রাজশাহীর আমচাষিরা বঞ্চিত

08/08/2018 1:10 am0 commentsViews: 59

তৈয়বুর রহমান: এ অঞ্চলের সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য হচ্ছে আম। একমাত্র আম রপ্তানি করেই কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। কয়েক বছর যাবৎ বিদেশে আম রপ্তানি করে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করছে। এবারও রাজশাহী থেকে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২৫ দশমিক ২৯ মে.টন আম। অথচ লৰ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০০ মে. টন। আম রপ্তানির লৰ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় কৃষকের ৰতির পরিমাণ কত, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তা জানাতে পারেনি।।
আম উৎপাদনে সমৃদ্ধ অঞ্চল রাজশাহী। এখানে মোট আবাদি জমির ১০ ভাগ জমিই দখল করেছে আমচাষিরা। ইতোমধ্যে আম রপ্তানিতে সৰম হয়েছে তারা। তাই আম রপ্তানি করে রাজশাহীর আমচাষিরা অর্থনৈতিক দিক থেকে যেমন স্বাবলম্বি হতে পারে তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে দেশও লাভবান হতে পারে। রাজশাহী অঞ্চলের আম এমন একটি সুমিষ্ট ফল যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। সে কারণেই বিদেশে এই আমের চাহিদাও প্রচুর। বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকায় এর চাহিদা বেশি। তাই পরিচর্যা করলেই রাজশাহীর আম চাষিদের জন্য হয়ে উঠতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান মাধ্যম।
২০১৭ সালে এখান থেকে আম রপ্তানি হয়েছিল ৩০ মে.টন। ২০১৮ সালে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২৫ দশমিক ২৯ মে. টন। গতবারের চেয়ে এবার প্রায় ৫ মে. টন আম কম রপ্তানি হয়েছে। অথচ এবার রাজশাহীতে রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদন হয়েছে। আম উৎপাদনের পরিস্থিতি দেখে এবার আম রপ্তানির লৰ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০০ মে. টন। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করতে না পারায় আম রপ্তানির লৰ্যমাত্রা নামিয়ে ৫০ মে. টনে আনা হলেও তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। মাত্র ২৫ দশমিক ২৯ মে.টন আম রপ্তানি করতে পেরেছে রাজশাহীর আমচাষিরা। মানসম্পন্ন রপ্তানিযোগ্য আম না পাওয়াই এর কারণ। এ তথ্য রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের। এতে কোটি টাকার অধিক আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে রাজশাহীর আমচাষিরা।
এদিকে, বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার সাবিনা বেগম বলেন, এ অঞ্চল থেকে যা আম রপ্তানি হয় তার সিংহভাগই হয় বাঘা থেকে। যে সব আম রপ্তানি হয়েছে সেগুলোর মধ্যে খিরসাপাত, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, লৰ্না, হিমসাগর অন্যতম।
এসব আম বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের দেশগুলোতে রপ্তানি হয়ে থাকে। সেখানে একেবারে নিখুঁত এবং দাগবিহীন আম পাঠানো হয়ে থাকে। এছাড়া কোন আম সেখানে চলে না। এবার আমে প্রচুর স্পট থাকায় ফলন বেশি হবার পরও প্রয়োজনীয় আম রপ্তানি সম্ভব হয়নি। এর জন্য অতিরিক্ত কীটপতঙ্গ ও মশা-মাছির উপদ্রবকে দায়ি করেছেন সাবিনা বেগম।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে গতবছর আম রপ্তানি হয়েছিল ৩০ মে.টন। গত বছরের চেয়ে এবারের আম রপ্তানির লৰ্যমাত্রা ২০ মেট্রিক টন বেশি ধরা হয়েছে। এবার আমের আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৩ হেক্টর। এতে আম উৎপাদনের লৰ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৫৫৬ মে. টন।
এদিকে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে যে, ২০১৭ সালে আমের আবাদ হয়েছিল ১৭ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে। এতে আমের উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৮ হা্‌জার ৬৬৫ মে. টন। এবার রাজশাহীতে রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার আম উৎপাদন ৯১ মে. টন বেশি হয়েছে বলে তারা জানান।
গত ১৮ জুন রাজশাহী থেকে আম রপ্তানি হয়েছে ৮.৬২ মে. টন অর্থাৎ ৮ হাজার ৬শ’ ৫০ কেজি। ১৯ জুন রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৯শ’ কেজি আম। এ পর্যন্ত সর্বসাকুল্যে আম রপ্তানি হয়েছে ২৫ দশমিক ২৯ মে. টন আম। যে সব আম রপ্তানিতে অযোগ্য হিসেবে ঘোষিত তা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আম চাষিরা। কৃষকরা ঐ সব দাগধরা আম এখন বাজারে কম দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, পঞ্চাশ থেকে একশ’ টাকা কেজি দরে।

Leave a Reply