শোকের মাস আগস্ট

07/08/2018 1:06 am0 commentsViews: 3

স্টাফ রিপোর্টার: আজ ৭ আগস্ট। শোকাবহ আগস্টের সপ্তম দিন। নানান কর্মসূচিতে রাজশাহীসহ সারাদেশে পালন করা হচ্ছে এই মাস।
জেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচী অনুযায়ি আজ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধায় নগরীর লৰীপুর মোড়ে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।
আগস্ট মাসটি বাঙ্গালি জাতির জীবনে শুধু শোকেরই নয় এটি একটি চরম অভিশপ্ত মাসও বটে। কেননা- এ মাসেই ঘটেছিল বাঙ্গালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কলঙ্কজনক ঘটনাটি। ঘাতকদের হাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে যেখানেই ভূমিকা রেখেছেন তাকে ছায়ার মত আগলে রেখে উৎসাহ যুগিয়েছিলেন তার সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধুর জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের সঙ্গী ছিলেন বেগম মুজিব। এই মহীয়সী নারী মানবসেবায় সারাজীবন নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। বেগম মুজিব এবং মুজিব ভাবী নামে রাজনৈতিক সহকর্মীদের কাছে তিনি শ্রদ্ধার পাত্রী ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যতবার কারার্বদ্ধ হয়েছেন সন্তান-পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের বেগম মুজিব সাহস যুগিয়েছেন। আওয়ামী লীগের ইতিহাস এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই মহীয়সী নারীর অবদান অসামান্য। একজন আটপৌরে বাঙ্গালি নারীর বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছিলেন তিনি। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, বিরহ-বেদনায় তিনি ছিলেন প্রেরণার উৎস। নিরবে-নিভৃতে তিনি বঙ্গবন্ধুকে প্রেরণা যুগিয়েছেন। তিনি কখনোই বিচলিত হননি। একজন রাজনৈতিক নেতার সহধর্মিণী হিসাবে সারাদিন মানুষকে আহার যুগিয়েছেন। হাসিমুখে অকাতরে দান করেছেন; কিন্তু কখনোই নিজের কষ্ট কাউকে বুঝতে দেননি। সদালাপী, নির্মোহ, নিরহংকারী বেগম মুজিব ছিলেন সকলের শ্রদ্ধার পাত্রী।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে শত্র্বহীন, সদালাপী, বহুগুণে গুণান্বিত এই গৃহবাসী নারীও ঘাতকের তপ্ত বুলেট থেকে রেহাই পাননি। জাতির জন্য সত্যিই এ এক বড় দুর্ভাগ্য।
দীর্ঘ নয় মাসের রক্তৰয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭২’র ১০ জানুয়ারি পশ্চিম পকিস্তানের জেল থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার কাজ শুর্ব করেন।
স্বাধীন বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে তাৎৰণিক অনেক পদৰেপ তাকে নিতে হয়েছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং জাতিকে শিৰিত করতে প্রাথমিক শিৰাকে জাতীয়করণ করেছিলেন তিনি। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দ্বিতীয় বিপৱবের ডাক দেন। বঙ্গবন্ধুর এই আহ্‌বানে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ আবারো মাঠে-ঘাটে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দেশে যখন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে চালের দাম কমে আসে ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে দেশকে পিছিয়ে দেয়।
এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে ঘাতকরা চেয়েছিল ইতিহাসের চাকাকে পিছনের দিকে ঘুরিয়ে দিতে। এর পর বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের বর্বরোচিত সেই হত্যাকা-ের বিচার ঠেকাতে জাতীয় সংসদে তখন কুখ্যাত ইনডেমনিটি বিল পাস করা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা ইতিহাসের পাতা থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে পারেনি। বরং তারাই নিৰিপ্ত হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনিরা আস্ফালন করে বলেছিল, পৃথিবীতে তাদের বিচার করার কারো সাধ্য নেই। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস ৭৫’র ১৫ আগস্টের ঘাতকদেরও ফাঁসি হলো এই বাংলার মাটিতেই।

Leave a Reply