দায় অস্বীকারের সুযোগ নেই

13/07/2018 1:04 am0 commentsViews: 6

নগরজুড়ে এখন ভোটের হাওয়া। সেখানে উন্নয়নের কথাই প্রবল। কিন’ উন্নয়নের কাজে গাফিলতির খবরও আছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ ও প্রত্নতত্ত্ব অবকাঠামোর উন্নতি সাধন ও সংরৰণের মাধ্যমে রাজশাহী মহানগরীর টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের কথা অনেকেরই জানা। এই প্রকল্পের অধীনে পদ্মা পারিজাত লেক ও সপুরা সিল্ক ফ্যাক্টরির পাশের প্রাচীন জলাশয় ও মঠ সংস্কার করে উন্নয়নের কাজ শুর্ব হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। ভারত সরকারের অনুদানের এই কাজ পরিদর্শনে এসেছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারও। পরবর্তীতে রাসিক মেয়রও একাধিকবার স্বশরীরে গিয়েছিলেন সেখানে। এখন সেই কাজেই গাফিলতি ধরা পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ভরাট বালুর চাপে নবনির্মিত সীমানা প্রাচীর হেলে পড়ার খবর ছাপা হয়েছে গতকালের সোনালী সংবাদসহ স’ানীয় পত্রিকায়।
সপুরা সিল্ক ফ্যাক্টরির পাশের মঠ ও জলাশয়টির সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নিয়োজিত একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। গত মঙ্গলবার রাতের সামান্য বৃষ্টিতেই কিছুদিন আগে নির্মিত সীমানা প্রাচীরটির বেশ কিছু অংশ হেলে পড়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ৰোভ সৃষ্টি করেছে। নির্মাণজনিত ক্রটি ও নিম্নমানের কাজের কারণেই যে এমনটি হয়েছে সেটাও বলাবলি করছে মানুষ। রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী অবশ্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ওপর দোষ চাপিয়েছেন। তাদের ভুলের কারণেই প্রাচীরটি হেলে পড়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দায় অস্বীকার করে রাসিকের দেয়া ডিজাইনের ক্রটির কথা বলেছে। ডিজাইন অনুযায়ী কাজ করার দাবি তাদের। প্রাচীন পুকুরের ধার ঘেঁষে যতটুকু গভীর করে ভিত দেয়ার কথা ছিল তা না করাতেই ভরাট বালুর চাপে হেলে পড়েছে প্রাচীরটি এমনটাই বলছেন তারা। ডিজাইনের ত্র্বটির দায় তাদের নয় বলে জানিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
সে যাই হোক, বিদেশী সহায়তায় নগরীর উন্নয়ন কাজের এমন দশা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব যাদের তারা কেউই দায় এড়াতে পারেন না। এর ফলে শুধু তাদের যোগ্যতা, দৰতাই প্রশ্নবিদ্ধ হয় না, এই নগরীর সুনামও ৰুণ্ন হয়েছে। এর দায় অবশ্যই বাস্তবায়নকারী সংস’া হিসেবে রাসিক কর্তৃপৰ এড়াতে পারে না। বিশেষ করে যে মেয়র সরেজমিনে প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিদর্শন করেছিলেন তার জন্যও এমন দশা সুখকর বলা যায় না।
সময় ৰেপণ না করে দ্র্বত ত্র্বটি সংশোধন করে জলাশয়ের উন্নয়ন কাজ যথাসময়ে শেষ করাই এখন জর্বরি। সেই সাথে দায় অস্বীকারের সুযোগ না দিয়ে দায়ি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস’া নেয়া দরকার ভবিষ্যতে এ ধরনের গাফিলতি এড়ানোর স্বার্থেই।

Leave a Reply