সড়কের শৃঙ্খলা নিশ্চিত কর্বন

09/08/2018 1:04 am0 commentsViews: 5

রাজধানীতে সপ্তাহখানেকের নিরাপদ সড়কের আন্দোলন এখন থেমে গেছে। সরকারের আশ্বাস ও পদৰেপই শিৰার্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছে। তবে কোমলমতি শিৰার্থীদের আন্দোলন নিয়ে পর্যালোচনা চলছে সর্বত্র। চলবে আরও কিছুদিন। এর মধ্যেই আন্দোলনের কিছু কিছু সুফল পেতে শুর্ব করেছে রাজশাহীর শিৰার্থীরাও। ঘরে বসে থাকতে না পেরে তারাও রাস্তায় থেমে আসাতেই এটা সম্ভব হয়েছে। প্রমাণ হয়েছে কোনো আন্দোলনই বৃথা যায় না।
এক কোম্পানীর দুই বাসের প্রতিযোগিতায় ডজন খানেক শিৰার্থীর হতাহত হবার ঘটনা যে ৰোভের আগুন ছড়িয়ে দিয়েছিল তাতে দীর্ঘদিনের সড়কের চিত্রই পাল্টে গেছে। সড়কের বিশৃঙ্খলাই যে নিয়মে পরিণত হয়েছিল সেটাও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে শিশু শিৰার্থীরা। বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই রাস্তায় চলাচলরত গাড়ি ও চালকদের ধরে ধরে তারা যে অভিযান শুর্ব করে তা এখন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। দেশজুড়ে শুর্ব হয়েছে বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ। রাস্তায় গাড়ি ও চালকদের বৈধতাই শুধু পরীৰা হচ্ছে না, চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন শিৰা প্রতিষ্ঠানের সামনে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্পিড ব্রেকার নির্মিত হয়েছে শিৰার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। রাস্তা পারাপারের সহায়তা করে প্রশংসাও পাচ্ছেন কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ। শিৰার্থীরা রাস্তায় নেমে না আসলে এ সবের কিছুই হতো না, নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কেও একই কথা বলা যায়। সরকারের উদ্যোগ সত্ত্বেও এই আইনের কাজ আটকে ছিল। আন্দোলনের ফলেই এখন তা দ্র্বত মন্ত্রীসভায় অনুমোদন পেয়েছে। জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়ে তার দ্র্বত বাস্তবায়নই দেখতে চায় সবাই। আর কোনো প্রভাবশালী মহল যাতে কলকাঠি নেড়ে এৰেত্রে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে সেদিকে সবারই প্রখর দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
রাস্তায় নিবন্ধনহীন গাড়ি ও চালকের দৌরাত্ম বন্ধ না হলে সব কিছুই অর্থহীন হয়ে পড়বে। দীর্ঘদিন ধরে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ না হওয়ার কারণ চিহ্নিত ও দূর করাও জর্বরি। নইলে আবারও সড়ক অরাজকতায় ভরে উঠবে। যা কারোরই কাম্য হতে পারে না।
যে কোনো মূল্যে সড়কের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করেই শিশু-কিশোর শিৰার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের যৌক্তিকতা প্রমাণ করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীসহ সবার মুখেই যে আশ্বাস পেয়ে শিৰার্থীরা শান্ত হয়েছে তার প্রতি সম্মান দেখানো সবারই অবশ্য কর্তব্য বলেই আমাদের ধারণা।

Leave a Reply