শোকের মাস আগস্ট

11/08/2018 1:07 am0 commentsViews: 14

স্টাফ রিপোর্টার: আজ ১১ আগস্ট। শোকাবহ আগস্টের একাদশতম দিন। অতি কর্বণ স্মৃতি বিজড়িত এ মাসে বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ঢাকায় ফিরে পাকিস্তানীদের দূরভিসন্ধি বুঝতে পারেন। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন তর্বণ শেখ মুজিব তখনই বুঝতে পেরেছিলেন নিজের মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য বাঙ্গালি জাতিকে আবারো লড়তে হবে।
এর পর প্রথমেই আঘাত আসে মাতৃভাষা বাংলার উপর। বঙ্গবন্ধু র্বখে দাঁড়ান পাকিস্তানী এ ষড়যন্ত্রের বির্বদ্ধে। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। আর তখন থেকেই তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে শুর্ব করেন। এর সূত্র ধরেই পাকিস্তানী ষড়যন্ত্রের বির্বদ্ধে পূর্ববাংলায় আন্দোলন গড়ে উঠে। জেলে থেকে বঙ্গবন্ধু এ আন্দোলনের উৎসাহ যোগাতে থাকেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফের্বয়ারি ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ পায়। এদিন ঢাকার রাজপথে শহীদ হন রফিক, জব্বার, সালাম, বরকতসহ আরো অনেকে। মূলত: বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজ রোপিত হয় সেদিনই। এরপর আস্তে আস্তে স্বাধীনতার সংগ্রাম এগুতে থাকে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৎকালীন পূর্ববঙ্গে প্রতিটি সংগ্রাম-আন্দোলনের অগ্রপথিক।
তারই ধারবাহিকতায় ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালির মুক্তি সনদ ৬ দফা জাতির সামনে পেশ করেন। ৬ দফাকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ অকুণ্ঠ সমর্থন করে। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়। তার বির্বদ্ধে শুর্ব করা হয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের জোয়ারে ভেসে যায় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। জেল থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু সমগ্র জাতির নেতৃত্বের হাল ধরেন। তিনি হয়ে উঠেন সমগ্র বাঙ্গালি জাতির মুকুটহীন সম্রাট। এরপর আসে সত্তরের নির্বাচন। বঙ্গবন্ধু নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ত। এরই মধ্যে ১২ নভেম্বর রাতে ইতিহাসের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকায়। লাখ লাখ মানুষ মারা যায় ওই ঘূর্ণিঝড়ে। গৃহহারা হয় অসংখ্য মানুষ। অথচ পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী বাংলার দুর্গত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। বঙ্গবন্ধু ও তার দল নির্বাচনি প্রচারণা ফেলে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান ত্রাণ সহায়তা নিয়ে। তিনি গঠন করেন ত্রাণ কমিটি। বাংলার মানুষ মুক্তহস্তে দান করতে থাকে বঙ্গবন্ধুর ত্রাণ তহবিলে। তিনি একাধারে নির্বাচন ও দুর্গত মানুষের ত্রাণ সহায়তা অতি দৰতার সাথে একহাতে সামলাতে থাকেন। নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়। কিন্তু পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী বিজয়ী দলের নেতা বঙ্গবন্ধুর কাছে ৰমতা হস্তান্তর করে না। এতে ফুঁসে উঠে বাঙ্গালি জাতি।
এরপর আসে ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের সেই ভয়াঙ্কর কালরাত। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র বাঙ্গালিদের উপর। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুর্ব হয় সশস্ত্র যুদ্ধ। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম। অবশ্য জাতির জনকের সামনে যতগুলো চ্যালেঞ্জ এসেছিল তিনি তার সবগুলোই সফলভাবে মোকাবিলা করেছেন।
দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে জাতির জনক ফিরে আসেন তার প্রিয় দেশবাসীর কাছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৭৪ সালে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। বঙ্গবন্ধু গ্রামে গ্রামে হাজার হাজার লঙ্গরখানা খুলে দরিদ্র মানুষের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। সফলভাবে তিনি দেশের খাদ্যাভাব মোকাবিলা করেন। এরপর দেশকে খাদ্যে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে দ্বিতীয় বিপৱবের ডাক দেন। তিনি বলেন, এক ইঞ্চি অনাবাদি জমি ফেলে রাখা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর সবুজ বিপৱবের ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে। অল্পদিনের মধ্যেই বেড়ে যায় দেশের খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া কৃষক লীগের কর্মীরা মাঠে মাঠে গিয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। চালের দাম কমে যায়।
দেশ যখন খাদ্যে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছে এ সময়ে ষড়যন্ত্রকারীরা জাতির জনকে হত্যার ষড়যন্ত শুর্ব করে। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশের অগ্রগতি পিছিয়ে দেয়।

Leave a Reply