শোকের মাস আগস্ট

13/08/2018 1:06 am0 commentsViews: 5

স্টাফ রিপোর্টার: আজ ১৩ আগস্ট। শোকাবহ আগস্টের ১৩ তম দিন। নানান কর্মসূচিতে রাজশাহীসহ সারাদেশে পালন করা হচ্ছে এই মাস।
আগস্ট মাসটি বাঙালি জাতির জীবনে শুধু শোকেরই নয় এটি একটি চরম অভিশপ্ত মাসও বটে। কেননা- এ মাসেই ঘটেছিল বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কলঙ্কজনক ঘটনাটি। ঘাতকদের হাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। ৭৫’র ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশের অগ্রগতি পিছিয়ে দেয়।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনিরা আস্ফালন করে বলেছিল, পৃথিবীতে তাদের বিচার করার কারো সাধ্য নেই। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস ৭৫’র ১৫ আগস্টের ঘাতকদেরও ফাঁসি হলো এই বাংলার মাটিতেই।
বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির সকল আন্দোলনেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনের স’পতি ছিলেন তিনি। এই ৬ দফাকে কেন্দ্র করেই বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা এবং তা পরিণতি লাভ করে। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন রাষ্ট্রের সকল ৰেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর হিসাব ছিল ভিন্ন রকমের। তারা বাঙালিদের কখনই তাদের প্রাপ্য অধিকার দিতে চায়নি।
বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত রাউন্ড টেবিল কনফারেন্সে ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশ করেন। বঙ্গবন্ধু লিখিতভাবে এই ৬ দফা অতিগোপনে নিজের পকেটে রেখেছিলেন। তিনি কাউকে সেটি জানতেও দেননি।
ওই বৈঠকে যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু তিনি ঘৃণাভরে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। বঙ্গবন্ধু শর্ত দেন তার সাথে আটক অন্যান্য জাতীয় নেতাকেও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। পাক সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুর এ দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। এরপর তিনি লাহোর কনফারেন্সে যোগ দেন। ওই সম্মেলনে তিনি অত্যন্ত নির্ভীকভাবে ৬ দফা উপস’াপন করেন। এই ৬ দফার অন্যতম ছিল পাকিস্তানের উভয় অংশের জন্য পৃথক মুদ্রানীতি, দুইটি পৃথক রিজার্ভ ব্যাংক, বৈদেশিক বাণিজ্যের ৰেত্রে পৃথক চুক্তি সম্পাদনের অধিকার, পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন ইত্যাদি। বস্তুত এই ৬ দফাকে কেন্দ্র করেই ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। তারই ধারাবাহিকতায় একাত্তরের মুক্তি সংগ্রামেরও সূচনা হয়।

Leave a Reply