উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার কম হলেও মানের উন্নতিই কাম্য

21/07/2018 1:04 am0 commentsViews: 15

উচ্চ মাধ্যমিক পরীৰার প্রকাশিত ফলাফলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লৰ্য করা যায়। আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা ঘটনায় ভালো ফলের রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। চলতি বছর পরীৰা ব্যবস’াপনায় কঠোরতা প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরীৰা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে খাতা মূল্যায়নে শিথিলতা প্রত্যাহার করায় পরীৰার মানে উন্নতি ঘটেছে। এর পাশাপাশি কয়েকটি বিষয়ে পরীৰা খারাপ হওয়ায় ফল বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
সারাদেশে গড় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৪, যা গত বছরের চেয়ে দুই দশমিক ২৭ শতাংশ কম। আর গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একইভাবে রাজশাহী শিৰা বোর্ডে পাস করেছে ৬৬ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সারাদেশে জিপিএ-৫ পাওয়া সংখ্যাও কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। গতবছরের চেয়ে এই সংখ্যা সাড়ে আট হাজারের চেয়ে বেশি। পাসের হার ও জিপিএ ৫ কমে যাওয়ার ধাক্কা লেগেছে প্রতিটি বোর্ডের ফলাফলেই। তবে এর মধ্যেও কিছু কলেজ ফল বিপর্যয়ের বাইরে থাকতে পেরেছে। দেশসেরা রাজশাহী কলেজ এর অন্যতম। এখানে পাসের হার শতভাগ। ৫৮৬ পরীৰার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৫ জন। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজও ব্যতিক্রম। পাসের হার ও জিপিএ ৫ দুটোতেই এগিয়ে আছে কলেজটি।
এ বছর ১০ শিৰা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৭ জন পরীৰার্থীর মধ্যে পাস করেছে আট লাখ ৫৮ হাজার ৮০১ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৯ হাজার ২৬২ জন। ছাত্রের পাসের হার ৬৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ আর ছাত্রীদের পাসের হার ৬৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। পাসে মেয়েরা এগিয়ে আছে। তবে জিপিএ ৫-এ ছেলেরা।
গুণগত মান ঠিক রাখতে গিয়েই উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল বিপর্যয় বলে মনে করা হচ্ছে। কার্যকর ব্যবস’া নেয়ার ফলেই এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। আর খাতাও দেখা হয়েছে ভালোভাবে। তাই আগের মত গুজব যেমন ছড়ায়নি, তেমনি পরীৰা নিয়ে প্রশ্নও ওঠেনি। এখন ফলাফলের বিপর্যয় নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুর্ব হয়েছে।
এ অবস’ায় কয়েকটি বিষয়ের ফলাফলে বিপর্যয় বেশি কেন সে প্রশ্নও উঠেছে। ইংরেজিতে প্রায় সব বোর্ডেই ফেলের সংখ্যা বেশি। এছাড়া গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, আইসিটিতেও ফেলের সংখ্যা কম নয়। এর কারণ প্রশ্নপত্র কঠিন, না পরীৰার্থীদের নিম্নমান সেটা ভেবে দেখার বিষয়। এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া না হলে শিৰার মান বৃদ্ধি কঠিন হয়ে উঠবে বলাই বাহুল্য।
আজকের বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিৰার মানে আপস করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে উচ্চশিৰার ৰেত্রে সংখ্যার চেয়ে মানের ওপর গুর্বত্ব দেওয়াই স্বাভাবিক। আর সাধারণভাবে কর্মমুখী শিৰার প্রসার ছাড়া শিৰিত বেকারের সংখ্যাবৃদ্ধির রাশ টেনে ধরা কতটা সম্ভব সে প্রশ্নও উপেৰা করা যাবে না।
অন্যদিকে মানসম্পন্ন শিৰা ছাড়া উন্নয়নের চাহিদা মেটানোও সম্ভব নয়। তাই পাসের হার কম হলেও মানের উন্নতি কাম্যই বলা যায়। এবারের ফল বিপর্যয়কে সাময়িক বলাই সঠিক হবে।

Leave a Reply