নগরীর জলাবদ্ধতা নিয়ে ৰোভ ভোটারদের

14/07/2018 1:04 am0 commentsViews: 10

সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় মেতে উঠেছে রাজশাহী। চোখ-কান খোলা থাকলেই সেটা টের পাওয়া যায়। রোদ-বৃষ্টি মাথায় করে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। কিন্তু আধাঘন্টারও কম বৃষ্টিতে যখন নগরীর কেন্দ্রস্থলসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তা তলিয়ে যায় তখন সব প্রচারণা থমকে দাঁড়ায়। জনজীবন অচল হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরের অবস্থাটা ছিল এমনই।
কিছু সময়ের ধুম বৃষ্টিতেই সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট থেকে গণকপাড়া রাস্তাটি কালো পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। অথচ স্থানটি রাজশাহী নগরীর নাভি বলা যায়। এখানেই ড্রেনের উপচে ওঠা কালো নোংরা পানিতে থই থই অবস্থা। সেই পানিতে পা না ডুবিয়ে উপায় ছিল না পথচারীদের। নগরীর কেন্দ্রস্থলের এমন অবস্থা এতদিনকার উন্নয়নকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় না করে পারে না। সদ্য সাবেক মেয়রের সফলতার কথাও প্রশ্নবিদ্ধ করে এই জলাবদ্ধতা।
বৃষ্টি হলেই ড্রেনের পানি রাস্তায় জমে ওঠা প্রমাণ করে ড্রেনগুলি কতটা অবহেলার শিকার। ঠিকমতো পরিস্কার করা হলে এমন অবস্থা দেখা যেত না। বর্ষার আগে ড্রেন সংস্কার করার প্রয়োজনটাও আমলে নেননি সিটি কর্পোরেশনের পদে থাকা জনপ্রতিনিধিরা। জনদুর্ভোগ সমাধানের চেয়ে অন্যকিছু নিয়েই যে তারা ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন সেটা না বললেও চলে। এখন তারাই জনসেবার সুযোগ চাইছেন। ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। দিচ্ছেন উন্নয়নের প্রতিশ্র্বতি। এমনটা ভোটারদের মনে ৰোভ না জাগিয়ে পারে কি?
জলাবদ্ধতার শিকার ভোটারদের মুখে ৰোভ ঝড়ে পড়তেও দেখা যাচ্ছে। দায়িত্ব পেয়েও যে সব জনপ্রতিনিধি নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি করে জলাবদ্ধতার মতো নাগরিক ভোগান্তি দূর করতে ব্যর্থ হয়েছেন, এবার তাদের ভোট দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন তারা। এমন অবস্থার মুখে অনেক প্রার্থীকেই নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা দূর করার প্রতিশ্র্বতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করতেও দেখা গেছে। এ রকম দৃশ্য যেন অতীতের মতো গতানুগতিক হয়ে না ওঠে সেটাই সবার আশা।
আমরাও আশা করি, নগরীর পুরানো সমস্যা হিসেবে জলাবদ্ধতা দূর করা অগ্রাধিকার লাভ করবে প্রার্থীদের মনে, প্রচার ও প্রচারণায়। নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবাই অন্য সব কিছুর ওপরে স্থান দেবেন এমন প্রার্থীদেরই নির্বাচিত করতে ভুল করলে আগের মতই জলাবদ্ধতাসহ দৈনন্দিন সমস্যা নিয়েই দিন কাটাতে হবে রাজশাহীবাসীকে, এটা ভুলে গেলে চলবে না।

Leave a Reply