পথচারীদের আতংক বেওয়ারিশ কুকুর

10/08/2018 1:10 am0 commentsViews: 47

বিশেষ প্রতিনিধি : রাস্তায় পথচারিদের জন্য আতংক হয়ে উঠেছে বেওয়ারিশ কুকুর। নগরীর রাজপথ থেকে অলি গলি সর্বত্রই বিচরণ বেওয়ারিশ কুকুরের। প্রভুভক্ত এই প্রাণিটি এখন নগরবাসীর কাছে হুমকি হয়ে উঠেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বন্ধ থাকায় দিন দিন এর সংখ্যা বেড়ে চলেছে।
নগরী জুড়ে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আতংকিত নগরবাসী। নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক, হাট-বাজার, বিশেষ করে গোশত পট্টিসহ পাড়া-মহলৱার অলিগলিতে বেওয়ারিশ কুকুরের দাপাদাপিতে শিশুসহ বয়স্করাও আতংকিত হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে ভ্যাকসিন প্রাপ্তি সহজলভ্য না হওয়ায় ওঝা,কবিরাজের শরণাপন্ন হচ্ছেন কুকুর আক্রান্ত অনেকে।
নগরীর হড়গ্রাম বাজারের গোশত পট্টি, কোর্ট অ্যাকাডেমি স্কুলের সামনের রাস্তায়, লক্ষ্মীপুর বাজার, সাহেব বাজার, কাজলা, তালাইমারী, শিরোইল এলাকা, মিশন হাসপাতালের মোড়সহ প্রায় সর্বত্র দল বেধে ঘুরতে দেখা যায় বেওয়ারিশ কুকুর। নগরীর কাজলা ধরমপুর এলাকার একজন ভুক্তভোগি বলেন, দল বেধে চলা কুকুরের দাপাদাপিতে রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা একা কোন পথচারিকে পেলে ঘিরে ধরে এসব কুকুরের দল। কুকুরের হাত থেকে রৰা পেতে অনেক সময় বেকাদায় পড়তে হয় মানুষকে। কোন কোন ৰেত্রে পড়তে হয় দুর্ঘটনার কবলে। চলন্ত যানবাহনের ওপরও চড়াও হয় এসব কুকুর।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মোঃ মামুন ডলারের সাথে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান, কুকুর নিধনে আদালতের বিধি নিষেধ আছে। তবে নির্দিষ্ট করে কোন এলাকার মানুষ নির্দিষ্ট কোন কুকুর সম্পর্কে অভিযোগ করলে প্রধান স্বাস’্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ব্যবস’া নেয়া হবে। অন্যদিকে কুকুরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসি কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোন বিকল্প ব্যবস’া গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। কুকুরের কামড় বা আঁচড়ে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ।
জলাতঙ্ক একটি ভাইরাসজনিত প্রাণঘাতি রোগ। যা কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বানর প্রভৃতি প্রাণির দ্বারা আক্রান্ত মানুষ বা প্রাণির শরীরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এক সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন থেকে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হত যা এখন বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাসিকের স্বাস’্য কর্মকর্তা ডাঃ আঞ্জুমান আরার সাথে কথা বললে তিনি প্রতিনিধিকে জানান, ভ্যাকসিন এখন রাজশাহী মেডিকেলের বর্হিঃবিভাগ এবং উপজেলা স্বাস’্য কেন্দ্র থেকে দেয়া হয়। মেডিকেলের স্টোর কর্মকর্তা ডাঃ আলী আকবর জানান, এ মুহূর্তে ভ্যাকসিনের কোন ঘাটতি নাই। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন কুকুর আক্রান্ত ব্যক্তিকে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে কুকুর নিধন বন্ধ থাকায় কুকুরকে ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে বিষমুক্ত রাখার বিষয়টি গুর্বত্ব দিয়ে বিবেচনা করা জর্বরি বলে মনে করেন অনেকে। এ প্রসঙ্গে প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় রাজশাহী জেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. জুলফিকার মোঃ আকতার হোসেন বলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন চাইলে আমরা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারি। তবে এ ৰেত্রে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এই ভ্যাকসিন সংরৰণে। কারণ এই ভ্যাকসিনটি সংরৰণ করতে হয় মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। যে ব্যবস’া আমাদের নাই।
গত দুই বছর আগের এক সমীৰা মতে দেশে কুকুরের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ যার বেশির ভাগই বেওয়ারিশ। আর নিধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে এই সংখ্যা। অদূর ভবিষ্যতে কুকুরের কারণে রাস্তায় চলাচল করাই দায় হয়ে পড়বে এমনটাই মনে করছেন নগরবাসী। প্রতি বছর ৩ থেকে ৪ লাখ লোক কুকুর দ্বারা আক্রান্ত হয়। কুকুরের কামড় বা আঁচড়ে জলাতঙ্ক রোগে আক্রন্ত হয় মানুষ। কিন’ বর্তমান বিশ্বে কোনো প্রাণি হত্যা সমর্থন না করার কারণে নগরীতেও বেওয়ারিশ কুকুর নিধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে নিধন, নিয়ন্ত্রণ বা যে কোন পন’ায় হোক না কেন বেওয়ারিশ কুকুরের তা-ব থেকে মুক্তি চা্‌য় মানুষ।

Leave a Reply