পদ্মাপাড়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ

11/08/2018 1:10 am0 commentsViews: 378

রিমন রহমান: কয়েক মাস আগেও পুরো এলাকায় ছিল অবৈধ বসতি। তবে এখন সেখানে গড়ে উঠছে বহুতল ভবন। বস্তিবাসীকে পুনর্বাসন করে এগিয়ে চলছে বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটির নির্মাণ কাজ। রাজশাহী মহানগরীর জিয়ানগর এলাকায় অবকাঠামোগত নির্মাণের মধ্য দিয়ে যেন ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে একটি তথ্য-প্রযুক্তির নগর।
সংশিৱষ্টরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির আদলে এ সিলিকন সিটি নির্মিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো এবং সান হোসে শহরের মাঝামাঝিতে ৩শ’ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা সিলিকন ভ্যালি ইন্টারনেট সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। সেটির আদলে গড়ে উঠতে যাওয়া রাজশাহীর এ সিলিকন সিটিতেও তৈরি হবে বিশ্বমানের প্রযুক্তি পণ্য।
জিয়ানগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সিলিকন সিটি নির্মাণে ভূমি উন্নয়নের শেষ পর্যায়ের কাজ এখন চলছে। ‘রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে। পুকুরসহ উঁচু-নিচু পুরো এলাকাটি বালু দিয়ে ভরাটের কাজ প্রায় শেষ। সিলিকন সিটির ভেতরে পাঁচতলা একটি প্রশিৰণ ভবন নির্মাণের কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। ‘আনোয়ার ল্যান্ড মার্ক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে।
সিলিকন সিটির ১২ তলা বিশিষ্ট মূল ভবনটি যৌথভাবে নির্মাণ করবে ‘সামসুদ্দিন মিয়া অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড’, ‘হামিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’ ও ‘পিইবি স্টিল অ্যালাইন্স’। সামসুদ্দিন মিয়া অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটের প্রকল্প ব্যবস’াপক প্রকৌশলী মুনির হোসাইন জানান, মূল ভবন নির্মাণে মাটি পরীৰার কাজ শেষ হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই ভবনটি নির্মাণের কাজ শুর্ব হবে।
সিলিকন সিটি নির্মাণের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ভিত্তি’র কর্মকর্তা রাক্কিনী হালদার বলেন, সিলিকন সিটি নির্মাণের প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল বস্তিবাসিদের পুনর্বাসন করে ভূমি অধিগ্রহণ। কাজের প্রথম ধাপেই সেটি সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে কাজ শুর্ব হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে তারা আশা করছেন।
তিনি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে সিলিকন সিটি চালু হবে। এতে প্রযুক্তিনির্ভর বিপুল সংখ্যক তার্বণ্যদের জন্য মিলবে স্বপ্নের নতুন ঠিকানা। খুলবে কর্মসংস’ানের দুয়ার। এছাড়া শিৰানগরী রাজশাহীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ধরনের অবদান রাখবে এ সিলিকন সিটি।
রাজশাহীতে তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর এই সিলিকন সিটি নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। পরে একনেকের এক সভায় সিলিকন সিটি নির্মাণের এ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। পদ্মা নদীর তীরে প্রায় ৩২ একর জমির ওপর এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে এর নির্মাণ কাজ চলছে।
সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক নির্মাণের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বপ্ন সফল হতে চলেছে। এ সিলিকন সিটির কাজ শেষ হলে ১৪ হাজার তর্বণের কর্মসংস’ান হবে, যা রাজশাহীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ধরনের অবদান রাখবে। এছাড়া পরোৰভাবে আরও ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস’ানের ব্যবস’া হবে এই সিলিকন সিটির মাধ্যমে।
এদিকে সিলিকন সিটির কাজ শুর্ব হওয়ার পর থেকেই নতুন স্বপ্ন দানা বাঁধতে শুর্ব করেছে রাজশাহীর তর্বণদের মধ্যে। এ ব্যাপারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিৰার্থী আখের্বজ্জামান বলেন, সিলিকন সিটি চালু হলে আমাদের মতো শিৰার্থীদের চাকরির জন্য আর দৌড়াতে হবে না। এটি আমাদের জন্য সুখবর, রাজশাহীর জন্য সুখবর। দেশের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত এটি।
নবনির্বাচিত সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন বলেন, সিলিকন সিটি রাজশাহীর স্বপ্ন। এটি এখন বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। এর মাধ্যমে ২০২১ সাল নাগাদ রাজশাহীকে সারা বিশ্বই চিনবে। সিলিকন সিটিতে প্রথমে প্রশিৰণ ও পরে কাজ দেওয়া হবে আগ্রহীদের। তাই দ্র্বত এর নির্মাণ কাজ শেষ করতে আমার প্রচেষ্টা থাকবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, সিলিকন সিটির নির্মাণ কাজ শেষে এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা চাঙ্গা হবে। বিপুল সংখ্যক তর্বণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে। বাড়বে এ খাতে কর্মসংস’ান। ফলে কাজের জন্য উত্তরাঞ্চল থেকে রাজধানীমুখী মানুষের সংখ্যাও কমে আসবে। তাই এটিকে নিয়ে আমাদের অনেক বড় স্বপ্ন। এটি দ্র্বত বাস্তবায়ন হতে চলেছে তা ভাবতেই ভালো লাগছে।

Leave a Reply