নির্বাচনি ইশতেহারেও এগিয়ে লিটন

12/07/2018 1:04 am0 commentsViews: 16

রাসিক নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা শুর্ব হয়েছিল। এখন প্রতীক বরাদ্দের পর শুর্ব হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। শুর্বতেই ইশতেহার ঘোষণা করে প্রার্থীর প্রতিশ্র্বতি তুলে ধরাই স্বাভাবিক। সব নির্বাচনেই এমনটি দেখা যায়। রাসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী পাঁচজন হলেও একমাত্র আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটনই তার নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি এক আধুনিক ও সমৃদ্ধ নগরীর স্বপ্ন তুলে ধরেছেন রাজশাহীবাসীর সামনে।
গত মঙ্গলবার দলীয় কার্যালয়ে লিটন ১৫ দফায় ৮২টি প্রতিশ্র্বতির ইশতেহারে নগরীর উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি রাজশাহীকে মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তোলার লৰ্যে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ শিৰা, স্বাস্থ্য, আবাসন, অবকাঠামো, ক্রীড়া-সংস্কৃতি, নারী-প্রবীণ-প্রতিবন্ধী উন্নয়নসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্র্বতি দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও ঐতিহ্য সংরৰণ এবং স্বনির্ভর সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য অনেক বিষয়ই রয়েছে ইশতেহারে।
১৫ দফা ইশতেহারের শুর্বতেই গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে গার্মেন্টস ও চামড়া শিল্প, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা ও বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক দ্র্বত বাস্তবায়ন করে লৰাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্র্বতি রয়েছে। এছাড়া রেশম কারখানা, টেঙটাইল মিল, জুট মিল, পূর্ণাঙ্গভাবে চালু ও সংস্কার করার কথা রয়েছে। শিৰানগরী হিসেবে রাজশাহীর উন্নয়নে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্র্বত বাস্তবায়নসহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও একাধিক স্কুল, কলেজ স্থাপন করে শিৰা সার্বিক মান উন্নয়নের প্রতিশ্র্বতিও রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার বেডের হাসপাতাল চালু, হোমিও কলেজ হাসপাতালের সম্প্রসারণসহ ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও মাতৃসদন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্র্বতি রয়েছে। পানি শোধণাগার প্রকল্প, ড্রেন, রাস্তা, বিদ্যুৎসহ নাগরিক সুবিধার মান বাড়ানো হবে। আবাসিক সমস্যা সমাধানে সস্তা ফ্ল্যাট, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা, যাতায়াতের সুবিধায় নগরীর চারধারে রিং রোড ও লেক নির্মাণ করার কথাও রয়েছে লিটনের ইশতেহারে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রাজশাহী-ঢাকা বিরতিহীন ট্রেন, রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চালু, রাজশাহী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, পদ্মানদী ড্রেজিং, মহাসড়কগুলো চারলেনে উন্নীত করার কথাও রয়েছে ১৫ দফায়। এছাড়া পরিবেশ সংরৰণ, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও ধর্মীয় ৰেত্রের ব্যাপক উন্নয়নের কথাও রয়েছে। নারী ও প্রবীণদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টিও বাদ যায়নি। মুক্তিযুদ্ধ ও ঐতিহ্য রৰা ও সংরৰণের ব্যবস্থা করা হবে। শহররৰা বাঁধ সংস্কার এবং মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাঙ বাতিলসহ নগরভবনকে নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্র্বতিও রয়েছে ইশতেহারে।
নগরীর উন্নয়ন ও নগরবাসীর সেবা সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্র্বতি সম্বলিত নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে প্রচারণার মতই এৰেত্রেও এগিয়ে রইলেন লিটন। বিএনপি বা অন্য কোন দল ও প্রার্থীর ইশতেহারের খোঁজ পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত। তবে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তার ইশতেহার নিয়ে গবেষণা চলছে, শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন। অবশ্য তার অপেৰায় নির্বাচনের কার্যক্রমে কেউ বসে থাকবে বলে মনে হয় না।

Leave a Reply