স্টাফ রিপোর্টার: কলেজে চলছে প্রাক-নির্বাচনী পরীৰা। গতকাল বৃহস্পতিবারও ছিল পরীৰা। এই পরীৰা বাদ দিয়েই ছাত্রলীগের ডাকে প্রায় অর্ধশত শিৰার্থী গেল উন্নয়ন মেলার শোভাযাত্রায়। এরা সবাই রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের শিৰার্থী।
শোভাযাত্রাটি বের করা হয়েছিল ছাত্রলীগের এই কলেজ শাখার উদ্যোগে। তবে ছাত্রলীগ নেতাদের দাবি, তাদের অনুসারীরা স্বেচ্ছায় শোভাযাত্রায় গেছেন। কাউকে তারা জোর করে নিয়ে যাননি।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের প্রাক-নির্বাচনী পরীৰা ছিল। এ দিন ছিল বায়োলজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস এবং ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বীমা বিষয়ের পরীৰা। নিয়ম অনুযায়ী, এই পরীৰায় উত্তীর্ণ শিৰার্থীরাই শুধু নির্বাচনী পরীৰায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। সকাল নয়টা থেকে এই পরীৰা শুর্ব হয়। তার আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে ছাত্রলীগের উদ্যোগে উন্নয়ন মেলা উপলৰে কলেজ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়।
প্রত্যৰদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগের ডাকে দ্বিতীয় বর্ষের প্রায় অর্ধশত শিৰার্থী শোভাযাত্রায় যোগদান করে। শোভাযাত্রা শেষে প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে কিছু শিৰার্থী এসে পরীৰা কমিটির সভাপতির সঙ্গে কথা বলে। তারা জানায়, শোভাযাত্রায় যাওয়ার কারণে তারা পরীৰায় অংশ নিতে পারেনি।
পরীৰা কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, শোভাযাত্রায় যাওয়ার কারণে পরীৰা দিতে না পারা কিছু শিৰার্থী তার কাছে এসেছিল। তিনি বলেন, পরীৰার তো একটা সময়সূচি রয়েছে। যখন-তখন এলেই কাউকে পরীৰায় বসতে দেওয়া যায় না।
সায়েদুর রহমান বলেন, যারা শোভাযাত্রা করে দেরিতে এসেছিল তাদের নাম ও রোল নম্বর তিনি টুকে নিয়েছেন। কলেজের অধ্যৰ অসুস্থতা জনিত ছুটিতে রয়েছেন। অধ্যৰ কলেজে এলে তার সঙ্গে আলোচনা করে এসব শিৰার্থীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার ছেলে পরীৰা দিতে গিয়েছিল। পরীৰা বাদ দিয়ে ছাত্রলীগ তাকে রাজশাহী কলেজে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন মেলার শোভাযাত্রায় ধরে নিয়ে গেছে। এ কারণে তার ছেলে পরীৰা দিতে পারেনি। শোভাযাত্রা শেষ করে ফিরতে তাদের প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরি হয়েছে। পরে তাকে আর পরীৰায় বসতে দেওয়া হয়নি।
জানতে চাইলে ছাত্রলীগের নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি মঈনুল হোসেন বলেন, শোভাযাত্রায় প্রথম বর্ষের শিৰার্থীরা গিয়েছিল। আর দ্বিতীয় বর্ষের শুধু তাদের সংগঠনের ১০-১৫জন শিৰার্থী যোগদান করেছিল। তারা স্বেচ্ছায় তাদের সঙ্গে গেছে। কাউকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়নি।