অবশেষে পদ্মা গ্রাস করলো বিদ্যালয়টি

13/08/2018 1:05 am0 commentsViews: 27

লালন উদ্দীন, বাঘা থেকে: অবশেষে পদ্মার করালগ্রাসে চলে গেল বাঘা উপজেলা চকরাজাপুর বিদ্যালয়। শহিদদের স্মৃতি নিয়ে বিদ্যালয়ের একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা শহিদমিনার ও শিৰা প্রতিষ্ঠান এক রাতে গ্রাস করলো রাৰুসী পদ্মা। শনিবার রাত ১টার সময় বিদ্যালয়ের পাকা ভবনটি সম্পূর্ণ চলে যায় পদ্মায়।
২০১২ সালে ভাঙনের কবলে পড়ায় কালীদাশখালি মৌজায় সরিয়ে নেয়া হয়েছিল বিদ্যালয়টি। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে স’ানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণ করে। ১৯৯৮ সালেও ভাঙনের কবলে পড়েছিল বিদ্যালয় ও বাজার। এবারও ভাঙনের কবলে পড়ে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেল বিদ্যালয় ও বাজার। বিদ্যলয়টি ভেঙে পড়ায় লেখাপড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিদ্যালয়ের ৬ শ শিৰার্থী। অবস’ার প্রেৰিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপৰ।
প্রমত্তা পদ্মার ফুলে ফেঁপে ওঠা পানির সঙ্গে পালৱা দিয়ে ভাঙছে পদ্মার পাড়। উত্তাল পদ্মার রুদ্ররূপে শিৰা প্রতিষ্ঠান, বাজার, আবাদি জমি কেড়ে নেয়ার দৃশ্য দেখতে নদীর পাড়ে নির্বাক চিত্তে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ। শুধু ওই বিদ্যালয় ও বাজারই নয়, ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের গোকুলপুর, জোতকাদিরপুর, কিশোরপুর, আলাইপুর, মালিয়ানদহ, চকরাজাপুর ইউনিয়নের দিয়ারকাদিরপুর, টিকটিকিপাড়া, চকরাজাপুর, কালিদাসখালি ও লৰীনগর এলাকা।
রাজশাহীর বাঘায় গত তিন সপ্তাহের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে ১০টি গ্রামের প্রায় দেড় হাজার বিঘা জমিসহ গাছপালা, পেয়ারা বাগান, পাট, আখসহ নানা প্রকার সবজিখেত। এবার ভাঙনের কবলে পড়ে ৰতিগ্রস্ত হয়েছেন পদ্মার তীরবর্তী গোকুলপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম, আজিবার মালিথা, আস্তুল মালিথা, আব্দুল মতিন মালিথা, জোত কাদিরপুর গ্রামের মুনছুর মালিথা, কুদরত আলী, শমসের আলী, পাকুড়িয়ার হাফিজুর রহমান, নয়ন পীর, আসাদুজ্জামান, শরিফুল, আলাইপুরের-চাহার মন্ডল, নাজিম সরকার, নজু প্রামানিক, আজাহার, টুলু ম-ল, তেঁথুল ম-ল, সোবহান মলিৱক, চকরাজাপুর ইউনিয়নের জামাল উদ্দিন, শামসুদ্দিন রেন্টু, আজাদ শেখ, গোলাম মোস্তফা, মনছুর শেখ ও বাবলু দেওয়ানসহ অর্ধ সহস্রাধিক কৃষক।
প্রধানশিৰক আব্দুস সাত্তার জানান, গত ১৪ বছরে ২ বার ভাঙনের কবলে পড়েছে চরাঞ্চলের চকরাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চকরাজাপুর বাজার। ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল আযম ও ফকরুল হাসান বাবলু জানান, গত তিন দশকে ভাঙনের কবলে পড়ে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে দুটি শিৰা প্রতিষ্ঠান, বাজার, রাস্তা-ঘাটসহ হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি। বিভিন্ন সময়ে বসতভিটা হারিয়ে সর্বহারা হয়েছে প্রায় সহস্রাধিক পরিবার।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন রেজা বলেন, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিৰা ও আইসিটি) নাসিমা খাতুন সম্প্রতি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply