সড়কে নৈরাজ্যের অবসান হবে কি ?

07/08/2018 1:04 am0 commentsViews: 6

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিৰার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনে সবার সমর্থন থাকলেও রাস্তা ছাড়ছিলো না তারা। সম্ভবত দাবি পূরণের অনিশ্চয়তা ছিল তাদের মনে। অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তোলা হয়েছে। টানা তিন দিন সড়ক-মহাসড়ক অচল রেখে অবশেষে গতকাল থেকে গাড়ি চলাচল শুর্ব হয়েছে। অঘোষিত ধর্মঘটের দুর্ভোগ দূর হওয়ায় হাপ ছেড়ে বেঁচেছে সবাই।
শিৰার্থীদের দাবির প্রতি সমাজের সব স্তরেই সমর্থন, সহানুভূতি লৰ্য করা গেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীও দাবি মেনে নিয়ে তাদেরকে ক্লাস ও ঘরে ফিরতে বলেছেন। এর মধ্যেই অনুপ্রবেশ আর গুজবের ফলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুর্ব করে। পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পরিবহন সিন্ডিকেটের ভূমিকাও কম নয়। সময় বুঝে দেশ অচল করার পেছনে আসল উদ্দেশ্য নিয়ে কানাঘুষা উঠতেই পারে।
সড়কে চলাচলকারী অনেক গাড়ির ফিটনেস ও চালকদের বৈধ লাইসেন্স না থাকা নিয়ে এখন আর কারও মনে সন্দেহ আছে বলে মনে হয় না। হঠাৎ করেই রাজধানীর বিআরটিএ ও জেলার আরটিএ অফিসে মালিক-শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড়ের খবর থেকে বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যায়। আর সারা দেশে সড়কে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি দায়িত্বশীলদের জানা থাকার খবর নেই। তবে ওপরের নির্দেশে গাড়ি বন্ধ থাকার স্বীকৃতি মিলেছে বিভিন্ন বাস টার্মিনাল থেকেই।
যদিও আইন অনুযায়ী পূর্বঘোষণা ছাড়া ধর্মঘট নিষিদ্ধ। গাড়ির র্বট পারমিটের শর্তেই সেটা পরিস্কারভাবে লেখা থাকার কথা জানা যায়। তারপরও যখন তখন পরিবহন ধর্মঘট ডেকে সবাইকে জিম্মি করে ফায়দা লোটা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এ ৰেত্রে আইন মেনে চলতে কড়াকড়িও লৰ্য করা যায় না। নিরাপদ সড়ক দাবির পাল্টা জবাব হিসেবে অঘোষিত ধর্মঘটের পেছনে আর কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে?
আট বছর থেকে ঝুলে থাকা সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া এখন মন্ত্রীসভার বৈঠকে চূড়ান্ত হওয়াও পরিবহন জগতে কারো কারো মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে। অতীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শাস্তির বিরোধিতায় তারাই মাঠ গরম করে আইনের পথে কীভাবে বাগড়া দিয়েছে সেটা নিশ্চয়ই মনে আছে সবার। প্রভাবশালী এই মহলের ছত্রছায়াতেই সড়ক পরিবহনে আইন উপেৰার চর্চাই যে দেশকে এক অনাকাঙিৰত দুর্যোগে ঠেলে দিয়েছে সেটা অস্বীকার করা যাবে না।
নির্বাচনের বছরে এমন অবস্থা যে কারও জন্যই মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না সেটা কি বলার অপেৰা রাখে? আমরা অন্য সবার মতই সড়কে নৈরাজ্যের অবসান চাই। আগামী সংসদ অধিবেশনেই সড়ক পরিবহন আইন পাসের মাধ্যমে এর যথাযথ বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আর যেন কাউকেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামতে না হয় তারও নিশ্চয়তা চাই।

Leave a Reply