা ফলন কমে যাবার আশঙ্কা করছেন। তারা ইতিমধ্যে জমিতে সম্পূরক সেচ দেয়া শুর্ব করেছেন।
আমনচাষি ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে এই অঞ্চলের আমন চাষিরা আবাদের যত্ন নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুর্বতে খরার কারণে চাষিরা দুশ্চিন্তায় থাকলেও পরে দফায় দফায় বৃষ্টিতে তারা খুশি হন। এতে এবার রাজশাহীতে আমন আবাদ লৰ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এখন আমনের শীষ বের হচ্ছে। এই অবস্থায় আবারো খরার কবলে পড়েছে এই অঞ্চলের আমন আবাদ।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে এখানে সর্বশেষ গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২১ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এরপর গত ২০ দিনে উলেৱখ করার মত বৃষ্টি হয়নি। এছাড়া গতকাল তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৩৩ দশমিক ৬ এবং সর্বনিম্ন ২৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ এই সময় তাপমাত্রা কম থাকার কথা। একেতো বৃষ্টি নেই, তারপরে তাপমাত্রা বেশি। এতে আমন চাষিরা বেকায়দায় পড়েছেন। এখন ধানের শীষ বের হবার সময় জমিতে পানি না থাকলে চিটা হয়ে ধানের ফলন কমে যাবে। এই অবস্থায় কৃষি বিভাগের পরামর্শে চাষিরা ধানের জমিতে সম্পূরক সেচ দেয়া শুর্ব করেছেন।
পবার তেঘর এলাকার আমনচাষি হুরমত আলী বলেন, এবার তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। তার এলাকার অন্যান্য চাষিরাও ধানের দাম বেশি থাকায় আমনের আবাদ বাড়িয়েছেন। এখন বৃষ্টি না হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। আবাদ ৰতির হাত থেকে রৰা করতে তারা সেচ দেয়া শুর্ব করেছেন। গতকালও তিনি জমিতে সেচ দিয়েছেন।
কৃষিবিদ মঞ্জুরে মাওলা বলেন, ধানের দাম ভালো থাকায় এবার আমন আবাদ লৰ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে আমনে পানির সমস্যা দেখা দেয়ায় সম্পূরক সেচ দেবার জন্য উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে থেকে চাষিদের সার্বৰণিক পরামর্শ দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে রাজশাহীর প্রায় ৯০ ভাগ গভীর-অগভীর নলকূপ থেকে আমনে সেচ দেয়া হচ্ছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার রাজশাহীতে আমন চাষের লৰ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭১ হাজার ৩৩৭ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৭৩ হাজার ৭৫০ হেক্টরে। রাজশাহীতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপৰের গভীর নলকূপ রয়েছে ২ হাজার ৮৮০টি। এর প্রায় ৯০ ভাগ নলকূপ এখন আমনে সেচ দিচ্ছে।