শিৰার্থীদের রাস্তা পারাপারে পুলিশ

08/08/2018 1:09 am0 commentsViews: 123

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার এলাকায় সরাৰণ অটোরিকশার যানজট লেগেই থাকে। এই রাস্তাটির পাশেই রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল। রাস্তা পার হয়ে স্কুলে ঢুকতে বেগ পেতে হয় শিৰার্থীদের। ছুটি হলে ফেরার পথেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। তবে গত সোমবার থেকে স্কুলটির শিৰার্থীদের রাস্তা পারাপার করে দিতে দেখা যাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের একজন সদস্যকে।
শিৰার্থীরা রাস্তা পারাপার হচ্ছেন দেখলে ট্রাফিক পুলিশের ওই সদস্যই এগিয়ে যাচ্ছেন। হাত দেখিয়ে অটোরিকশা থামিয়ে শিৰার্থীদের নিরাপদে রাস্তা পার করে দিচ্ছেন। ট্রাফিক পুলিশের এমন তৎপরতায় শিৰার্থীরা খুশি। সেই সঙ্গে খুশি স্কুলের শিৰক এবং শিৰার্থীদের অভিভাবকেরাও। তারা আশা করছেন, ট্রাফিক পুলিশের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক।
রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিৰক ড. নূরজাহান বেগম বলেন, এটি পুলিশের একটি ভালো উদ্যোগ। ব্যস্ততম সড়কের পাশে স্কুল হওয়ায় আগে শিৰার্থীদের পারাপার হওয়া নিয়েই অনেক দুশ্চিন্তা করতাম। এখন এ দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে গেছে। বাচ্চারা নিরাপদে স্কুলে আসতে পারছে। স্কুল শেষে তারা একইভাবে বাড়ি ফিরছে।
কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র রিফাত শাহরিয়ার বলে, স্কুলের গেটের সামান্য পশ্চিম দিয়ে অটোরিকশাগুলো ইউটার্ন নেয়। তাই সেখানে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। এ অবস্থায় তাদের রাস্তা পারাপার হতে খুব সমস্যা হতো। এখন তারা ট্রাফিক পুলিশের হাত ধরে অনেকটাই নিরাপদে রাস্তা পারাপার হতে পারছে।
নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়েও সবসময় অটোজট লেগে থাকে। এখানে রাস্তার পাশেই একটি বালিকা বিদ্যালয় রয়েছে। স্কুলটির সপ্তম শ্রেণির শিৰার্থী তাসনিম খাতুনের মা আনোয়ারা খাতুন বলেন, স্কুলের সামনে খুব যানজট বলে নিজেই মেয়েকে রাস্তা পার করে দিতে আসি। অটোরিকশাগুলো গায়ের ওপর উঠে পড়ে, কিন্তু থামে না। এখন ট্রাফিক পুলিশকে শিৰার্থীদের রাস্তা পার করে দিতে দেখে স্বস্তি পাচ্ছি। আগামীতেও যেন এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
গত ২৯ জুলাই ঢাকার কুর্মিটোলায় বাসচাপায় দুই শিৰার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় সারাদেশে শিৰার্থীদের বিৰোভ ছড়িয়ে পড়ে। দাবি ওঠে নিরাপদ সড়কের। এ দাবিতে রাজশাহীতেও আন্দোলন শুর্ব করে শিৰার্থীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ২ আগস্ট রাজশাহীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রধান এবং পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের।
সভায় তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিটি স্কুলের সামনে সকালে বাচ্চারা যখন স্কুলে ঢুকবে এবং বিকালে যখন ছুটি হবে তখন একজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তারা শিৰার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার করে দেবেন। এতে দুর্ঘটনা কমবে। স্কুলের সামনে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের জন্য তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও দেন।
গতকাল মঙ্গলবার এ নিয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনার ভিত্তিতে আমি পুলিশকে ওই নির্দেশনা দিয়েছিলাম। পুলিশের পৰ থেকে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মহানগরীর স্কুল-কলেজগুলোর সামনে ইতোমধ্যে গতিরোধকও নির্মাণ করা হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, রাজশাহী শহরে ১৩টি শিৰাপ্রতিষ্ঠান একেবারেই রাস্তার পাশে। আরএমপি কমিশনারের নির্দেশনা মোতাবেক এই শিৰাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে একজন করে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে নিযুক্ত করা হচ্ছে। সকালে স্কুলে ঢোকা এবং ছুটির পর বের হওয়ার সময় তারা শিৰার্থীদের রাস্তা পারাপার করে দিচ্ছেন। সোমবার থেকে শুর্ব হওয়া ট্রাফিক পুলিশের এ কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান ইফতেখায়ের আলম।

Leave a Reply