মাদকমুক্ত এলাকার প্রতিশ্র্বতি প্রার্থীদের

16/07/2018 1:04 am0 commentsViews: 6

দেশজুড়ে মাদকের বির্বদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে বেশ কিছুদিন থেকেই। সরকার ও প্রশাসনও জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন জেলার অভিযানে গোলাগুলিতে শতাধিক মৃত্যুর পাশাপাশি গ্রেফতার ও মাদকদ্রব্য জব্দও হচ্ছে প্রচুর। তারপরও মাদকের ছড়াছড়ি বন্ধ হতে যে সময়ের প্রয়োজন সেটা অস্বীকার করা যাবে না। বিশেষ করে তৃণমূলে মাদকের কারবারে তেমন নাড়া পড়েছে বলে মনে হয় না। সিটি নির্বাচনে ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রার্থীদের মুখে মাদকমুক্ত এলাকার প্রতিশ্র্বতি থেকেই সেটা অনুমান করা যায়।
সিটি নির্বাচনে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের এক ও দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রায় এক বাক্যে মাদককেই নিজ নিজ এলাকার প্রধান সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন। ১২ জন প্রার্থীর প্রত্যেকেই নিজ এলাকাকে মাদকমুক্ত করার প্রতিশ্র্বতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। কারণ এই এলাকাতেই যে মাদকের স্বর্গরাজ্য সেটা সবার জানা।
নগরীর গুড়িপাড়া এলাকাটি শুধু রাজশাহী নয়, দেশব্যাপি একটি বড় মাদক জোন হিসেবে পরিচিত। চোরাচালানের আখড়াও এখানে। ঘরে ঘরে মাদক আর চোরা পণ্যের লেনদেন বহুআগ থেকেই জানা কথা। ফলে নির্বাচন এলেই এখানে প্রার্থীদের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের প্রতিযোগিতা দেখা দেয়।
এলাকার প্রভাবশালীরাই যে মাদক ও চোরাকারবারে জড়িত সেটা না বললেও চলে। নির্বাচনেও তাদের দেখা পাওয়া যায় স্বাভাবিক কারণেই। অতীতে তাদের কেউ কেউ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেননি সে অভিযোগও আছে। এবারের সিটি নির্বাচনে তাই স্বাভাবিকভাবে মাদকই হয়ে উঠেছে গুর্বত্বপূর্ণ ইস্যু। তাই প্রার্থীদের সবার মুখেই মাদক নির্মূলের প্রতিশ্র্বতি শোনা যাচ্ছে।
মাদক নির্মূলের প্রতিশ্র্বতি দেওয়া আর তার বাস্তবায়ন এক কথা নয়। মাদকের বিস্তার এমন পর্যায়ে ছড়িয়েছে যে, এটা আর আইন-শৃঙ্খলা সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নগর থেকে গ্রামের পাড়া- মহলৱাতে মাদকের ওপর যেমন নির্ভরশীলতা বেড়েছে তেমনি অনেকের ভাগ্য ফিরিয়েছে মাদক। ডালপালা বিস্তার করে মাদক এখন অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে, সন্দেহ নেই। তাই শুধু অভিযান নয়, মাদক নির্মূলে আরও অনেক কিছুই করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, জোর দিয়ে বলা যায়।
মাদকের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে পারলে এবং অন্যদের পুর্নবাসনের পরিকল্পিত ব্যবস্থা করলে সুফল আশা করা যায়। এ জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের বিস্তার, খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করাও জর্বরি। এছাড়া অন্ধকারের আকর্ষণ প্রতিরোধ করা কঠিনই থেকে যাবে বলা যায়।
এমন অবস্থায় তৃণমূল পর্যায়ে মাদকের বির্বদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেই প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্র্বতি পূরণে এগিয়ে আসতে হবে। একমাত্র এমন সাহসী ব্যক্তিরাই মাদকমুক্ত এলাকা করতে ভুমিকা রাখতে পারেন। তেমন প্রার্থীদের বেছে নিতে পারলে নিজ এলাকা মাদকমুক্ত করা অসম্ভব নয়। এমন চিন্তা ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে, এ কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Leave a Reply