বন্যা সতর্কতার প্রয়োজন এখনই

05/08/2018 1:04 am0 commentsViews: 23

এবার শ্রাবণের মাঝামাঝি থেকেই বর্ষার দেখা মিলেছে। ওদিকে উজানে অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি দ্র্বত বাড়তে শুর্ব করেছে। গঙ্গা, যমুনা বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। রাজশাহীতে পদ্মার পানিও বাড়ছে। এখন বিপদসীমার দুই দশমিক ৭৬ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মা।
গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মায় পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে ২৯ সেন্টিমিটার। ৪৮ ঘন্টায় এই বৃদ্ধি ৮১ সেন্টিমিটার। শুক্রবার সন্ধ্যায় পানির উচ্চতা ছিল ১৫ দশমিক ৭৪ মিটার। রাজশাহীতে পদ্মার বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে বিপদের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এর আগে সর্বশেষ ২০১৩ সালে পদ্মায় পানির উচ্চতা বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। সে বছর সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ৭০ মিটার। ২০১৬ সালে বিপদসীমার দশমিক চার মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল পদ্মা। ক্রমাগত পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায় দ্র্বত পানির উচ্চতা বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যে আগস্টের শেষ দিকে বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে চলতি মাসের দ্বিতীয় থেকে শেষ সপ্তাহে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দৰিণ-পূর্বাঞ্চলে মধ্য মেয়াদী বন্যা হতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের কথাও জানানো হয়েছে।
উলেৱখ্য, গত বছরও মৌসুমী বন্যায় দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পৱাবিত হয়েছিল। আগস্টের মধ্যভাগে দেশের ২০টিরও বেশি জেলায় বন্যা হয়েছিল। দুই দফা বন্যায় অন্তত ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৭৬ লাখ ৬৫ হাজারের মত মানুষ প্রত্যৰ ও পরোৰভাবে ৰতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বছরের ৰয়-ৰতির ধাক্কা সামলিয়ে ওঠার আগেই আবারও বিপদের কালো মেঘ দেখে শঙ্কিত বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষজন।
এর মধ্যেই পদ্মা তীরে ভাঙনের মুখে পড়েছে শিৰা প্রতিষ্ঠানসহ বসতবাড়ি ও কৃষি জমি। বাঘা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা পাড়ের অধিবাসীরা চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। বন্যায় নদী ভাঙন মোকাবিলা, ৰতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে এখনই। পূর্ব প্রস্তুতি থাকলে সব কিছু সামাল দেওয়া সহজ হয়। ভাটির দেশে বন্যা স্বাভাবিক বিষয়, তবে সতর্কতা বন্যার ৰয়ৰতি ও দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সহায়তা করে, না বললেও চলে।

Leave a Reply