মুক্তিযোদ্ধা কোটা হাইকোর্টের রায়েই রক্ষিত, রায় লঙ্ঘন করতে পারিনা : প্রধানমন্ত্রী

13/07/2018 1:07 am0 commentsViews: 57

এফএনএস: সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা হাইকোর্টের রায়েই রক্ষিত রয়েছে। হাইকোর্টের রায় তো আমি লঙ্ঘন করতে পারি না। এটা করলে তো আদালত অবমাননায় পড়ে যাবো। এটা কেউ করতে পারবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন। কোটা আন্দোলনকারীরা সন্তানতুল্য- বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের এমন উক্তির জবাবে সংসদ নেতা এ জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোটা নিয়ে আন্দোলন। এই আন্দোলনে তারা কি চায়? বারবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে, কিন’ সঠিকভাবে তা বলতে পারে না। আমাদের মুক্তিযোদ্ধা বিষয় মন্ত্রী গতকালই বলেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা হাইকোর্টের রায়ে রয়ে গেছে। হাইকোর্টের রায় আছে যে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা ওইভাবে সংরক্ষণ থাকবে। আমরা হাইকোর্টের রায় কীভাবে লঙ্ঘন করবো। কীভাবে হাইকোর্টের রায় বাদ করবো। সেটা তো আমরা করতে পারছি না। আমি যেটা করে দিয়েছি, কোটা যেটাই থাকুক কোটা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে যে জায়গায় খালি থাকবে সেখানে মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে। গত কয়েক বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চালু আছে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান রওশন এরশাদ। রওশন বলেন, কোটা নিয়ে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে অনেক বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। কোটা নিয়ে আন্দোলন করছে। তারা তো আমাদের সন্তান। তারা তো আব্দার করবেই। তারা তো চাকরি চাইবে। তাদের চাকরিতে যেমন করে হোক প্রোভাইড করতে হবে। চাকরি দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সচেতন আছেন চেষ্টা করছেন। মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো তিনি যেন সহানুভুতির দৃষ্টি নিয়ে এই বিষয়টি বিবেচনা করেন। চলতি অধিবেশনের বাজেট বক্তৃতাতেও প্রধামন্ত্রীর প্রতি একই আহ্বান জানিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে মোট ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য রয়েছে ৩০ শতাংশ পদ। কোটার মোট পরিমাণ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। তাদের আন্দোলনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল সংসদে বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতিই আর রাখা হবে না। এরপর প্রধানমন্ত্রীর ‘ঘোষণা’ অনুযায়ী কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামার পর তাদের উপর হামলায় হয়, কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। এদিকে গত ২ জুলাই সরকার একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে কোটা ব্যবস’া পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে বলে। ওই কমিটি গত ৮ মে তাদের প্রথম বৈঠকে কর্মপন’া নির্ধারণের পাশাপাশি কোটার বিষয়ে দেশি-বিদেশি তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়। সংসদে পাস হওয়া বাজেট প্রসঙ্গে রওশন বলেন, বাজেটে প্রণোদনা নেই। ব্যাংক লুটপাটকারীদের কর কমানো হয়েছে। ব্যাংক খাতে লুটপাট চলছে। মানুষের করের টাকায় দিতে হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। ব্যাংক খাতের নৈরাজ্য বন্ধ করতে হলে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। ১৬ লাখ মানুষ ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দিয়েছে। সংসদে বক্তব্য দিতে উঠলে রওশন সবসময় খাদ্যে ভেজালের প্রসঙ্গ তোলেন। সেই প্রসঙ্গ গতকাল বৃহস্পতিবারও তোলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুযোগ করে তিনি বলেন, যতবারই বলি প্রধানমন্ত্রী হেসে উড়িয়ে দেন। হেসে উড়িয়ে দেওয়ার কথা না। ডিজিটাল বাংলাদেশ কীভাবে গড়বেন? আবহাওয়া পর্যন্ত দূষিত। নদী ভালো রাখেনি। আবহাওয়ায় সীসা। এগুলো দেখতে হবে। রাজধানীতে যানজট নিয়ে সরকারের মন্ত্রীরা ‘সাহস’ করে কথা বলতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন বিরোধী নেতা। প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি চলাচল করলে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়। রাস্তায় যানজট ছাড়তে ছাড়তে রাত হয়ে যায়। অন্য রাস্তায় যাওয়ই যায় না। বৃষ্টিতে সব রাস্তা ভাঙা। কেউ বলে না সাহস করে। এখানে যারা আছেন সবাই জানেন। রোডস হাইওয়ে মন্ত্রী আছেন। কিন’ কারও সাহস নেই বলার। সবাই যানজটে নাকাল থাকে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, নদী থেকে বালু তুলছে। আপনি জনগণের নেতা আপনি বের হয়ে দেখতে না পারলে কিভাবে হবে। বের হয়ে দেখেন। আপনাকে রোধ করতে হবে এগুলো। আপনাকে দায়িত্ব দিয়েছি আমরা। কত ঝুঁকি নিয়ে নির্বাচন করেছি। আপনি জাতির পিতার কন্যা। আমার কাছে ক্ষমতা থাকলে আমি দেখতাম। অর্থবছর পরিবর্তনের দাবি করে রওশন বলেন, অর্থবছর পবির্তনের কথা বলতে চাই। ব্রিটেনে অর্থবছর শুর্ব হয় এপ্রিল মাসে। যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী জানুয়ারি-এপ্রিল মাসে হতে পারে। যখন অর্থ ছাড় শুর্ব হয় বৃষ্টি আসে। কাজ ঠিকমত করতে পারি না। অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়ে সবাই বিবেচনা করবেন।

Leave a Reply