সরকারি হলো আরও ২৭১ কলেজ

13/08/2018 1:07 am0 commentsViews: 68

সোনালী ডেস্ক: দেশের আরও ২৭১টি বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল রোববার শিৰা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিৰা বিভাগের উপসচিব নাসিমা খানম স্বাৰরিত এ সংক্রান্ত আদেশটি জারি হয়। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার পর গতকাল এ গেজেট প্রকাশ করা হলো।
সরকারি হওয়া কলেজগুলোর মধ্যে রাজশাহীর সাতটি কলেজ রয়েছে। এগুলো হলো, পবা উপজেলার নওহাটা ডিগ্রি কলেজ, মোহনপুরের মোহনপুর ডিগ্রি কলেজ, গোদাগাড়ীর গোদাগাড়ী কলেজ, বাঘার শাহদৌলা ডিগ্রি কলেজ, তানোরের আবদুল করিম সরকার ডিগ্রি কলেজ, বাগমারার ভবানিগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ এবং দুর্গাপুরের দাওকান্দী ডিগ্রি কলেজ।
নওগাঁ জেলারও ছয়টি কলেজ সরকারি হয়েছে। সেগুলো হলো, ধামুইরহাট উপজেলার ধামুইরহাট এমএম ডিগ্রি কলেজ, পোরশার পোরশা ডিগ্রি কলেজ, মান্দার মান্দা মোমিন শাহানা ডিগ্রি কলেজ, নিয়ামতপুরের নিয়ামতপুর কলেজ, আত্রাইয়ের মোলৱা আজাদ মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ও রাণীনগরের শের-এ বাংলা মহাবিদ্যালয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জেরও দুটি কলেজ সরকারি হয়েছে। সেগুলো হলো, গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউসুফ আলী ডিগ্রি কলেজ ও ভোলাহাটের ভোলাহাট ডিগ্রি কলেজ। আর নাটোরের সরকারি হওয়া তিন কলেজ হলো, নলডাঙ্গা উপজেলার শহীদ নজমুল হক ডিগ্রি কলেজ, বাগাতিপাড়ার বাগাতিপাড়া ডিগ্রি কলেজ এবং বড়াইগ্রামের বড়াইগ্রাম আদর্শ কলেজ।
এছাড়া সারাদেশের অন্য কলেজগুলোর মধ্যে ঢাকা জেলার ৪টি, মানিকগঞ্জের ৪টি, নারয়ণগঞ্জের ৩টি, মুন্সীগঞ্জের ৩টি, গাজীপুরের ৩টি, নরসিংদীর ৪টি, রাজবাড়ির ২টি, শরীয়তপুরের ৪টি, ময়মনসিংহের ৮টি, কিশোরগঞ্জে ১০টি, নেত্রকোনার ৫টি, টাঙ্গাইলের ৮টি, জামালপুরের ৩টি, শেরপুরে ৩টি, চট্টগ্রামে ১০টি, কক্সবাজারের ৫টি, রাঙামাটির ৪টি, খাগড়াছড়ির ৬টি, বান্দরবানের ৩টি, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীতে একটি করে, কুমিলৱার ১০টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি, চাঁদপুরের ৭টি, সিলেটের ৯টি, হবিগঞ্জের ৫টি, মৌলভীবাজারের ৫টি, সুনামগঞ্জের ৮টি, পাবনার ৭টি, সিরাজগঞ্জের ৩টি, বগুড়ার ৬টি, রংপুরের ৭টি, নীলফামারীতে ৪টি, গাইবান্ধায় ৪টি, কুড়িগ্রামে ৭টি, দিনাজপুরে ৯টি লালমনিরহাটে ৩টি, পঞ্চগড়ে ৪টি, খুলনায় ৫টি, যশোরে ৫টি, বাগেরহাটে ৬টি, ঝিনাইদহে একটি, কুষ্টিয়ায় ২টি, চুয়াডাঙ্গায় ২টি, সাতৰীরায় ২টি, মাগুরায় ৩টি, নড়াইলে একটি, বরিশালে ৬টি, ভোলায় ৪টি, ঝালকাঠিতে ৩টি, পিরোজপুরে দুটি, পটুয়াখালীর ৬টি ও বরগুনার তিনটি করে কলেজ রয়েছে।
এই ২৭১টি বেসরকারি কলেজ সরকারি হওয়ার পর পর দেশে মোট সরকারি কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৯৮টি। এ ২৭১টি কলেজে রয়েছেন অন্তত ১০ হাজার শিৰক-কর্মচারী। গতকাল থেকেই তারা সরকারি বেতন-ভাতাসহ সব সুবিধা পাবেন।
শিৰা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ২০১০ সালে সরকারি স্কুল ও কলেজবিহীন উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘোষণার পরিপ্রেৰিতে বিভিন্ন সময়ে ৩২৯টি স্কুল ও ২৯৯টি কলেজ জাতীয়করণে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মতিপ্রাপ্ত শিৰাপ্রতিষ্ঠানগুলো মাউশির (মাধ্যমিক ও উচ্চশিৰা অধিদপ্তর) কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে স’াবর, অস’াবর সম্পদ, শিৰক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত তথ্যসহ আনুষঙ্গিক সব তথ্য সংগ্রহ করে শিৰা মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত শিৰাপ্রতিষ্ঠনের সব সম্পত্তি সরকারকে ডিড অব গিফট (দানপত্র) দলিল করে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। স্কুলগুলো ধাপে ধাপে জাতীয়করণ করা হলে বিসিএস সাধারণ শিৰক সমিতির চাপে আটকে যায় কলেজ সরকারিকরণ।
এর আগে মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি কলেজ শাখার এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিপ্রাপ্ত ২৯৩টি কলেজ সরকারি করতে অর্থ ছাড়ের সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রতি বছর ১০০ কলেজ জাতীয়করণের প্রস্তাব দিয়ে গত বছরের ১৪ ফেব্র্বয়ারি শিৰা মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়েছিল। তিন ধাপে জাতীয়করণ হলে অসম প্রতিযোগিতা ও ঘুষ দুর্নীতির আশঙ্কায় একসঙ্গে জাতীয়করণ করতে পাল্টা চিঠি দেয় শিৰা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত গড়ালে শেষ পর্যন্ত পিছু হটে অর্থ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার এক কর্মকর্তা জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্কুল-কলেজ জাতীয়করণে অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো বরাদ্দ রাখেনি। জাতীয়করণসহ চার হাজার ৯৭১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বাড়তি বরাদ্দ চেয়ে গত ১২ ফেব্র্বয়ারি অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখেন সচিব মো. সোহরাব হোসাইন।
চিঠিতে তিনি লেখেন, ৩২৯টি স্কুল ও ২৯৯টি কলেজ সরকারিকরণের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে সরকারিকরণ কার্যক্রমের জন্য চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়নি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে নতুন সরকারিকরণকৃত শিৰাপ্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ শুর্ব হচ্ছে। এজন্য আগামী অর্থবছরে সরকারিকরণকৃত ৩২৭টি স্কুলের জন্য ৩৪৯ কোটি ৪০ লাখ ৬০ হাজার এবং ২৯৯টি কলেজের জন্য ৬২৬ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন। দেশে বর্তমানে ৩৩৫টি সরকারি কলেজ রয়েছে। ৩১৫টি উপজেলায় কোনো সরকারি কলেজ নেই।

Leave a Reply